RK NEWZ ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, অভিষেকের চিঠি তিনি পড়েছেন। পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন। অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি পেয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পদক্ষেপ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন সিএবি-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক। ইন্দ্রনীলকে একটি খোলা চিঠিও লিখেছিলেন। তারই জবাবে ইন্দ্রনীল বললেন, “খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে।” ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “ওঁর চিঠি পেয়েছি। সেই চিঠি পড়েছি। ওঁর সঙ্গে কথাও হয়েছে। ওঁর থেকে সময় চেয়েছি। সবিস্তারে বিষয়টা জানব। এক দু’দিনের মধ্যেই আমরা বসব। আলোচনা করে যা পদক্ষেপ করার করব।” রাজ্যের বিভিন্ন খেলাধুলোয় যে ভাবে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, বয়স ভাঁড়ানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে তাতে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি ইন্দ্রনীলকে লেখা চিঠিতে লিখেছেন, “সব ধরনের দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যায় কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ ভাবে তদন্ত করা উচিত।” সিএবি-র কমিটি সদস্য অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ। চিঠিতে কারও নাম না করে অভিষেক লিখেছেন, রাজ্যের একটি জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি ক্রীড়াবিদদের থেকে টাকা নিয়ে তাদের দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অভিষেক জানিয়েছেন, অর্থ দেওয়ার নথি, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য নথি অতীতে কর্তৃপক্ষের সামনে আনা হলেও কোনও স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি। এই অভিযোগ সত্যি কি না, তা যাচাই করার অনুরোধ করেছেন তিনি। ইন্দ্রনীল জানিয়ে দিলেন, অভিষেকের সঙ্গে বসে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন তিনি। সিএবি-তে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। থ্রেট কালচারেরও অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “থ্রেট কালচার তো স্বাস্থ্যক্ষেত্রে, শিক্ষাক্ষেত্রে চলছিল। ক্রীড়াক্ষেত্রেও কোনও ব্যতিক্রম ছিল না।” এই প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন ইন্দ্রনীল। তিনি বলেন, “অপদার্থ পুলিশ প্রশাসনও নাক গলাত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী। তাঁর ছত্রছায়ায় সব হয়েছে। নইলে কী ভাবে সোনা পাপ্পুর (আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার। ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি ও সম্পত্তি হস্তগত করার অভিযোগে ইডি গ্রেফতার করেছে তাঁকে।) সঙ্গে যোগ থাকা শান্তনু সিংহ বিশ্বাস আইসি থেকে ডিসি হয়ে গেলেন। ওঁরা বয়স্ক মানুষদের থেকে জমি, বাড়ি লুট করেছিলেন। তোলাবাজি করেছিলেন।” ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনীতিকে যে ঢুকতে দেবেন না সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল। রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “রাজনীতির বিষয় এখানে বেশি বলতে চাই না। তবে সব কথা আমাদের মাথায় রয়েছে। খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে। রাজনীতি হবে না।”

পঙ্কজ রায়ের পুত্রকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট দাগী সিএবি কর্মীর! ১০০ কোটির মানহানি মামলা করলেন জাতীয় ক্রিকেটার প্রণব রায়। ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি, সিএবি এখন মিথ্যের ভিত্তিতে চলছে’, আক্ষেপ প্রণব রায়ের। যত দিন যাচ্ছে, তত সিএবি আর বিতর্ক যেন সমার্থক হয়ে যাচ্ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজত্বেই একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। কখনও সংস্থার যুগ্ম সচিব মদন ঘোষ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিকাকে ‘অশ্রদ্ধা-অমান্য’ করে দিনের পর দিন পদে বসে রয়েছেন। নিজের প্রশাসনিক মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও। কখনও সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠে পড়ছে। কখনও আবার বাংলার প্রথিতযশা প্রাক্তন অধিনায়ক প্রণব রায়ের সঙ্গে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ’ লেগে যাচ্ছে! সিএবি কর্মী মনোজিৎ মৌলিকের বিরুদ্ধে একশো কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন প্রণব রায়। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সেই সিএবি কর্মীর করা কুরুচিকর ফেসবুক পোস্টের বিরুদ্ধে। শুধু মামলা করাই নয়, আদালত থেকে সেই মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও পেয়ে গেলেন প্রণব। যেখানে আদালতের তরফে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হল যে, অভিযুক্ত সিএবি কর্মী প্রণবের বিরুদ্ধে কোনও রকম অপমানজনক বিবৃতি বা পোস্ট করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সিএবি কর্মীর প্রতি আদালত-নির্দেশিকা হল, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রণব রায় সম্পর্কিত যে পোস্ট তিনি করেছেন, অবিলম্বে সেটাকে ‘ফ্রিজ’ করে দিতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। সুনিশ্চিত করতে হবে, সেই পোস্ট যেন ইন্টারনেটে অন্য কেউ ব্যবহার না করতে পারে। তৃতীয়ত, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সিএবি কর্মীকে জানাতে হবে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে এ হেন আদেশ প্রদান করা যাবে না?
