Saturday, June 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপে জারি রইল ভোজিনহার ভোজবাজি!‌ শীর্ষে এমবাপের ফ্রান্স!‌ উরুগুয়েকে হারিয়ে স্পেন নকআউটে, ভোজিনহার কেপ ভার্দের ইতিহাস

RK NEWZ সৌদির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল কেপ ভার্দে। শুরুর ধাক্কা সামলে বিশ্বকাপে দাপট স্পেনের। সৌদি আরবকে চূর্ণ করার পর এবার উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারালেন লামিনে ইয়ামালরা। একটি মাত্র গোল অ্যালেক্স বায়েনার। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই রাউন্ড অফ ৩২-এ গেল স্পেন। অন্যদিকে বিশ্বকাপে জারি রইল ভোজিনহার ভোজবাজি! সৌদির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল কেপ ভার্দে। যার ফলে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই নকআউটে পৌঁছে গেল। ৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩। গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে। উরুগুয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েও নকআউটে যেতে পারবে না। দ্বিতীয় ম্যাচের পর গ্রুপ ‘এইচ’-এ সব দলের দরজা খোলা ছিল। নিঃসন্দেহে ইউরোজয়ীরা দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে নজর ছিল কেপ ভার্দের ভবিষ্যতের দিকে। স্পেন-উরুগুয়েকে আটকে দিয়েছিল ভোজিনহার হাত। সৌদির বিরুদ্ধে তারা কী করে সেটাই দেখার ছিল। স্পেনের দলের গভীরতা নিয়ে সংশয়ের জায়গা নেই। এদিন মেক্সিকোর এস্তাদিও গুয়াদালজারা স্টেডিয়ামে শুরু থেকে ছিলেন না দানি ওলমো ও পেড্রো পোরো। লামিনে ইয়ামালকে শুরু থেকেই খেলান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে বার্সেলোনা তারকা সেভাবে ছন্দে ছিলেন না। চেনা রান, কাট করে দু’জন বিপক্ষ প্লেয়ারকে মাটি ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। মাঝমাঠে প্রচুর মিস পাসও করে ‘লা রোখা’রা। ৪২ মিনিটে গোলটা এল পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনার মতো। ডানদিক থেকে নির্বিষ একটি বল উরুগুয়ের গোলে মারেন স্প্যানিশ উইঙ্গার অ্যালেক্স বায়েনা। কিন্তু সেই বল ধরতে ভুল করেন গোলকিপার ফার্নান্দো মুসলেরা। অভিজ্ঞ গোলকিপার নিজের সেরা সময় বহু বছর আগেই ফেলে এসেছেন। উরুগুয়ে কোচ মার্সেল বিয়েলসা তাঁর উপর ভরসা রেখেই ডুবলেন। মুসলেরার হাত ফসকে বল গড়িয়ে গড়িয়ে জালে জড়িয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলকিপার বদলায় উরুগুয়ে। কিন্তু বিয়েলসা আরও ভুল করলেন। পরের রাউন্ডে যেতে গেলে গোল করতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে তারকা মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে তুলে নামালেন এক ডিফেন্ডারকে। স্পেনের বদলি ফেরান তোরেস একেবারে সহজ গোল না মিস করলে আগেই উরুগুয়ের জন্য বিদায়ের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যেত। তবু শেষ ১০ মিনিট কিছুটা মরিয়া চেষ্টা করে দু’বারের বিশ্বজয়ীরা। কয়েকটি ভালো সেভ করেন স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমন। কিন্তু উরুগুয়ের আক্রমণ মরিয়া হলেও সংঘবদ্ধ ও ধারাল ছিল না। শেষের দিকে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের আগুস্টিন কানাবিও। স্পেনের প্লেয়ারদের সঙ্গে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তিও চলে। তাতে তো আর গোল আসবে না। শেষ ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল উরুগুয়ে। সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পরের রাউন্ডে চলে গেল কেপ ভার্দে। ৩টি সেভ করেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে পুরো হিউস্টন স্টেডিয়াম তাঁদের স্ট্যান্ডিং ওভেশন জানায়। ২০১০-র পর এই প্রথম কোনও অংশগ্রহণ করেই পরের রাউন্ডে গেল কোনও দেশ।

দেম্বেলের হ্যাটট্রিক, নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে এমবাপের ফ্রান্স, ইরাককে উড়িয়ে নকআউটের আশায় থাকল সেনেগালও। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করলেন উসমান দেম্বেলে। কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল নরওয়ের রক্ষণ। ১০ জনের ইরাককে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল সেনেগাল। উসমান দেম্বেলে- কিলিয়ান এমবাপে জুটির দাপটে দাঁড়াতেই পারল না আর্লিং হালান্ডহীন নরওয়ে। ম্যাচের ফল ফ্রান্সের পক্ষে ৪-১। চারটি গোলই হল ৩২ মিনিটের মধ্যে। তার মধ্যেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করলেন দেম্বেলে। অন্য দিকে, ১০ জনের ইরাককে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল সেনেগাল। দু’টি ম্যাচ শুরুর আগেই ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নরওয়েকে প্রথমেই কোণঠাসা করে দেওয়াই ছিল দিদিয়ের দেশঁর দলের লক্ষ্য। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে ফ্রান্স। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে দ্রুত আক্রমণে উঠছিল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। ২৫ সেকেন্ডেই এমবাপের শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে ফল আসে দ্রুতই। ৭ মিনিটেই ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে। এমবাপের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোল করেন দেম্বেলে। ২০ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলও এমবাপে-দেম্বেলে যুগলবন্দির ফল। মাঝমাঠে বল ধরে দেম্বেলেকে বল বাড়ান এমবাপে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নরওয়ের তিন জন ডিফেন্ডারের বাধা টপকে গোল করেন দেম্বেলে। নরওয়ের গোলরক্ষক চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন প্যারিস সঁ জরমঁ তারকা। এ বার বক্সের ভিতরে অঁরেলিয়েঁ চুয়ামেনির কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে নরওয়ের গোল রক্ষককে পরাস্ত করেন দেম্বেলে। আর্জেন্টিনার লিয়োনেস মেসি, কানাডার জোনাথন ডেভিডের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসাবে এ বারের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্টের দখলে। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে তৎকালীন চেকোশ্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেছিলেন তিনি। দেম্বেলের ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকারের ৩৫ মিনিটে করা হ্যাটট্রিক চলে গেল তালিকায় তৃতীয় স্থানে। নরওয়ের ফুটবলারেরা শুরুতে প্রতি আক্রম‌ণমূলক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও তিন গোল খাওয়ার পর বেশ রক্ষণাত্মক হয়ে যান। আট-ন’জন মিলে ডিফেন্সে নেমে বক্সের মধ্যে পায়ের জঙ্গল তৈরি করে ফ্রান্সের আক্রমণ আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তবে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলের ১ মিনিট পরেই নরওয়ের হয়ে ব্যবধান কমিয়ে ছিলেন থেলোগার্ড। গোলের পর সেন্টার থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠে সেনেগাল। বক্সের ঠিক ভিতরে বল পান অসগার্ড। অল্প ডান দিকে দৌড়ে দুরন্ত শটে গোল করেন তিনি। যদিও লাভ হয়নি। দেম্বেলের তৃতীয় গোলের পর নরওয়ের ফুটবলারেরা ডিফেন্স ছেড়ে ওঠার সাহস পাননি। তবে হালান্ড মাঠে থাকলে কী হল বলা মুশকিল। নকআউটের কথা ভেবে তাঁকে এ দিন বিশ্রাম দিয়েছিলেন নরওয়ে কোচ স্টাল সোলবাকেন। বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছে ফ্রান্স। তিনটি প্রায় একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোল করতে পারেননি দেম্বেলেরা। কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমস্যা হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ের রক্ষণ ভাঙতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে দেশঁর দলকে। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময় হেড দিয়ে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন ডেজ়িরে ডুয়ে। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় নরওয়ে। স্ট্রান্ড লারসেনের দুর্বল শট আটকে দেন ফরাসি গোলরক্ষক। গ্রুপ ‘আই’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পরের রাউন্ডে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সুইডেন। রানার্স হওয়ায় নরওয়েকে খেলতে হবে সম্ভবত আইভোরি কোস্টের সঙ্গে।

ইরাককে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এ তৃতীয় স্থানে শেষ করল সেনেগাল। নকআউটে তাদের যাওয়া নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর। ১৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ইরাকের রেবিন সুলাকা। গোল করার কাছাকাছি জায়গায় চলে যাওয়া সাদিয়ো মানেকে ফাউল করায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে তার আগেই ৪ মিনিটে সেনেগালকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। ৫৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল ইসমাইলা সারের। ইরাকের রক্ষণ ভাগের ভুল কাজে লাগান তিনি। ৫৯ মিনিটে তৃতীয় গোল পরিবর্ত হিসাবে নামা পাপে গেয়ের। ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গেয়ে। ৮২ মিনিটে পঞ্চম গোল ইলিমান এনদিয়ায়ের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles