Monday, July 6, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অবসর নেইমারের! চোখের জলে বিদায় দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার

RK NEWZ ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে ট্র্যাজিক নায়ক। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজ়িল। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছে নেইমারের স্বপ্ন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন। শেষ চেষ্টা করেছিলেন। পারলেন না। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। খেলা শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নেমার। মাঠেই কেঁদে ফেলেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থেরা। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবসর ঘোষণা করে নেইমার বলেন, “আমি বার বার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ বার থামার সময় এসেছে। এখানেই শুরু করেছিলাম। এখানেই শেষ করলাম।” চোটে থাকা সত্ত্বেও চলতি বিশ্বকাপের দলে নেইমারকে রেখেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন নেমার। কিন্তু প্রথম চার ম্যাচে মাত্র একটিতেই পরিবর্ত হয়ে নামেন। নরওয়ে ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবেই নেইমারকে নামান আনচেলোত্তি। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করলেও দলকে জেতাতে পারেননি নেইমার। তাই খেলা শেষ নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ২০১০ সালে ব্রাজ়িলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। পরের ১৬ বছরে দেশের জার্সিতে ১২৯টি ম্যাচ খেলেছেন নেমার। করেছেন ৮০ গোল, যা ব্রাজ়িলের ইতিহাসে সর্বাধিক। ব্রাজ়িলকে ২০১২ সালের অলিম্পিক্স রুপো, ২০১৬ সালের অলিম্পিক্সে সোনা ও ২০১৩ সালে কনেফেডারেশন্স কাপে চ্যাম্পিয়ন করেছেন নেইমার। ব্রাজ়িলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। কিন্তু এক বারও জিততে পারেননি। এ বার তাঁর খেলা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত দলে ছিলেন। তার পরেও শেষটা ভাল হল না নেইমারের। চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হল।

১৬ বছর আগে আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। রবিবার রাতে সেই মাঠেই শেষ হল তাঁর ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টারে নরওয়ের কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের। চোট নিয়েই বিশ্বকাপে আসা নেইমার গ্রুপ পর্বের প্রথম দু’টি ম্যাচ খেলতে পারেননি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসাবে মাঠে নামেন। জাপানের বিপক্ষে খেলেননি। নরওয়ের বিপক্ষেও নেইমারকে বদলি হিসাবেই মাঠে নামান কোচ। খেলেন মাত্র ৩৭ মিনিট। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। ২০১০ সালে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেকের পর জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে তিনি কেরিয়ার শেষ করলেন। নেইমার খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে তিনি জিতেছেন ২০১২ অলিম্পিকে রুপো, ২০১৬ অলিম্পিকে সোনার পদক এবং ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপের শিরোপা। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হল না। ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে ট্র্যাজিক নায়ক হিসাবে থেকে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles