মহৎ উদ্যোগেও সামিল হন নাইটরা। সমাজের অনগ্রসর মহিলাদের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর শাহরুখ খান-জুহি চাওলার দল। বাছাই করা মহিলাদের আর্থিকভাবে সাহায্যের পাশাপাশি দেওয়া হবে কারিগরি প্রশিক্ষণ। ঘরের মাঠে গুজরাট টাইটান্সের কাছে হার। সোম রাতে ঘরের মাঠে গুজরাট টাইটান্সের কাছে ভরাডুবি। শুভমন গিলদের কাছে ইডেন গার্জেন্সে ৩৯ রানে ম্যাচ হেরে কেকেআরের প্লে অফ সম্ভাবনা ভেন্টিলেশনে। বাকি ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫টি জিততেই হবে। মাথা থেকেই সরিয়ে ফেললেন নাইট ক্রিকেটাররা। মঙ্গল দুপুরে ভিন্ন স্বাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। সঙ্গে ছিলেন সিইও ভেঙ্কি মাইসোর, মেন্টর ডোয়েন ব্রাভো, সহকারী কোচ ওটিস গিবসন এবং পেসার আনরিচ নোখিয়ারা। দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত গলফ ক্লাবের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ক্রিকেট নিয়ে কোনও বাক্যালাপ না থাকলেও বুঝিয়ে দেন ক্রিকেটেরই কথা। সবুজ গালিচায় ছিল নাইটদের গলফের আসর। প্রতি বছরের পরিচিত ছবি। তবে এবছর নতুন সংযোজন। বাংলার পিছিয়ে পড়া মহিলাদের স্বপ্নপূরণে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে কেকেআর। প্রজেক্টের নাম ‘সাহসী রানি’। বেশ কিছু মহিলাকে বেছে নিয়ে তাঁদের আর্থিকভাবে সাহায্যের পাশাপাশি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা হবে। স্বাবলম্বী করতে দেওয়া হবে কারিগরি প্রশিক্ষণও।

পিছিয়ে পড়া মহিলাদের পাশে শাহরুখ খানের দল। আইপিএলে ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্রও খুঁজে নিল কেকেআর, রাহানে ক্রিকেট সংক্রান্ত কোনও কথা না বললেও ব্রাভো হাল না ছাড়ার বার্তা দেন। আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। শেষ ছয় ম্যাচে জয়ের জন্য ঝাঁপাতে হবে। ব্রাভো বলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। দল হিসেবে কোন জায়গায় উন্নতি করা যায় দেখতে হবে। বাকি ম্যাচগুলোতে জয়ের জন্য অলআউট ঝাঁপাতে হবে।’ কেকেআরের জন্য এই পরিস্থিতি নতুন নয়। আগেও বেশ কয়েকবার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে প্রত্যাবর্তন করে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে নাইটরা। ২০১৪ সালে প্রথম সাতের মধ্যে পাঁচটিতে হেরেও কেকেআর তারপর টানা নয় ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন। গৌতম গম্ভীরের দলের সেই পারফরমেন্সই এবারও প্রেরণা। কিন্তু সেই ম্যাজিশিয়ান এইবছর নেই, যাঁর হাত ধরে তিনবারই চ্যাম্পিয়ন নাইটরা। হারতে হারতে কেকেআরের প্লে অফের স্বপ্ন ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। কামব্যাকের জন্য মানসিকতার অভাব নাইট শিবিরে। কেকেআরের মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভোর কথায় ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন। নাইট মেন্টর ব্র্যাভো বক্তব্য, “আমরা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। এটাই বাস্তব। রাসেল শুধু একা সমস্যায় পড়েনি। আমাদের এখন মানসিকভাবে একাগ্র হতে হবে। কিন্তু আইপিএল এমন একটা টুর্নামেন্ট, যেখানে শুরুটা ভালো না হলে আত্মবিশ্বাসে ভাঁটা পড়ে। আমাদের ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছে। বোলারদের নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। আমার মতে, বোলাররা ভালো খেলছে। খুবই উন্নতি করছে। কিন্তু মিডল অর্ডারে আমরা ভালো ব্যাট করতে পারছি না। সেটা ঠিক করতে হবে।”

মঙ্গল দুপুরে কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেরা হাজির টালিগঞ্জের রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাবে। সবুজ গালিচার মতো কোর্সে নাইটদের বার্ষিক গলফের আসরে। নাইট গলফ থেকে মানবিক উদ্যোগের কথাও ঘোষণায় বাংলার পিছিয়ে পড়া মহিলাদের স্বপ্নপূরণে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে কেকেআর। আইপিএলের মাঝে শহরের দলের অধিনায়ক, মেন্টররা ক্রিকেটের আলোচনা এড়িযে যেতে চাইলেও সম্ভব হল না। রাহানে মাইক এগিয়ে দিলেন মেন্টর ব্র্যাভোর দিকে। ক্যারিবিয়ান তারকা হাল না ছাড়ার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘কাল রাতে ম্যাচ খেলেছে ছেলেরা। এথনও আলাদা করে কথা হয়নি। আলোচনা করার জন্য বসে স্থির করবো। দল হিসাবে কোথায় কোথায় উন্নতি করা যায় দেখব। ক্রিকেটারদের সাহস জুগিয়ে যেতে হবে। ওদের আরও বেশি করে পরিশ্রম করতে হবে। শেষ ৬টা ম্যাচ আমাদের জেতার জন্য ঝাঁপাতে হবে।’ নাইটদের কর্ণধার বেঙ্কি মাইসোর বলেন, ‘২০১৪ মনে করুন। প্রথম সাত ম্যাচের পাঁচটিতে হেরে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে টানা ৯ ম্যাচ জিতে রেকর্ড গড়েছিলাম। আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। ২০২১ দেখুন। প্রথম সাত ম্যাচের পাঁচটিতে হেরেছিলাম। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে খেলেছিলাম। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও, সেই সাফল্যকে ভুলে যাওয়া চলে না। সেবার পারলে এবার নয় কেন?’

প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে যায় নি এখনও কলকাতা নাইডার্সের? এই পরিস্থিতি থেকেও ফেরা সম্ভব? প্লে-অফের লড়াইয় রয়েছেন এখনও বলে মনে করেন কেকেআরের সিইও বেঙ্কি মাইসোর। ২০১৪ ও ২০২১ সালের উদাহরণ সামনে টেনে আনেন বেঙ্কি। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসা। বেঙ্কির কথায়, “কেকেআর দুর্দান্ত দল। এটা ১৮তম মরসুম। রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যাবে আমরা এই প্রতিযোগিতার তৃতীয় সেরা দল। ২০১৪ সালে প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে আমরা দুটো জিতেছিলাম ও পাঁচটা হেরেছিলাম। তার পরে কী হয়েছিল? আমরা টানা ন’টা ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও টানা পাঁচটা ম্যাচ জিতেছিলাম। তার মানে টানা ১৪টা ম্যাচ জেতার ক্ষমতা আমাদের আছে। ২০২১ সালে কী হয়েছিল। প্রথম সাতটা ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটো জিতেছিলাম। তার পরেও ফাইনালে উঠেছিলাম। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে কোনও সময় খেলা ঘুরতে পারে। এখনও খেলা অনেক বাকি।”
সদ্য যোগ দেওয়া দলের সহকারী কোচ অভিষেক নায়ার কেকেআরকে নিজের হাতের তালুর মতো চেনার ফলে সুবিধা হবে বলে মনে করে রাহানে বলেন, “নায়ারকে পাওয়ায় আমাদের সুবিধা হয়েছে। ও এই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ওকে পেয়ে দলের সকলে খুব খুশি। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ও ভাল ভাবে চেনে। আশা করছি, নায়ারের পরামর্শ আমাদের কাজে লাগবে।” কেকেআরের পরের ম্যাচ আগামী শনিবার। ঘরের মাঠে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে খেলবে। গত বার কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করা অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের মুখোমুখি হওয়ার আগে দল চাপে রয়েছে। কেকেআর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাবে।




