RK NEWZ ফিফার এই নতুন সিদ্ধান্ত। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ভাঙতে চলেছে বহু বছরের প্রোটোকল। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে বিজয়ী অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প, নিজেদের রীতি নিজেরাই ভাঙতে চলেছে ফিফা। বিশ্বকাপের ট্রফি তোলে বিজয়ী অধিনায়ক। সেই মুহূর্তটাই ফুটবলের সবচেয়ে চেনা ছবি। কিন্তু এবার সেই ছবিতে নতুন সংযোজন আসন্ন। আর সেই সংযোজন ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। খবর, ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিজয়ী দলনেতার হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু উপস্থিত থাকবেন না, ট্রফি প্রদানের আনুষ্ঠানিকতারও অংশ হবেন তিনি। অর্থাৎ, বহু বছরের ফিফা প্রোটোকলেই লক্ষ্যণীয় বদল আসতে চলেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ট্রফি প্রদানের সময় তিনি এবং ট্রাম্প একসঙ্গেই মঞ্চে থাকবেন। আর এবার বিজয়ী অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্বও থাকছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। এখানেই বদলে যাচ্ছে চেনা নিয়ম। এতদিন বিশ্বকাপের ট্রফি প্রদানের নীতি বাঁধাধরা। প্রথমে একটি পাদানির উপর ট্রফি রাখা হত। এরপর জয়ী দলের প্রতিনিধি সেটি মঞ্চে নিয়ে আসেন। সবশেষে অধিনায়ক ট্রফি আকাশে মেলে ধরতেন৷ তারপর একে একে বাকিদের পালা। গোটা অনুষ্ঠানই ফিফার নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে আয়োজিত হয়।
যদিও এবার সেই প্রক্রিয়াতে বদলের সম্ভাবনা। ট্রাম্প সরাসরি ট্রফি তুলে দেবেন বিজয়ী অধিনায়কের হাতে। ফুটবলমহলের একাংশের মতে, বিশ্বকাপের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী মুহূর্তে এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের অভিজ্ঞতার কারণে। সেই ম্যাচের পর ট্রফি প্রদানের সময় মঞ্চেই রয়ে যান ট্রাম্প। চেলসি অধিনায়ক রিস জেমস ট্রফি তুললেও তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই দৃশ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্তর আলোচনা। চেলসির কোল পালমারের মুখের অভিব্যক্তিও ভাইরাল হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ট্রফি তোলার মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কি মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত? চলতি বিশ্বকাপে পুরনো বিতর্ক ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে বলেই অনুমান। ট্রাম্প এখনও বিশ্বকাপের সব ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সময়সূচির কারণে আমেরিকার প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেও তাঁকে দেখা যায়নি৷ তবে হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ফাইনালের আগে আরও একটি ম্যাচে তিনি হাজির থাকতে পারেন৷ ফাইনালের সমাপনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকো ও কানাডার প্রতিনিধিদেরও উপস্থিতির সম্ভাবনা। বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিতর্কও সমান তালে চলছে। টিকিটের মূল্য, স্টেডিয়ামের খাবারের দাম, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাট—সব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিনও টিমের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আবার সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি না মেলায় ফিফার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তারই মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্তে প্রোটোকল-ভাঙা এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আরেক দফা বিতর্ক।