কে এই মনোজিৎ মৌলিক? সৌরভ ঘনিষ্ঠ ‘দাগী’ মনোজিতের সিএবিতে হঠাৎ অনুপ্রবেশ কিভাবে?
একসময়ে সাংবাদিক পরিচয়ে অসংখ্য দুর্নীতিতে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে মনোজিৎ মৌলিকের বিরুদ্ধে। এক বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নানান অনৈতিক ক্রিয়াকলাপে যুক্ত এই ব্যক্তি। কোনও সংবাদমাধ্যমেই ঠাঁই হচ্ছিল না জনৈক ব্যক্তির। যথার্থ যোগ্যতার অভাব থাকায় (ইংরেজী ভাষা বুঝতে, লিখতে, এমনকি বলাতেও অদক্ষতা প্রকট), খুব স্বল্প বেতনের চাকরিও কোনও সংবাদমাধ্যমে মেলেনি বলে শোনা যায়। এমনকি কস্মিনকালেও কোনও বড় সংবাদমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বলেও শোনা যায়। এই সময়ে দ্বারস্থ হন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। বিভিন্ন অছিলায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে সিএবির মিডিয়া সম্পর্কে ভুল তথ্য পরিবেশন করে, বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার মাথা গলানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি এই মনোজিৎ। সূত্র মারফৎ জানা যায়, উক্ত ব্যক্তির নামে স্ত্রী ব্যাভিচার থেকে শুরু করে অত্যাচার এমনকি ডিভোর্সের ফৌজদারী মামলাতেও নাম জড়িয়ে রয়েছে এই সিএবি কর্মীর। স্ত্রীর উপর অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে বলে শোনা গিয়েছে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সিএবিতে এই কর্মীর নিয়োগ নিয়েও বিতর্কের ঝড় উঠেছিল সেই সময়ে। নিজেকে সেফ জোনে রাখতেই, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুযোগ কাজে লাগান ধুরন্ধর চাতুর্যে ভরা এই সুযোগসন্ধানী কর্মী। সিএবির অন্দরমহলে প্রবেশের পরই কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিকেও হুমকি জারি করার অভিযোগ রয়েছে মনেজিতের বিরুদ্ধে। সিএবির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, সংস্থার দীর্ঘদিনের কর্মরত অধিকাংশ কর্মীরাই ক্ষিপ্ত মনোজিতের উপর, এমনকি আড়ালে আবডালে মানসীক বিকারগ্রস্ত বলেও অভিহিত করে থাকেন অনেকেই, এমন অভিযোগও রয়েছে। সংস্থায় থেকে নানান রাজনৈতিক পোস্টও বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সিএবির কর্মী হয়ে এইরকম রাজনৈতিক পোস্ট করা যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ‘মাথার উপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত আছে’- হাবেভাবে ও কথাবার্তায় এ হেন আচরণে সংস্থার কেউই প্রতিবাদ করতে বা মুখ খুলতে পারেন নি। এবার মনোজিৎ সরাসরি আঘাত করলেন গৌরব অর্জন করা ক্রিকেটারকে অসম্মান করে। কদর্য ভাবে আক্রমণ করা হয়। প্রাক্তন বাংলা অধিনায়ক ক্ষোভে উত্তেজিত। সামান্য এক সিএবির কর্মীর কাছ থেকে প্রাপ্ত অনাকাঙ্খিত অপমানের যন্ত্রনায় কাতর। প্রণব রায়ের অপমানে ক্ষুব্ধ বাংলার ক্রিকেট মহল। নতুন সরকারের রাজত্বে সর্ব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতার অভিযান চলছে। অচিরেই উক্ত ‘দাগী’ কর্মীর বরখাস্তের দাবিও উঠেছে ক্রিকেট মহলে। উক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠিও পাঠাবেন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অধিকাংশই, বলে সূত্রের খবর। আপাতত দেখার বিষয়, একাধিক কলঙ্কে কালিমালিপ্ত কর্মীর শাস্তি হিসাবে সিএবি থেকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কি না? অপেক্ষায় ক্রীড়ামহল।





