RK NEWZ ‘পুলিশকে রক্তাক্ত হতে দেব না’। ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মউ স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে রাজ্যের পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের আধুনিকীকরণ নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন সরকারের আমলে গোলমাল ঠেকাতে গিয়ে বার বার পুলিশকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের হরিমোহন ঘোষ কলেজের ঘটনা বা ২০১৪ সালে আলিপুর থানার ঘটনায় অতীতে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়েছে পূর্বতন সরকার। সাধারণ জনতার নিরাপত্তা এবং পুলিশের সুরক্ষা— উভয়ই নিশ্চিত করবে রাজ্যের নতুন সরকার। বুধবার তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকারের আমলে পুলিশকর্মীদের আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যেতে হবে না। পুলিশকর্মীদের গা থেকে রক্ত বেরোতে দেবে না তাঁর সরকার। বাহিনীতে আরও নিয়োগেরও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মউ স্বাক্ষরের পর নবান্ন সভাঘর থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, “২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বিশেষ প্রস্তাব রাজ্যের কাছে এসেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত সরকার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও ধরনের সিদ্ধান্তই নেয়নি, বরং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবহেলা করে ফেলে রেখেছিল।” মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, উত্তরপ্রদেশ, অসম, হরিয়ানা-সহ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করে ফেলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসনে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের যে বিপুল প্রয়োজন রয়েছে, এই মউ-এর মাধ্যমে তা এবার এ রাজ্যে অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ – দুই বাহিনীই প্রভূতভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফলতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিককালে ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ডিউটি করতে গিয়ে আমাদের পুলিশ কর্মীদের কেউ আর আহত হয়ে হাসপাতালে যাবে না, কোনও দুষ্কৃতীর হামলায় আমাদের পুলিশকে আর রক্তাক্ত হতে হবে না। পুলিশ কর্মীদের অন ডিউটি নিরাপত্তা ও সম্মান সুনিশ্চিত রাখাটাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।” পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নে এদিন দুটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, রাজ্যে পুলিশের সমস্ত শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হবে। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার কনস্টেবল রাজ্য জুড়ে ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বসে আছেন, নতুন সরকার তাঁদের দ্রুত পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে কাজে লাগানোর চূড়ান্ত চেষ্টা করছে। এছাড়া রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও আপদকালীন পরিস্থিতি আরও দ্রুত সামাল দিতে এবার প্রতিটি থানায় আধুনিক ‘১১২ সিস্টেম’ চালু করা হবে। রাজ্যপাল স্বয়ং এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছিলেন বলে জানান তিনি। কলকাতা পুলিশের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একটা সময় ছিল যখন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে তুলনা করে কলকাতা পুলিশকে আন্তর্জাতিক স্তরের দক্ষতা সম্পন্ন ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গণ্য করা হত। কিন্তু বিগত সরকার নিজেদের ভুল নীতির কারণে পুলিশের সেই গৌরব ও সম্মানকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতীয় সেনা এবং বিভিন্ন আধাসামরিক (অসামরিক) বাহিনীতে এই রাজ্যের প্রচুর বাঙালি যুবক কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে দেশসেবা করছেন। রাজ্যের পুলিশ দফতরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও দক্ষতার কোনও অভাব নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও, উপযুক্ত আত্মরক্ষার আধুনিক সামগ্রী না দেওয়ায় এবং বছরের পর বছর পুলিশ প্রশাসনের হাজার হাজার শূন্য পদ পূরণ না করায়, পুলিশ বাহিনী তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।





