Wednesday, June 17, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপে আটকে গেল কানাডা!‌ বসনিয়ার বিরুদ্ধে ড্র আয়োজক দেশের

কানাডা ১ (লারিন)
বসনিয়া ১ (লুকিচ)

RK NEWZ বিশ্বকাপের প্রথম দিন দুই ম্যাচেই ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। তৃতীয় ম্যাচ ড্র হল। টরন্টো স্টেডিয়ামে আয়োজক দেশ কানাডা ১-১ ড্র করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপের প্রথম দিন দুই ম্যাচেই ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। তৃতীয় ম্যাচ ড্র হল। টরন্টো স্টেডিয়ামে আয়োজক দেশ কানাডা ১-১ ড্র করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে। তবে গোটা ম্যাচে কানাডা যা খেলেছে তাতে এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল তারাই। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের শুরু থেকে কানাডার দাপট ছিল বেশি। বসনিয়ার তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ করছিল তারা। কিন্তু সুযোগ নষ্টের পরিমাণও ছিল বেশি। কানাডার আক্রমণ ভাগে খেলছিলেন জোনাথন ডেভিড। বেশির ভাগ বলই পাস দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে উদ্দেশ্য করে। তবে ডেভিড একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে যাচ্ছিলেন। বসনিয়ার ডিফেন্ডারদের পায়ের জঙ্গলের সামনে গিয়ে আটকে যাচ্ছিলেন। কখনও বা প্রতিহত হচ্ছিল শট। ম্যাচের প্রথম দিকে ডান দিক থেকে খেলা তৈরি করছিল কানাডা। সে দিকে সুবিধা করতে না পেরে ধীরে ধীরে বাঁ দিকের উইং দিয়ে আক্রমণ শুরু করে তারা।

সুযোগ নষ্টের প্রবণতা কমেনি। সম্ভাবনা তৈরি হলেও কখনও কানাডার বেশির ভাগ শট বাইরে যাচ্ছিল। তারা সেট পিসও কাজে লাগাতে পারছিল না। ২১ মিনিটে খেলার বিপরীতে গোল দেয় বসনিয়াই। কর্নার থেকে ফ্লিক করেছিলেন বসনিয়ার এক ফুটবলার। গোলের একদম সামনে ছিলেন জোভো লুকিচ। তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে দেন। আচমকা গোল খেয়ে কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় কানাডা। গোটা স্টেডিয়াম তখন শান্ত। গোল হজম করেও কানাডার সুযোগ নষ্টের প্রবণতা কমেনি। বল তাদের পায়েই বেশি ছিল। প্রথমার্ধে তারা ১০টি শটও নিয়েছে। কিন্তু একটিও কাজে লাগাতে পারেনি। উল্টে বসনিয়ার জমাট রক্ষণ এবং প্রতি আক্রমণ মাঝেমাঝেই বিপদে ফেলে দিচ্ছিল কানাডাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। কিন্তু বসনিয়ার সিড কোলাসিনাচের সৌজন্যে সে যাত্রায় বেঁচে যায়। বাঁ দিক থেকে লিয়াম মিলার ঢুকে পড়ে টিয়ান ওলুয়াসেয়িকে পাস দেন। তিনি গোলে শট নিলেও শেষ মুহূর্তে কোলাসিনাচ ক্লিয়ার করতে যান। তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য আত্মঘাতী গোল হয়নি। বেঁচে যায় বসনিয়াও। ৬১ মিনিটে তিনটি পরিবর্তন করেন কানাডার কোচ জেসে মার্শ। আক্রমণ ভাগ নতুন করে সাজান। তাতে খেলায় বদল আসে। আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণ করতে থাকে কানাডা। মাঠে নেমে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন প্রমিস ডেভিড। অল্পের জন্য সুযোগ হাতছাড়া হয়। কিছু ক্ষণ পর আবার গোললাইন সেভ করে বসনিয়া। ৭৯ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় কানাডা। গোল করেন সাইল লারিন। সতীর্থের সুন্দর ব্যাক ফ্লিক পেয়ে চকিতে ঘুরে গিয়ে গোল করেন।

আমেরিকার ফুটবল। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে দাঁড়াতেই দিলেন না আয়োজকেরা, পোচেত্তিনোর দল জিতল ৪-১ ব্যবধানে। বিশ্বকাপের আয়োজক হিসাবে প্রথম থেকে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে আমেরিকা। ফুটবলারেরা সে সবের দিকে না তাকিয়ে, নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন। তার ফল মিলল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই। প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করল মাউরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দল। এ বারের আমেরিকা আগের চেয়ে অনেক আলাদা। আত্মবিশ্বাসী। আগ্রাসী। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখতে চাইছেন ফোলারিন বালোগান, ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচেরা। নিজেদের মধ্যে অসংখ্য পাস খেলে আক্রমণে উঠছেন। একসঙ্গে চার-পাঁচ জন ফুটবলার সমানে ওঠা নামা করে খেলছেন। ফলে আক্রমণ বা রক্ষণে লোকের অভাব হচ্ছে না। মাঠ জুড়ে খেলার চেষ্টা করছেন। প্রথম ম্যাচেই আমেরিকার প্রেসিং ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারল না প্যারাগুয়ে। কলকাতা ময়দানের ছোট দলগুলি যে ভাবে ডিফেন্সে পায়ের জঙ্গল তৈরি করে বড় দলগুলিকে আটকানোর চেষ্টা করে, লাতিন আমেরিকার দেশটিও অনেকটা সে ভাবে আমেরিকার আক্রমণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল। ডবল তো বটেই, কখন কখনও ট্রিপল মার্কিংয়েও বালোগানদের আটকানোর চেষ্টা করলেন প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা। লাভ অবশ্য বিশেষ হল না। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের ফলাফল একরকম লিখে ফেলেন আমেরিকার ফুটবলারেরা। দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। প্যারাগুয়ো পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের ৭ মিনিটের আত্মঘাতী গোলে। আমেরিকার স্ট্রাইকারদের চাপে নিজের গোলে বল ঠেলে দেন প্যারাগুয়ের ড্যামিয়েন বোবাডিলা। তাঁর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর চাপ আরও বাড়ান আমেরিকার ফুটবলারেরা। একের পর এক আক্রমণে কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণ। লাতিন আমেরিকার দেশটির রক্ষণে বার বার ফাঁক তৈরি হতে শুরু করে। তৈরি হয় বিপজ্জনক পরিস্থিতি। তেমনই একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩১ মিনিটে আমেরিকাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বালোগান। তাঁর ওয়ান টাচ নিখুঁত ফিনিশিং মনে রাখার মতো। তিনিই দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন প্রথমার্ধের শেষে সংযুক্ত সময়ে। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন। ০-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা বাড়ায় প্যারাগুয়ে। প্রতি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে আমেরিকার দাপট তাতে কিছুটা কমে। যদিও আমেরিকার ফুটবলারেরা আগ্রাসী ফুটবলের পথ থেকে সরেননি। প্যারাগুয়ের রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন তাঁরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও অন্তত ২ গোল করতে পারত আমেরিকা। কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তাঁরা। এর মধ্যেই ৭৩ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান মরিসিয়ো। গোল খাওয়ার পর আক্রমণে ঝাঁজ আবার বাড়ায় আমেরিকা। তার সুফলও পায় বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকেরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে আমেরিকার হয়ে চতুর্থ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন জিয়োভান্নি রেয়না। আগের ম্যাচে কানাডা ১-১ ড্র করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে। তবে গোটা ম্যাচে কানাডা যা খেলেছে তাতে এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল তারাই। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের শুরু থেকে কানাডার দাপট ছিল বেশি। বসনিয়ার তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ করছিল তারা। কিন্তু সুযোগ নষ্টের পরিমাণও ছিল বেশি। কানাডার আক্রমণ ভাগে খেলছিলেন জোনাথন ডেভিড। বেশির ভাগ বলই পাস দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে উদ্দেশ্য করে। তবে ডেভিড একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে যাচ্ছিলেন। বসনিয়ার ডিফেন্ডারদের পায়ের জঙ্গলের সামনে গিয়ে আটকে যাচ্ছিলেন। কানাডা সেট পিসও কাজে লাগাতে পারছিল না। ২১ মিনিটে খেলার বিপরীতে গোল দেয় বসনিয়াই। কর্নার থেকে ফ্লিক করেছিলেন বসনিয়ার এক ফুটবলার। গোলের একদম সামনে ছিলেন জোভো লুকিচ। তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে দেন। আচমকা গোল খেয়ে কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় কানাডা। ৭৯ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় কানাডা। গোল করেন সাইল লারিন। সতীর্থের সুন্দর ব্যাক ফ্লিক পেয়ে চকিতে ঘুরে গিয়ে গোল করেন তিনি। এর পরেও বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচ ড্র করে আসার কথাই ছিল না।

বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট। যা দেখতে কানাডার সমর্থকদের পাশাপাশি ভিড় জমিয়েছিলেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকরাও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। দিনটা কানাডার ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয়। প্রথমবার তারা নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। যে মাঠে তারা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে নামতে চলেছে, সেখান থেকে প্রায় ৭ কিমি দূরে বিখ্যাত নেথান ফিলিপস স্কোয়ার। টরন্টো সিটি হলের সামনে অবস্থিত। শীতে এখানে প্রচুর মানুষ আইস স্কেটিং করে। চারপাশে কিছু ফোয়ারাও শোভা পেত। কিন্তু এখন গেলে, জায়গাটিকে চেনা দায়। অনেককিছু বদলে গিয়েছে। এখন সেখানে এবারের ফিফা বিশ্বকাপের থিম জাজ্বল্যমান। ছোট্ট একটা মাঠও তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে গোটা স্কোয়ারে উন্মাদনা। বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। অনেকে খোশমেজাজে ফুটবল খেলছেন। কেউ একচিলতে রোদ মেখে সেলফিও তুলছেন। তাঁদেরই অনেকে এদিন জাতীয় দলের লাল জার্সি গায়ে চাপিয়ে স্টেডিয়ামমুখো একটু আগেভাগেই। কারণ? ম্যাচের আগে তাঁদের জন্য দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হাতছানি দিয়ে ডাকছে। দ্বিতীয় দিনেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ বোধন হয়ে গেলেও বাকি কানাডা ও আমেরিকা। এই দুই দেশের মধ্য থেকে কানাডায় এদিন প্রথমবার বিশ্বকাপের ‘সাইরেন সং’। সেই উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্ল্যামারের ছড়াছড়ি। যা দেখতে কানাডার সমর্থকদের পাশাপাশি ভিড় জমালেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকরাও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হল কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। তাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে জগতের এই ফুটবল-যজ্ঞ। সেখানে সূত্রধরের কাজ করলেন কানাডিয়ান গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স। এরপর লাল পোশাক পরা একদল লাস্যময়ী মঞ্চে এসে বিশালাকার ফুটবলের সোনালি আবরণ সরিয়ে দিলেন। হাজির হলেন কানাডিয়ান গায়িকা আলেসিয়া কারা-ও। তিনি ‘ওয়াইল্ড থিংস’ ও ‘ফায়ার’ গেয়ে দর্শকদের আনন্দ দিলেন। পরেই আসেন বলিউডের ‘দিলবর গার্ল’ নোরা ফতেহি, ভেজেড্রিম ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়। গানের তালে তালে নেচে-গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন তাঁরা। গোটা স্টেডিয়াম তখন মুখরিত। প্রত্যশামতোই ‘সির সির’ গানে মঞ্চে আগুন ঝরালেন নোরা। তবে কানাডার উদ্বোধনী মঞ্চে ওঠার আগেই তাঁর ‘সির সির’ নিয়ে সরগরম ছিল সোশাল পাড়া। মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গানটি ইউটিউবে ২ কোটির বেশি ভিউ পেয়ে রেকর্ডবুকে নাম তোলে। ভেঙে দেয় শাকিরার রেকর্ড। এবারের বিশ্বকাপের আরেক অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ প্রথম দিনে পেয়েছিল ৮২ লাখ ভিউ। তাঁকে দ্বিগুণের বেশি ব্যবধানে পিছনে ফেলে নজির গড়েছে ‘সির সির’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles