Friday, July 3, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপে গোল করে নজির ‘বুড়ো’ রোনাল্ডোর!‌ মেসিকে টপকে বিশ্বরেকর্ড, ‘বন্ধু’র কাছে হেরে বিদায় মদ্রিচের

পর্তুগাল: ২ (রোনাল্ডো-পেনাল্টি, র‍্যামোস) ক্রোয়েশিয়া: ১ (পেরিসিচ)

RK NEWZ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। রেকর্ড লিয়োনেল মেসির দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন। টপকে গিয়েছেন লিয়োনেল মেসিকে। পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে তৈরি হল আরও কয়েকটি নজির। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে। গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের গোলদাতাদের মধ্যে সিআর সেভেনই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’ ফুটবলার। এত বয়সে আর কেউ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করতে পারেননি। মেসির নজির টপকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। গত ২৮ জুন জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। উল্লেখ্য, এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করলেন রোনাল্ডো। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন সিআর সেভেন। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ২৫টির বেশি গোল হয়ে গেল রোনাল্ডো। এমন কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই। একই সঙ্গে রোনাল্ডো বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবেও গোল করার নজির গড়েছেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের রজার মিল্লা ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন। তাঁর পরই থাকবে ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সের রোনাল্ডোর নাম। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। এই রেকর্ড মেসির দখলে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনও পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাথিউসকে ছুঁয়ে ফেলবেন সিআর সেভেন। একটি নজির গড়েছেন রোনাল্ডো। সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেললেন তিনি। ভেঙে দিয়েছেন বসনিয়া ও হারজেগোভিনার অধিনায়ক এডিন জেকোর রেকর্ড। আমেরিকার বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচ খেলেন ৪০ বছর ১০৬ দিন বয়সে। ২৩ ঘণ্টা পরই তাঁর রেকর্ড ছিনিয়ে নিলেন রোনাল্ডো। উল্লেখ্য, ৪০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেলার নজির থাকল জেকোর দখলে। পর্তুগালের বিরুদ্ধে লুকা মদ্রিচ খেললেন ৪০ বছর ২৯৬ দিন বয়সে। এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে এমন দু’জন ফুটবলার খেললেন, যাঁদের বয়স ৪০-র বেশি। ফলে নজির গড়ার ২৩ ঘণ্টা পরই জেকো চলে গেলেন তালিকায় তৃতীয় স্থানে। পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যাতে এমন তিন জন খেললেন যাঁদের অন্তত ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোনাল্ডো খেললেন ২৬তম ম্যাচ। মদ্রিচ খেললেন ২৩তম ম্যাচ। ইভান পেরিসিচ খেললেন ২১তম ম্যাচ।

দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু। একটা স্বপ্ন অপূর্ণ দু’জনেরই। সেই অধরা মাধুরীর লক্ষ্যে টিকে থাকবেন কে? ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো না লুকা মদ্রিচ-কার লাস্ট ড্যান্স শেষ হবে আজ? সেটা দেখতেই শুক্রবার ভোরে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শুরু করল পর্তুগাল। প্রথম ১০ মিনিট বলা যেতে পারে ক্রোটদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এই সময়টাতেই দু’টো অনবদ্য সুযোগ এসেছিল রাফায়েল লিয়াওদের সামনে। এদিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়ষ্কতম হিসাবে নকআউট ম্যাচ খেলার নজির গড়লেন রোনাল্ডো। তবে প্রথমার্ধে তাঁর পারফরম্যান্সেও কিছুটা বয়সের থাবা ধরা পড়ল। উড়ে আসা ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে দেরি। বিশ্বকাপে প্রথম নকআউট গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলেন সিআর সেভেন। গোল নষ্টের তালিকায় নাম তুলে ফেললেন ব্রুনো ফার্নান্ডেজও। সেই সুযোগেই ম্যাচে ফিরলেন মদ্রিচ। প্রথম ৪৫ মিনিট ধরে সেভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি ক্রোয়েশিয়াকে। তবে রক্ষণটা দুর্দান্ত জমাট করে রাখলেন জসিপ সুতালোরা। পর্তুগালের একের পর এক সুন্দর অ্যাটাক ব্যর্থ হতে লাগল। প্রথমার্ধের শেষে ম্যাচের ফলাফল ০-০। তবে ততক্ষণে নড়বড়ে দশা কাটিয়ে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়া। সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিচ্ছে পর্তুগালকে। বিরতির পর খেলায় গতি আনল দুই দলই। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলটাকে পুরোপুরি দলগত প্রচেষ্টার ফল বলা যেতে পারে। দারুণ ক্রসের পাশাপাশি ডিফেন্ডারদেরও টেনে আনলেন স্ট্যানিসিচ। সেই পাসে পা ছুঁইয়ে গোল। এগিয়ে যাওয়ার মিনিট দুয়েকের মধ্যে ক্রোটদের দ্বিতীয় গোল বাতিল হল অফসাইডে। ৬৩ মিনিটে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করলেন রবার্তো মার্টিনেজ। তাতেই এক লহমায় বদলে গেল পর্তুগাল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রোনাল্ডোর অনবদ্য গোল, তবে বাতিল হল সামান্য অফসাইডে। তখন ফের মাঠজুড়ে পর্তুগালের দাপট। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি মারতে এতটুকু ভুল হল না। বিশ্বকাপ নকআউটে প্রথমবার গোল করে দলকে সমতায় ফেরালেন সিআর সেভেন। তারপর যথার্থ টিমম্যানের মতো মাঠ ছাড়লেন দলের স্বার্থে। রোনাল্ডোর পরিবর্ত হিসাবে নামা গন্সালো র‍্যামোসের পা থেকে এল ম্যাচের নির্ণায়ক গোল। ৯৪ মিনিটের সেই গোলেই লেখা হয়ে গেল লুকা মদ্রিচের বিদায়। বিশ্বকাপে এখনও ভেসে রইলেন রোনাল্ডো, অধরা স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। ম্যাচে নাটক অবশ্য অনেকটাই বাকি ছিল। ১০ মিনিটের সংযুক্ত সময়ের কয়েক সেকেন্ড বাকি থাকতে গোল শোধ। ক্রোট ভক্তকুল তখন উচ্ছ্বাসে আত্মহারা। কিন্তু সেটাও শেষ মুহূর্তে বাতিল অফসাইডের কারণে। যদিও এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিনই ছিল দিয়োগো জোটার মৃত্যুদিন। প্রয়াত সতীর্থকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এর থেকে ভালো উপায় আর কীই বা হতে পারে পর্তুগালের জন্য?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles