RK NEWZ শপথগ্রহণের মাত্র ৬৬ দিনের মাথায় শুক্রবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়লেন অভিনেত্রী। রাজনীতির সাতে-পাঁচে তিনি কোনও দিনই ছিলেন না। ইন্ডাস্ট্রির বন্ধু-সহকর্মীরা যখন একে-একে রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করেছেন, তখনও নিজের ‘অরাজনৈতিক’ অবস্থানে অটল থেকেছেন। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আচমকাই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথগ্রহণ করে অনেককে হতবাক করে দেন কোয়েল মল্লিক! কিন্তু সেই রাজনৈতিক ইনিংস খুব বেশি দিন স্থায়ী হল না। শপথগ্রহণের মাত্র ৬৬ দিনের মাথায় শুক্রবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়লেন অভিনেত্রী। কোয়েলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ। রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়া বদলের আবহে শেষমেশ নিজের সিনেমা ‘আবার হাওয়া বদল’কে প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে স্বভূম শিবপুর থেকে জিতে সম্প্রতি বিধায়ক হয়েছেন। তারপর থেকেই সিনেইন্ডাস্ট্রির কর্মসংস্কৃতি উন্নয়নে ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছেন। শনিবার হাজির ছিলেন ‘আবার হাওয়া বদল’-এর প্রিমিয়ারে। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়া নিয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন রুদ্রনীল। স্বভাবসিদ্ধভাবে খানিক ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গিতেই অভিনেতার মন্তব্য, “কোয়েল অত্যন্ত স্বজ্জন একজন মানুষ। মানুষের জানা-অজানার মাঝে কোথাও কয়েকটা সিঁড়ি থাকে। হতে পারে তিনি কোনও সিঁড়িতে পা দিয়েছেন, পা ফেলে তাঁর মনে হয়েছে, যে এই সিঁড়ি যেখানে যাচ্ছে বলে ভেবেছিলাম, সেদিকে তো যাচ্ছে না। ফলত, তিনি একজন প্রাপ্তবয়স্কা মানুষ হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমার মনে হয়, কোয়েল অত্যন্ত রুচিশীলা। ভীষণ গুণবতী। আমাদের খুব প্রিয় একজন মানুষ।” অতঃপর ঘুরিয়ে যে তিনি বিরোধী শিবির তৃণমূলকেই বিঁধলেন, তা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শেষমেশ ‘আবার হাওয়া বদল’ রিলিজ করতে পেরেছেন, এপ্রসঙ্গে রুদ্রনীলের মন্তব্য, “২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম রিলিজ হওয়ার প্ল্যান হয়েছিল। সেটা করতে দেওয়া হয়নি। যারা দেননি রিলিজ করতে, মানুষ তাদের ভুলে গিয়েছে। তাদের নিজস্ব পরিচয় কী? সেটা তারা নিজেরাই এখন ঠিক করতে পারছেন না। তাঁরা একূলে-ওকূলে নাকি নকুলে? এর মাঝেই গোকুলে বাড়িল আমাদের ‘আবার হাওয়া বদল’। মনখারাপের মাঝেও এই ছবি ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি নিয়ে আসবে।” রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রিমিয়ারে খুব বেশি মন্তব্য না করতে চাইলেও রাজ্যের ‘ডিম-রাজনীতি’ নিয়েও মন্তব্য করলেন তারকা বিধায়ক। রসিকতাচ্ছলে নেতা-অভিনেতার সংযোজন, “তবে যেভাবে ডিম ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, তাতে একটাই কথা বলব, ডিমের ব্যবহার অমলেট বা সেদ্ধর জন্য হওয়া উচিত। ডিম যেভাবে অপচয় করা হচ্ছে, আমি সেটার ঘোরবিরোধী। এগুলো বন্ধ হলে ভালো হয়।”
রুদ্রনীল ঘোষের নতুন ছবি ‘হাওয়া বদল’ মুক্তি পেয়েছে। সেই ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন মুনমুন সেন। এই ছবিতে রাইমা সেন কাজ করেছেন। তবে রুদ্রনীলের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন অনুষা বিশ্বনাথন। ছবি দেখার পর মুনমুন রুদ্রনীলকে পাশে নিয়ে বললেন, ”ওঁকে আগেই আমি বলেছিলাম, একজন দুর্দান্ত অভিনেতা। রুদ্রনীল পুরো শরীর ব্যবহার করে অভিনয় করে। ধরুন কাউকে জড়িয়ে ধরার একটা দৃশ্য আছে। এমন হতে পারে রুদ্রনীলের মুখ দেখা গেল না। কিন্তু ওঁর হাত ঠিক কাঁপবে (সেভাবেই রুদ্রনীল চরিত্রটার আবেগ বুঝিয়ে দেন, সেটাই বলতে চেয়েছেন মুনমুন)। রুদ্রনীল যখন গান গাওয়ার দৃশ্যে অভিনয় করে, ওঁর গলার শিরায় সেটা ফুটে ওঠে।” রুদ্রনীলের এমন কাজ দেখে আপ্লুত হয়ে, তাঁর গালে চুমু খান মুনমুন। এরপরই মুনমুনকে নিয়ে রুদ্রনীলের কী ভাবনা, তা জিজ্ঞাসা করা হয় অভিনেতাকে। রুদ্রনীলকে অবশ্য উত্তর দিতে দেননি মুনমুন। মজা করে বিধায়কের মুখ চেপে ধরেন অভিনেত্রী। তাতে রুদ্রনীল মজা পান এবং হাসেন। সব মিলিয়ে মনে রাখার মতো একটা মুহূর্ত। লক্ষণীয় গত বছর স্বাধীনতা দিবসের মরসুমে মুক্তি পেয়েছিল ছবি ‘ধূমকেতু’। সেই ছবিতে রুদ্রনীলের কাজ দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরপর মুক্তি পায় ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। সেখানেও অভিনেতার কাজ নজরকাড়া। ‘হাওয়া বদল’ ছবির শুটিং হয়েছিল তিন বছর আগে। রাজ্য নতুন সরকার বদলের পর মুক্তি পেল সেই ছবি। কিছু দর্শক রুদ্রনীলের কাজের প্রশংসা করতে শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। ৪মে শিবপুরের বিধায়ক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিনেতা। তিনি নতুন ছবির শুটিং আবার কবে করবেন, এখন সেই প্রশ্ন ঘুরছে টলিপাড়ায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। স্বরূপকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ডিসেম্বরে ফেডারেশনের সভাপতি হিসাবে কাজ শেষ করেছিলেন স্বরূপ। ৪মে রাজ্যে সরকার বদল ঘটে। বিজেপি সরকার গঠন করার পর, টলিপাড়ায় বহু শুটিংই নির্বিঘ্নে ঘটছে। জটিলতা তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ইমেল নিয়ে। একটি ইমেল-এ উল্লেখ করা হয়েছে, টলিপাড়ায় শুটিং করতে হলে ফেডারেশনের একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডি-তে মেল করতে হবে। একই সঙ্গে সেখানে যোগাযোগের নম্বর হিসাবে যেটা দেওয়া রয়েছে, সেটি পুরনো ফেডারেশনের হেল্পলাইন নম্বর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র টেকনিশিয়ান বললেন, ”এই মুহূর্তে আমরা যেটা জেনেছি, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের মাথা হিসাবে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী। টলিপাড়ায় কীভাবে কাজ হবে, সেই কর্মপদ্ধতির বিষয়ে সরকার যে নির্দেশ দেবে, সেটাই সকলের মেনে চলার কথা। এদিকে এমন ইমেল পাঠিয়ে কারা গুলিয়ে দিতে চাইছেন বিষয়টি, তা বুঝতে পারছি না।” যোগাযোগের নম্বর ফোন করা হলেও, কেউ ফোন তোলেননি। সম্প্রতি একটি ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রযোজক প্রান্তিক বসু বললেন, ”রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরই শুটিং হয়েছে। কাউকে ইমেল করে অনুমতি নিইনি। পরিচিত টেকনিশিয়ান এবং প্রোডাকশন ম্যানেজারকে যোগাযোগ করেই কাজ হয়েছে। কোনওরকম অসুবিধা হয়নি। মনে হয়, এই পদ্ধতিতেই আগামী দিনে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।” প্রযোজক রাণা সরকারের একটি ছবির শুটিং চলছে শহরে। তিনি কি কাউকে ইমেল করে অনুমতি নিয়েছেন? রাণা জানালেন, ”আমার এই ছবির শুটিং সরকার বদলের আগে শুরু করেছি। সরকার বদলের পরেও শুটিং করছি। লুক সেটের সময়ে ইমেল করেছিলাম ফেডারেশনকে। এমনিতে শহরের মধ্যে শুটিং করতে গেলে, কোনও ইমেল করতে হয় না। আমাদের পরিচিত টেকনিশিয়ানদের নিয়েই শুটিং চলছে। কোনওরকম অসুবিধা হচ্ছে না। রাজ্য সরকারের তরফে নতুন কোনও নির্দেশিকা এলে, সেটাই মেনে চলব।” লক্ষণীয় টলিপাড়ায় কনফেডারেশন গড়ার ঘোষণা করেছিলেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তবে কোনও ইমেল আইডি-তে মেল করে শুটিংয়ের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়নি তাঁর তরফে। এমন কোনও কথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের তরফে জানা যায়নি। এরকম অবস্থায় এই ইমেল ভাসিয়ে টলিপাড়ায় জটিলতা তৈরি করতে চাইছেন কে? এই নিয়ে টলিপাড়ায় চর্চা তুঙ্গে।





