RK NEWZ উত্তরবঙ্গ সফর করে ফিরলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী। শিলিগুড়িতে ক্রীড়াক্ষেত্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। সব জায়গায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রলীন খাঁ। বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে সোজা কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। গোটা স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন৷ দলীয় কর্মী-সহ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে গ্যালারিতে বসে ফুটবল উপভোগ করেন।

তবে প্রায় ভগ্নদশায় পরিণত হওয়া শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম স্টেডিয়াম কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের হাল ফেরাতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের কথায়, “প্রথমেই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করা হবে। এতবড় একটা স্টেডিয়ামে ন্যূনতম ড্রেসিং রুম থেকে খেলোয়াড়দের জন্য বাথরুম পর্যন্ত নেই৷ শুনেছি এই স্টেডিয়ামের দায়িত্বে শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন রয়েছে।

কিন্তু কী কাজ করেছে তা চোখে পড়ছে না৷ গোটা স্টেডিয়াম চত্বর জুড়ে আগাছা। কী করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে? তার জন্য সবার আগে এই স্টেডিয়ামের পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। আর সেই কাজটাই রাজ্য সরকার প্রথমে করবে৷” বিগত সরকার ভারতের গর্ব রিচার ঘোষের নামে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করে। সেই প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল জানান, শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গ বা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের গর্ব রিচা ঘোষ, ঋদ্ধিমান সাহা৷

হয়তো সঠিক ব্যাবস্থাপনার অভাবে রিচা বা ঋদ্ধির মত আরও বহু প্রতিভা শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গ থেকে হারিয়ে গিয়েছে৷ অর্থের অভাবে তাঁরা হয়তো সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারছে না। কিন্তু এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে৷ রিচা বা ঋদ্ধির সঙ্গে আলোচন করে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিগত সরকারকে একহাত নিয়ে ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন,”অরূপ বিশ্বাস কি একদিনের জন্যও কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে৷ নামে তিনি ছিলেন ত্রীড়া মন্ত্রী কিন্তু তিনি টালিগঞ্জে বিনোদন সামলাতেন।

আমরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে একের পর এক ফাইল, তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু কোন কিছুরই হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে শুধুমাত্র নামেই খেলাধুলা ছিল৷ আসলে রক্তের হোলিখেলা চলেছে৷ যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ তাঁরাই যা খেল করার খেলা দেখানোর দেখিয়েছে৷”শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর সোজা তিনি দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন৷ সেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রে কী কী খামতি রয়েছে তা পরিদর্শন করবেন মন্ত্রী৷

এছাড়াও মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার সব জেলাতেই পরিকাঠামো গত কী কী উন্নয়ন সম্ভব তা সরজমিনে পরিদর্শন করন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামকে আধুনিক পরিকাঠামোয় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে এখানে যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার কাজ শুরু করবে। ক্রীড়ামন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াপ্রেমী মহলে নতুন করে আশার আলো জেগেছে।

দার্জিলিংয়ে তিনি ঐতিহাসিক হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিনিধি সেখানে যান এবং পর্বতারোহীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের আশ্বাসে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াপ্রেমী ও খেলোয়াড়রা। এখন এই ঘোষণার বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, সেদিকেই নজর সকলের।




