Thursday, June 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

গ্রেফতার গুদাম মালিক, মৃত বেড়ে ৯! বিল্ডিং প্ল্যানে ফিরহাদের সই!‌ বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা!‌ কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

RK NEWZ ‘শহরকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে তৃণমূল’। বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তারতলার ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, ২০ জন চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে স্থিতিশীল ১৫ এবং গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন ৪ জন এবং ১ জন আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ওপর। কারণ এই গোডাউন তৈরির অনুমোদন পূর্ববর্তী সরকারের আমলেই হয়েছে। বিধানসভায় এই বিষয়টিই তুলে ধরে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, ”সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা ওদেরই পাপের ফল।” এই প্রেক্ষিতেই তাঁর হুঁশিয়ারি, অর্থের বিনিময়ে, কাটমানির বিনিময়ে যত বিল্ডিং প্ল্যান তৃণমূলের সরকার অনুমোদন দিয়েছে সব অডিট না করে কোন‌ও বিল্ডিং এর কাজ এই সরকার করতে দেবে না। আর যারা দোষী তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে, জেলও খাটানো হবে।এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে। তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় গোটা দুর্ঘটনার বিবরণ দেন তিনি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তারাতলার ঘটনায় গ্রেফতার গুদাম মালিক, মৃত বেড়ে ৯! ধ্বংসস্তূপের তলায় ক্যামেরা পাঠিয়ে তল্লাশি সেনার। তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদামে ধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেও চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। এদিকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। ৩০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে ধরে ফেলেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে সেনা। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকফোকরে বিশেষ ক্যামেরা পাঠিয়ে ভিতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ল্যাপটপের মাধ্যমে সেই ছবি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। যে জায়গাগুলিতে জীবিত কারও উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকেই চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদামে ধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেও চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। এদিকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। ৩০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে ধরে ফেলেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নির্মাণে গাফিলতি বা দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যেই গুদাম মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে সুপারভাইজার ও শ্রমিক সরবরাহকারীদেরও গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, নির্মাণের নকশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কাজের মান নিয়ে একাধিক অনিয়মের সূত্র মিলতে পারে। সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই এগোচ্ছে তদন্ত। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ১৯ বছরের পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁর দেহ ইতিমধ্যেই নিজ গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারাতলার এই বিপর্যয় ঘিরে এখনও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাটেনি শ্রমিক পরিবারগুলির। তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে পাকড়াও করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ শম্ভুনাথের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। রাতেই গুদামের সুপারভাইজ়ার-সহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। তার পর শম্ভু-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতেরা হলেন ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত। গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ। তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। তারাতলা কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম গুলজার হোসেন (সুপার ভাইজার অয়ন ট্রেডার্স), কমল সামন্ত (লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক), শম্ভুনাথ শম্ভুনাথ বেহেরা (যিনি জমি লিজ নিয়েছিলেন), দিবারক ভাণ্ডারি (শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার), আবদুল হামিদ (কেএমসি-তে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য মধ্যস্থতাকারী)। ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীদল। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। তারাতলায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা। ভিতরে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে গুদামের ভেঙে পড়া কাঠামোকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতেরা হলেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগর হুসেন এবং সাহিল সর্দার। তারাতলাকাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন ও তারাতলা পুলিশ স্টেশনের দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর। তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা যায়, যে জমিতে গুদাম তৈরির কাজ চলছিল, সেটি বন্দর কর্তৃপক্ষের। ২০২৪ সালের অগস্টে তাঁরা ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামের একটি সংস্থাকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় দিয়েছিলেন। এই সংস্থা মূলত চা-পাতা গুদামজাত করা এবং প্যাকেজিংয়ের কাজ করে। বেহরা ব্রাদার্সের অন্যতম মালিকই হলেন শম্ভুনাথ । জমি লিজ় নিয়ে তিনিই নির্মাণের কাজ করাচ্ছিলেন।

জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ তারাতলার গোডাউন প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। তাতে সই রয়েছে তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদেরও সই রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হুঁশিয়ারি, “টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। এটা আপনাদের পাপের ফল। একাধিক দুর্ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষা নেননি। এখানে প্রাক্তন মেয়রের সই আছে। কাউকে ছাড়া হবে না।” শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, আহত এবং মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা পিএমও-র। সকাল থেকে উদ্ধারকাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে সেনা। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকফোকরে বিশেষ ক্যামেরা পাঠিয়ে ভিতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ল্যাপটপের মাধ্যমে সেই ছবি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। যে জায়গাগুলিতে জীবিত কারও উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকেই চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন তারতলার ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, ২০ জন চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে স্থিতিশীল ১৫ এবং গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন ৪ জন এবং আশঙ্কাজনক ১। গোটা ঘটনা নিয়ে সরাসরি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেই আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভরা বিধানসভায় নথি দেখিয়ে তাঁর দাবি, জানুয়ারি মাসে এই বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তাতে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে! পরিকাঠামোয় গলদ থাকা সত্ত্বেও তাতে অনুমতি দেওয়া হয়। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করানো হবে। তারপর গলদ পেলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জেল খাটানো হবে। দুর্নীতি নিয়ে একেবারে জিরো টলারেন্স নিচ্ছে বিজেপি সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দফতর পিএমওর তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “গতকাল কলকাতার দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকার এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে :‌ প্রধানমন্ত্রী।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles