Friday, July 3, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

রক্তাক্ত কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি নিকেশ!‌ মাস্টারমাইন্ড শীর্ষ লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা কসুরি? পাকিস্তানের সাফাই?‌

‘যাও মোদীকে বোলো এটা..’,
চোখের নিমেষে পহেলগামে স্বামীকে গুলি করে স্ত্রীকে বার্তা জঙ্গিদের। কর্ণাটকের শিবমোগ্গার ব্যবসায়ী মৃত। কর্নাটকের বাসিন্দা মৃতর স্ত্রী পল্লবী রাও ভূস্বর্গ ভ্রমণে যান স্বামী ও পুত্র সহ। অসহায় পল্লবির দাবি, স্বামীকে গুলি করলেও আমাকে যখন মারেনি ঘাতকেরা। কাঁদতে কাঁদতে বলি, ‘আমাকেও মেরো ফেলো,’ তখন এক জঙ্গি বলে উঠল, ‘না, তোমায় মারব না। তুমি গিয়ে মোদীকে বোলো।’’ কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু কর্ণাটকের ব্যবসায়ী মঞ্জুনাথের স্ত্রী পল্লবী বলেন, ‘‌আমরা তিনজন.. আমি আমার স্বামী আর আমার ছেলে কাশ্মীরে বেড়াতে আসি। এটা বেলা ১.৩০ মিনিট নাগাদ ঘটে। আমরা পহেলগামে ছিলাম। উনি ঘটনাস্থলে আমার চোখের সামনে মারা যান। এখনও মনে হচ্ছে এটা দুঃস্বপ্ন। ৩ থেকে ৪ জন ছিল হামলাকারীরা। আমি বলেছিলাম, আমায় মারো, আমার স্বামীকে তো মেরেই দিয়েছ। ওদের একজন বলল, তোমাকে মারব না… যাও এটা গিয়ে বলো মোদীকে।’‌ পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানা। গোয়েন্দা রিপোর্টে সইফুল্লা কসুরির নাম। উপত্যকায় জঙ্গি তাবড় লস্কর কমান্ডার হিসাবে পরিচিত। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার দায়ই স্বীকার করেছে ‘দ্য রেসিসট্যান্স ফ্রন্ট’। এই সংগঠন লস্করের ছত্রছায়ায় ভূস্বর্গ কাশ্মীরে রাজ করে। সইফুল্লা নামক জঙ্গি লস্কর কমান্ডার। গোয়েন্দা সূত্র, পহেলগাঁও হামলায় ৫ থেকে ৬ জন জঙ্গি আক্রমণ চালায়। কাশ্মীর জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চলছে জঙ্গিদের খোঁজে। পাঁচ থেকে ছয় জঙ্গির রক্ত-তাণ্ডব চালিয়েছে নিরীহ পর্যটকদের ওপর। জঙ্গিরা সীমান্ত পার থেকে এসেছে। হাফিজ সইদ ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সইফুল্লা কসুরি ভারতের বুকে এই হামলার ছক কষার মাথা। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি যোগ। পহেলগাঁওয়ের হামলা স্থলে এপ্রিলের শুরু থেকেই রেইকি করে জঙ্গিরা। পিওকে থেকে জঙ্গিরা এসেছিল। ভূস্বর্গে এখনও ৭০র মতো বিদেশি জঙ্গি রয়েছে। অনুপ্রবেশ রোধে একাধিক তৎপরতার সত্ত্বেও বহু জঙ্গি ভারতের সীমানায় ঢুকে গা ঢাকা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ড চালাতে জঙ্গিরা একে ৪৭র সাহায্য নিয়েছিল। বহু আহতদের পরিজনদের কথায়, পর্যটকদের দূর থেকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়। জঙ্গিদের হাতে ছিল অটোমেটেড বন্দুক। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের নির্বিচারে গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাশ্মীরে দুই অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিকে নিকেশ ভারতীয় সেনার। জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভারী গুলিবিনিময়ে দুই জঙ্গি নিহত। ভারতীয় সেনাবাহিনী অভিযান। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, বুধবার বারামুল্লার উরি নালায় সারজীবন এলাকায় দুই থেকে তিনজন জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

দুই জঙ্গি নিকেশ
ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনার কর্পস এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট, নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে ভারী গুলিবিনিময়ে দুই জঙ্গি খতম। বারামুল্লায় চলমান অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ। জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যুদ্ধের সরঞ্জাম উদ্ধার। অভিযান চলছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁওয়ে হামলাট বাইসারান তৃণভূমিতে, মিনি সুইজারল্যান্ড নামেও পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার সকালে দিল্লি পৌঁছান। সৌদি আরবের দেওয়া আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ বাতিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সৌদি আরবে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ছিলেন। দিল্লিতে অবতরণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী মোদী হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারী ও যুক্ত থাকা প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করে বলেন ‘‌আমি জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁওতে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই জঘন্য কাজের পেছনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে…তাদের রেহাই দেওয়া হবে না! তাদের খারাপ উদ্দেশ্য কখনই সফল হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংকল্প অটুট, এবং এটি আরও শক্তিশালী হবে’‌।

ঘটনার নৃশংসতার ভয়াবহতা
কাশ্মীর ভাষায় ‘নাগ’ মানে ঝর্না। ‘অনন্ত’ মানে অসংখ্য। দক্ষিণ কাশ্মীরের সেই অনন্তনাগ জেলার ‘মাথার মুকুট’ হিসাবে পরিচিতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন স্থান পহেলগাঁও। পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় ‘মিনি সুইৎজ়ারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত সবুজে ঢাকা বৈসরণ উপত্যকা। পহেলগাঁও বেসক্যাম্প থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে, জাফরান, আখরোট, আপেলের বাগান আর জঙ্গলে ঢাকা, পাহাড়ে ঘেরা ওই ‘বুগিয়াল’ বসন্ত-গ্রীষ্মের পর্যটন মরসুমে ভিড়ে ঠাসা। ঘোড়ায় চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে পর্যটকেরা পাহাড়ে ঘেরা প্রান্তরে বিচরণ করেন। স্থানীয় হোম স্টে লাগোয়া ছোট রেস্তোরাঁগুলিতে ভিড় ভেলপুরি, পাপড়ি চাটের জন্য। ঘোড়সওয়ারি করছিলেন বৈসরন ময়দান ও আশপাশের পাইন বনে। হঠাৎই স্বয়ংক্রিয় রাইফেলধারী ঘাতক উন্মেষ। অসংখ্য পর্যটকের মৃত্যু! অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। চারপাশে জঙ্গল। হামলার জন্য ওই নিরিবিলি এলাকাটাই বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানা, চলল ৫০ রাউন্ড গুলি, আরও বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা। প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটকের বিবরণ, হামলাকারী পাঁচ-ছ’জন হঠাৎই রাইফেল উঁচিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে পর্যটকদের এক এক করে পরিচয় জানা শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ ছাড়া বাকিদের উপর নির্বিচারে শুরু হয়ে গুলিবর্ষণ। বিদেশিরাও বাদ যাননি। অনেককেই পয়েন্ট ব্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে মারা হয়। পালাতে গিয়ে গুলির শিকার হন অনেকে। শতাধিক রাউন্ড গুলি চালিয়ে নিরাপদে জঙ্গলে গা ঢাকা। নিহত পর্যটকরা গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং ওড়িশার বাসিন্দা।

সার্চ অ্যান্ড কুম্বিং অপারেশন বা ক্যাসো
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের ভারত সফরের সময়ই হামলা চালাল সন্ত্রাসবাদীরা। পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-ই-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ টিআরএফ মঙ্গল রাতে ঘটনার দায় স্বীকার করে। হামলাকারীদের সন্ধানে পাহাড় জঙ্গল ঘিরে চিরুনি তল্লাশি অভিযান ‘সার্চ অ্যান্ড কুম্বিং অপারেশন’ বা ক্যাসোয় সেনা, রাষ্ট্রীয় রাইফেল্‌স, সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। প্রথমে গুলি নয়, আইডি বিস্ফোরণের ছক করেছিল জঙ্গিরা। পরে পরিকল্পনা বদলে দু’টি দলে ভাগ হয়ে যায় জঙ্গিরা। একে ৪৭ নিয়ে পর্যটকদের উপর হামলা। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার ছ’জন ঘাতকের মধ্যে দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা পাকিস্তানে গিয়ে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষিত। ২০১৭ সালে পাকিস্তানে গিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জঙ্গিদের পরনে ছিল খাকি পোশাক। অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং প্রচুর বুলেট নিয়ে পর্যটকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে পহেলগাঁওয়ে হামলা চালিয়ে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। জঙ্গিরাগুলি করার আগে পর্যটকদের নাম এবং পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। প্রত্যক্ষদর্শী এক পর্যটক পুলিশকে জানিয়েছেন, জঙ্গিরা গুলি চালানোর আগে অনেকের কাছেই পরিচয়পত্র দেখতে চায়। সেই সময় সেখানে পুলিশ বা সেনা ছিল না। দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের পাহাড়ে একটি রিসর্টের অদূরে পর্যটকেরা আক্রান্ত।

বাংলার পর্যটকের মৃত্যু, ভারতীয় নৌসেনার অফিসারেরও
পর্যটকদের বুকফাটা আর্তনাদ। ক ভারতীয় নৌসেনা অফিসারের মৃত্যু। কর্মসূত্রে কেরলের কোচিতে থাকতেন নৌসেনার অফিসার লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল (২৬)। ছুটিতে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। হরিয়ানার ছেলে লেফটেন্যান্ট নরওয়ালের বিয়ে হয়েছিল গত ১৬ এপ্রিল। ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর আইবি এক অফিসার বিহারের বাসিন্দা হলেও ওই ব্যক্তি হায়দরাবাদের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর অফিসে সেকশন অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী এবং দুই সন্তানের সঙ্গে ‘লিভ ট্রাভেল অ্যালোওয়েন্স’ এলটিসি জম্মু ও কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। জঙ্গি হামলায় মৃতদের অধিকাংশই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে দাবি। দু’জন বিদেশি এবং দু’জন স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু হয়েছে। একজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মৃত্যু হয়েছে ওড়িশার এক প্রৌঢ়ের। কর্ণাটকের এক ব্যক্তি, হরিয়ানার এক ব্যক্তি, মহারাষ্ট্রের পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‌জম্মু ও কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়ে বিতান অধিকারী নামে ওই বাঙালি পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর স্ত্রী’র সঙ্গে ফোনেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের মধ্যে এক ব্যক্তি বিতান অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের ছেলে। তাঁর স্ত্রীয়ের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। যদিও এই শোকের মুহূর্তে সান্ত্বনা জানানোর কোনও ভাষা নেই, তাও আমি আশ্বাস দিয়েছি যে কলকাতার বাড়িতে বিতানের মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সরকার সবরকমের পদক্ষেপ করছে।’‌ মৃত কর্মসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মরত বিতান অধিকারী। পাটুলির ফ্ল্যাটে বিতানের স্ত্রী এবং তিন বছরের ছেলে থাকতেন। ৮ এপ্রিল আমেরিকা থেকে ফিরেছিলেন যুবক ১৬ এপ্রিল স্ত্রী এবং ছেলের সঙ্গে কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কথা বলতে পারছেন না। বিতানের মামার ছেলে বারবার বলছেন যে ‘আমি কীভাবে বাঁচব?’ বিতানের বৃদ্ধ বাবা এবং মা’কে এখনও ছেলের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়নি। কথাটা কীভাবে বলবেন, তা ভেবে উঠতে পারছেন না কেউ। কাশ্মীরে জঙ্গিহানায় নিহত বিতান অধিকারী। ফ্লোরিডাবাসী বিতানের বাড়ি টালিগঞ্জ ১০০ ওয়ার্ড অন্তর্গত বৈষ্ণবঘাটায়। পুনের ব্যবসায়ী ৫৪ বছর বয়সী সন্তোষ জগদলে পরিবারকে নিয়ে মঙ্গলবার পহেলগাঁওতে ছুটির মেজাজে আনন্দ উপভোগ করছিলেন। চোখের সামনে বাবাকে জঙ্গিদের গুলি করে খুন করার দৃশ্য ভুলতে পারছেন না সন্তোষের ২৬ বছর বয়সী মেয়ে আশাবরী বলেন, তাঁর বাবাকে কিছু একটা পড়তে দিয়েছিল জঙ্গিরা। তিনি তা পড়তে না পারায় তিনটি গুলি করা হয়, গুলি লাগে মাথায়, কানের পিছনে, পিঠে। জগদলে পরিবারে বাবা, কাকার সঙ্গে আনন্দে মেতে ছিল আশাবরীও। চোখের সামনে বাবা, কাকার খুন। আশাবরী বলছেন,‘‌আমরা পাঁচ জনের একটি দল ছিলাম, আমার বাবা-মা সহ। আমরা পাহেলগাঁওয়ের কাছে বইসরান উপত্যকায় ছিলাম এবং যখন গুলি শুরু হয়েছিল তখন মিনি সুইজারল্যান্ড নামক একটি স্থানে ছিলাম। আমরা তৎক্ষণাৎ কাছের একটি তাঁবুতে সুরক্ষার জন্য ছুটে গেলাম। আরও ছয় থেকে সাতজন পর্যটক ও সেখানে উপস্থিত হলেন। গুলিবর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমরা সবাই মাটিতে শুয়ে পড়লাম, যা তখন আমরা ধরে নিলাম সন্ত্রাসী এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে গুলিবর্ষণ হয়েছে। তারপর তারা আমাদের তাঁবুতে এসে আমার বাবাকে বাইরে আসতে বলল। আমার কাকা আমার পাশেই ছিলেন। সন্ত্রাসীরা তখন তাঁকে লক্ষ্য করে চার থেকে পাঁচটি গুলি চালায়। তারা ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকজনকে গুলি করে। সাহায্য করার জন্য কেউ ছিল না। জঙ্গিরা মোদীকে তিরস্কারও করেছিল।’‌ উত্তরপ্রদেশের কানপুরের শুভম দিবেদীরও জঙ্গি হানায় মৃত্যু। ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে হয়েছিল। শুভমের আত্মীয় সৌরভ বলেন, ‘‌বৌদি আমার কাকাকে ফোন করেছিলেন, জানিয়েছেন শুভম মারা গিয়েছেন। বলেছেন, গুলি চালনার আগে নাম জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা খবর পেয়েছি ২-৩ দিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেহ ফেরানো হবে।’‌

মোদির নির্দেশে পহেলগাঁওতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হামলার ঘটনার পরই সেনা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে জঙ্গিদের খোঁজে এলাকা ঘিরে তল্লাশিরাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী মোদী, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিংহ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দোষীরা কেউ রেহাই পাবে না।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে পহেলগাঁওতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লশকর-ই-ত্যায়বা বা ‘তেহরিক লবাইক ইয়া মুসলিম টিএলএম, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ টিআরএফ এর মতো ছায়া সংগঠনের চালানো হত্যালীলা। গত বছর জুন মাসে লোকসভা ভোটের পরেই রিয়াসি জেলার শিবখোদা মন্দির থেকে কাটরাগামী পুণ্যার্থীদের বাসে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছিলেন।

জঙ্গিদের প্রতি হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের গুলিতে ২০র বেশি জন আহত। এলাকা জুড়ে সিআরপিএফ, সেনা, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন। জঙ্গি দমন অভিযান। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানা নিয়ে হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর, নিন্দায় সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা এক্স হ্যান্ডলে মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে লেখেন, ‘‘এই হিংসার ঘটনা নিন্দনীয় এবং অবশ্যই শাস্তিযোগ্য।’’ প্রধানমন্ত্রী এক্সে লিখেছেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে এই জঙ্গিহানার তীব্র নিন্দা করছি। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের সমবেদনা জানাই। প্রার্থনা করি, আহতেরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। সব রকমের সাহায্য করা হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জঙ্গিদের উদ্দ্যেশে বলেন, ‘‘এই জঘন্য অপরাধের নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের রেয়াৎ করা হবে না! তাঁদের অশুভ লক্ষ্য চরিতার্থ হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের পণ দৃঢ়। এটা আরও কঠিন হবে।’’ ঘটনার নিন্দা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ কাশ্মীরে হাজির। মঙ্গল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে শ্রীনগরে পৌঁছান এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদউল্লাহ, এলজি, ডিজিপি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বুধে হাসপাতালে আহত পর্যটক ও স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করবেন এবং হামলার স্থান পরিদর্শন। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার মতে, হামলাকারীরা ‘পশু, অমানবিক’। ওমরের পোস্ট এক্স হ্যান্ডলে, ‘‘মৃতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তাই ওই নিয়ে কিছু বলছি না। পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হলে তা প্রকাশ করবে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের উপর এত বড় হামলা হয়নি।’’ মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ঘটনার নিন্দা করে বলেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে ফাঁপা দাবি না করে সরকারের দায় নেওয়া উচিত। পদক্ষেপ করা উচিত, ভবিষ্যতে এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা না হয়, নিরপরাধ ভারতবাসী প্রাণ না হারান।’’‌ প্রধানমন্ত্রী মোদী বুধবার সকালেই দিল্লি বিমানবন্দরেই জাতীয় উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে। থমথমে কাশ্মীরের পহেলগাঁও। দলে দলে পর্যটকদের ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটক সমীর ভরদ্বাজ বলছেন, ‘আমি গত ৩ দিন ধরে কাশ্মীরে ছিলাম। আমাদের পহেলগাঁওতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিস্থিতি এখানে ভালো নয়। আমরা ফিরে যাচ্ছি দিল্লি। শ্রীনগর থেকে বাড়তি বিমান চালু করে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো।
কাশ্মীরের বুকে মোমবাতি মিছিলে ট্যাক্সিচালকরা। কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসায় প্রভূত ক্ষতি। কাশ্মীরের ট্যাক্সি চালকরা বলন, ‘‌এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি। এটা শুধু পর্যটকদের সঙ্গে ঘটেনি, আমাদের রোজগারের সঙ্গে হয়েছে, আমাদের পরিবারের সঙ্গে হয়েছে। আমরা ওঁদের পর্যটক মনে করিনা, ওঁরা আমাদের পরিবার। আমাদের পরিবারকে খুন করা হয়েছে। যারাই এটা করে থাকুক না কেন, তারা যেন কড়া সাজা পায়।’‌ পহেলগাঁওয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটকদের ওপর এই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে মোমবাতি মিছিল করেন।

গম্ভীর গর্জন! সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিবাদ
তীব্র নিন্দায় ক্রিকেট। ভারতীয় ক্রিকেটার শুভমন গিল থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ গৌতম গম্ভীর সকলেই এই সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেন। পার্থিব প্যাটেল থেকে আকাশ চোপড়ারা গর্জে উঠেছেন। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটি উপত্যকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা। ভারতের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক এবং আইপিএল দল লখনউ সুপার জায়ান্টস-এর সহকারী কোচ পার্থিব প্যাটেল লেখেন, ‘কাশ্মীরে আজ যা ঘটেছে, তা শুনে হতবাক এবং ক্ষুব্ধ। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতভাবেই হবে, তবু এই মুহূর্তে যা ঘটেছে তার ভয়াবহতা এবং ঘটনার পদ্ধতি মনে ভীষণ শূন্যতা তৈরি করেছে। পহেলগাঁওয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি।’ বর্তমানে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কো লেখেন, ‘প্রাণ হারানো পরিবারদের জন্য প্রার্থনা। যারা এই হামলার জন্য দায়ী, তাদের শাস্তি হবে। ভারত এর জবাব দেবে।’‌ গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক শুভমন গিল লেখেন, ‘পহেলগাঁওয়ে হামলার খবর শুনে হৃদয়বিদারক লাগছে। নিহতদের এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার প্রার্থনা। এমন হিংসার কোনও স্থান আমাদের দেশে নেই।’ প্রতিবাদে সোচ্চার বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতারা। অক্ষয় কুমার থেকে ভিকি কৌশল, জাহ্নবী কাপুর, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, প্রমুখ শোকপ্রকাশ করে মৃতদের জন্য বিচারের দাবি তুলেছেন। অক্ষয় কুমার এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘‌পহেলগাঁওয়ে ট্যুরিস্টদের উপর যে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদীদের হামলা ঘটল তাতে আতঙ্কিত। কীভাবে এই নির্দোষ মানুষগুলোকে মারল! ওঁদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা রইল।’‌ অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত লেখেন, ‘‌ঠান্ডা মাথায় ওরা আমাদের লোকগুলোকে খুন করেছে। এটা ক্ষমার অযোগ্য, ভুলতে দেওয়া যাবে না। এই সন্ত্রাসবাদীদের বোঝা উচিত যে আমরা এবার চুপ থাকব না। আমাদের পাল্টা জবাব দিতেই হবে। আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডিফেন্স মন্ত্রীকে অনুরোধ করব ওরা যেটার যোগ্য ওদের সেটাই ফিরিয়ে দিন।’‌ হিনা খান ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘‌পহেলগাঁও কেন কেন?’‌ ভিকি কৌশল শোকপ্রকাশ করেখুন হওয়া সহনাগরিকদের জন্য লেখেন, ‘‌পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হওয়া মানুষগুলোর বাড়ির লোকেদের যন্ত্রণার কথা ভাবতেই পারছি না। আমার সমবেদনা এবং প্রার্থনা রইল।’‌ করণ জোহর লেখেন, ‘‌হৃদয়বিদারক। যাঁরা নিজেদের প্রিয়জনকে হারালেন, যে নির্দোষ মানুষগুলোর প্রাণ গেল এই ন্যক্কারজনক আক্রমণে তাঁদের জন্য আমার প্রার্থনা রইল।’‌ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা লেখেন, ?‌জম্মু কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীরা সাধারণ মানুষের উপর যে আক্রমণ চালালো সেটা কাপুরুষোচিত। আমার আমাদের দেশের সেনার উপর পূর্ণ আস্থা আছে, তাঁরা ন্যায় বিচারের জন্য আশা করব যেটা করার সেটা করবেন।’‌ জাহ্নবী কাপুর, সোনু সুদ, অনুপম খের, রবিনা টন্ডন, ফারহান আখতার, কমল হাসান, মোহনলাল সহ বলিউডের একাধিক তারকারা প্রত্যেকেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব। অনুপম খের তাঁর ছবি কাশ্মীর ফাইলসের কথা মনে করিয়ে লেখেন, ‘‌আজ পহেলগাঁওয়ে হিন্দুদের সঙ্গে যে নরসংহার হয়েছে, যে ২৭ জন মারা গিয়েছেন তাতে মনে কষ্ট, দুঃখ আছে। কিন্তু ক্রোধ আর রাগের সীমা নেই।’‌

সাফাই গাইতে শুর করল পাকিস্তান
হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সাথে পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রতিবেশী দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন। আসিফ, শাসক দল পিএমএল-এনের একজন সিনিয়র নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে পরিচিত পাকিস্তানের রাজনৈতিক আঙিনায়। পাকিস্তানের দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ ফোর্সই এই কাজ ঘটিয়েছে কাশ্মীরের বুকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল দিল্লি এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে এই হামলার দোষী কারা, বা এর সঙ্গে কারা যুক্ত রয়েছে, তা নিয়ে কিছুই বলেনি। প্রধানমন্ত্রীর তরফে শুধু বলা হয়েছে, দোষীদের রেয়াত করা হবে না। তার পরই এসে গেল ইসলামাবাদের বার্তা। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার সাথে পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নিজ দেশে তৈরি, ভারতের বিরুদ্ধে সেদেশের বিভিন্ন রাজ্যে তথাকথিত বিদ্রোহ চলছে, একটি-দুটি নয়, নাগাল্যান্ড থেকে কাশ্মীর, দক্ষিণে, ছত্তিশগড়, মণিপুর পর্যন্ত কয়েক ডজন। এই সমস্ত স্থানে ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছে। এগুলো নিজ দেশে তৈরি, মানুষের অধিকারের দাবি, তারই বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ, এই কারণেই সেখানে এই ধরনের কার্যকলাপ ঘটছে। এই ঘটনায় আমাদের পাকিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা কোনও পরিস্থিতিতেই কোথাও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করি না এবং কোনও স্থানীয় সংঘাতে নিরীহ মানুষ যেন লক্ষ্যবস্তু না হয়। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে আমাদের জাতীয় নীতি অ-যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু না করে। সেনাবাহিনী বা পুলিশ ভারতের কোথাও তাদের অধিকারের জন্য দাবি করা মানুষের উপর অত্যাচার করার মৌলিক অধিকারও নেই। বিদ্রোহ করে অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই পাকিস্তানকে দোষ দেওয়া সহজ। ইসলামাবাদ অনেকবার পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ভারতের কথিত জড়িত থাকার প্রমাণ দিয়েছে। আমাদের কাছে প্রায় প্রতিদিন সংগৃহীত প্রমাণ আমরা দিয়েছি। একবার নয়, অনেকবার। ভারত বেলুচিস্তান এবং পাকিস্তানেরঅন্যান্য অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা আফগানিস্তানে বা অন্য যেখানেই বসে করুক না কেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ভারতের একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles