RK NEWZ সালাহ জাদুতে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম জয় পেল মিশর। দুই দলই প্রথম ম্যাচ ড্র করেছিল। নকআউট পর্বে যেতে গেলে দুই দলের কাছেই মহাগুরত্বপূর্ণ ছিল গ্রুপ ‘জি’র এই খেলা। এমন একটা হাইভোল্টেজ ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও মিশরের কাছে ৩-১ গোলে হারতে হল নিউজিল্যান্ডকে। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেছিল মিশর। এরপর চারবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এতদিন জয়ের মুখ দেখেনি উত্তর আফ্রিকার দেশটি। অবশেষে ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মহম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশদের দল। নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল লাল জার্সিধারীরা। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুই দলই আগ্রাসী ফুটবল খেলেছিল। ইরানের বিপক্ষে ২-২ ড্র করা নিউজিল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন এলিজাহ জাস্ট। মিশরের হয়ে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেছিলেন ইমাম আশুর। এই ম্যাচেও আক্রমণাত্মক শুরু করে দুই দল। তবে ১৫ মিনিটেই ফিন সারম্যানের গোলে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে জয় আসেনি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর। তবে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ১৫ মিনিটের মাথায় নিউ জ়িল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সুরমান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় মিশরের খেলা। ৫৮ মিনিটে মোস্তাফা জ়িকো, ৬৭ মিনিটে মো সালাহ ও ৮২ মিনিটে ত্রেজেগুয়েত গোল করেন। আর ফিরতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। এই জয়ের ফলে ইরান ও বেলজিয়ামকে টপকে শীর্ষে মিশর। তবে এই গ্রুপ এখনও ওপেন রয়েছে। শেষে থাকলেও নিউ জ়িল্যান্ড বিদায় নেয়নি। শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলে তারাও থাকবে নকআউটের লড়াইয়ে। আবার বেলজিয়াম ও ইরানেরও সুযোগ রয়েছে গ্রুপ শীর্ষে যাওয়ার। ফলে সকলের উপরে থাকলেও সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না সালাহেরা।
স্পেনের বিরুদ্ধে রক্ষণের প্রাচীর তুলে পয়েন্ট পেয়েছিল কাবো ভার্দে। সেই রক্ষণ এক বারের জন্যও ভাঙতে পারেনি ২০১০ সালের বিশ্বজয়ী দল। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে অবশ্য জেতার চেষ্টা করেছে কাবো ভার্দে। দু’গোল খেলেও দু’গোল দিয়েছে। শুরুটা করেছিল কাবো ভার্দেই। ২১ মিনিটে কেভিন পিনার গোলে এগিয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে উরুগুয়ে। ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো ও আগুস্তিন কানোবায়োর গোলে এগিয়ে যায় লাতিন আমেরিকার দেশ। দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে হেলিয়ো ভারেলার গোলে সমতা ফেরায় কাবো ভার্দে। তার পর আবার দেখা যায় তাদের সেই রক্ষণ। বাকি সময়ে সেই রক্ষণ ভাঙতে পারেনি উরুগুয়ে। এই ম্যাচের পর গ্রুপ এইচ-এ উরুগুয়ে ও কাবো ভার্দে দু’দলেরই পয়েন্ট ২। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের সামনে স্পেন। ফলে লাতিন আমেরিকার দলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। অন্য দিকে কাবো ভার্দে নামবে সৌদির বিরুদ্ধে। এ বারের বিশ্বকাপে সৌদি যা খেলছে তাতে তাদের হারানো অসম্ভব নয়। শেষ ম্যাচ জিতলে কাবো ভার্দের পয়েন্ট হবে ৫। সে ক্ষেত্রে তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত। সে কথাই শোনা গিয়েছে দলের কোচ বুবিস্তার মুখে। তিনি বলেন, “মাঠে নামলে আমরা দেখি না সামনে কতটা শক্তিশালী দল খেলছে। বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হোক না কেন, সবাই চাপে থাকে। আমরা সেটাই কাজে লাগাই। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলি।” আর্থিক ভাবে খুব একটা ভাল পরিস্থিতি নেই কাবো ভার্দের। অনেক সমস্যায় জর্জরিত তারা। ফুটবলেই তার জবাব দিতে চান বুবিস্তারা। তিনি বলেন, “আমাদের জীবন খুব কঠিন। আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তাই ফুটবলটাই আমাদের স্বপ্ন। আমরা তার পিছনেই ছুটছি।”




