Sunday, June 14, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ফুটপাথটা হাঁটার জন্য’, উচ্ছেদের পর হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা শুভেন্দুর!‌ পুজোর অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত কলকাতার ‘বিগ বাজেটে’র ক্লাবগুলির!‌

RK NEWS টালা থেকে টালিগঞ্জ, শহরের উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মতো মুখ্য়মন্ত্রীর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত তুলনামূলক ছোট ক্লাবগুলিও। ২০২৫ সালে রাজ্যের ৪৪ হাজার ক্লাবকে দুর্গাপুজোর জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় পালাবদলের পর ক্লাবগুলির অন্দরে প্রশ্ন জাগে, এবারও মিলবে অনুদান? শুক্রবার সেই কৌতূহল দূর করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানান, যে সমস্ত ক্লাব এই অনুদান ছাড়াই পুজো আয়োজনে সমর্থ, তারা পাবে না। তুলনায় যাদের প্রয়োজন, তাদের দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানাচ্ছেন কলকাতার জনপ্রিয় তথা বিগ বাজেটের ক্লাবগুলি। উত্তর কলকাতার নামকরা পুজো কমিটিগুলির অন্যতম হাতিবাগান সর্বজনীনের প্রধান উদ্যোক্তা শাশ্বত বসু বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্তের উপরই তো সবটা নির্ভর করে। মুখ্যমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।” একই সুর হাতিবাগান চত্বরের আর এক ক্লাব হাতিবাগান নবীনপল্লি পুজো উদ্যোক্তা অমিতাভ রায়ের গলাতেও। তাঁর কথায়, “এমন সিদ্ধান্তে যদি ছোট ক্লাবগুলো উপকৃত হয়, তাহলে সার্বিকভাবে পুজো আরও সম্বৃদ্ধ হবে।” তবে সরকারের তরফে পুজো আয়োজন নিয়ে কী কী নির্দেশিকা জারি হবে, সেটাই এখন তাঁদের কাছে বড় প্রশ্ন। দক্ষিণ কলকাতার অতি জনপ্রিয় পুজো সমাজ সেবী সংঘের অরিজিৎ মৈত্র যেমন বলছেন, “এতদিনে পুজো সংক্রান্ত নানা রকম কাজ ক্লাবের তরফে শুরু হয়ে যায়। যেহেতু আমাদের পুজো রাস্তার খানিকটা অংশ বন্ধ করে করা হয়, সেক্ষেত্রে এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, সেই বিষয়টা জানতে পারলে সুবিধা হয়।” তাছাড়া প্রতিমা বানানোর ক্ষেত্রে এঁটেল মাটির সংকটও কাটছে না। সরকারকে এ নিয়েও পদক্ষেপের আর্জি জানাচ্ছে ক্লাবগুলি।

বেআইনিভাবে যাঁরা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করছেন, তাঁদের উচ্ছেদ চলবেই। কেন্দ্রের সাফল্যের এক যুগ পূর্তিতে শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে সেকথা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীকালে হকারদের জন্য পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। শুভেন্দু বলেন, “ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের রয়েছে। সেই ফুটপাথ জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। যেখানে সরকারের ফাঁকা জমি রয়েছে, যেখানে জনগণের কোনও প্রয়োজন নেই, সেখানে বৈধ-অবৈধভাবে যদি বসে থাকেন, তবে মানবিকভাবে দেখব। কিন্তু আপনি নিউ মার্কেট রাস্তা দখল করে নেবেন, মোটর সাইকেলও যেতে পারবে না। রাজাবাজারটা বেহাত হয়ে যাবে। খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজে আপনি যা খুশি করবেন, এটার জন্য আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি পাবলিক। কলকাতার বড় বড় চওড়া রাস্তা, জনগণের হাঁটার ফুটপাথ এটা দেওয়ার অধিকার আমাকে কেউ দেয়নি। আমাকে পাবলিক ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। বিজেপি ও বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ।” যাঁরা স্রেফ রাজনীতির স্বার্থে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত শুভেন্দু। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থ যেখানে যুক্ত রয়েছে সেখানে জনগণের স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। কোনও মুষ্টিমেয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে না।” হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে যাদবপুর, দমদমে বেআইনি হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা। পথে নেমে হকার উচ্ছেদের সিপিএম। যাদবপুরে আটক হন সৃজন ভট্টাচার্যরা। পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখমও হন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী। বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে চিঠি লিখেছেন। হকারদের পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। সেসব কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “প্রাথমিকভাবে সরে যান। আস্তে আস্তে সরকারি স্কিম আসবে। হকারদের জন্য শ্রমদপ্তরের স্কিম রয়েছে, আপনি সে সুবিধা পাবেন।” ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মাথায় হাত বহু হকারের। কবে মিলবে পুনর্বাসন, সেই আশায় দিন গুনছেন তাঁরা।

শিবপুরের শালিমার ইয়ার্ডে বুলডোজার অপারেশন! রাস্তার দু’ধারে বেআইনিভাবে দখল করে থাকা অন্তত ৫০টি দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। শুক্রবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে কয়েকটি বুলডোজার নিয়ে গিয়ে বেআইনি দোকানগুলিকে ভেঙে দেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এদিন জানানো হয়, রাস্তা চওড়া করা ও নর্দমা তৈরির জন্য এই দোকানগুলি ভাঙা জরুরি ছিল। বেআইনি দখলদারি থাকায় নর্দমা তৈরির কাজ বাধা পাচ্ছে, এই যুক্তিতে বেআইনি দোকানগুলি ভেঙে দখলমুক্ত করা হল। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বুলডোজারগুলি একের পর এক দোকান ভাঙছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কংক্রিটের। কোনওটা মুদির দোকান, কোনওটা সবজির দোকান তো কোনওটা আবার চায়ের দোকান। এভাবেই একের পর এক দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এক পদস্থ আধিকারিক জানালেন, বছরের পর বছর ধরে দোকানগুলি রাস্তার দু’ধারে কোনও সরকারি অনুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গজিয়ে উঠেছে। বারবার বলা সত্ত্বেও এঁরা এতে কর্ণপাত করেনি। অবশেষে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এঁদেরকে না সরালে রাস্তা চওড়া করা কিংবা ড্রেনের কাজ করা সম্ভব হবে না। তাই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার দু’ধারে থাকা প্রায় ৫০টির উপর দোকানই এখানে ভাঙা হয়েছে। ভাঙা পড়া একটি মুদিখানার দোকানের মালিক সুরেন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে গত ৭০ বছরের ব্যবসা। এতদিন কেউ কিছু বলেনি। নতুন সরকার এসেই বুলডোজার দিয়ে আমাদের দোকান গুঁড়িয়ে দিল! লোকসানের কোনও হিসেব নেই। পরিবার নিয়ে এবার পথে বসতে হবে। দোকান ভাঙার আগে আমাদের কোনও নোটিস কেউ দেয়নি। পুনর্বাসনের কথাও কেউ কিছু বলছে না। শুধু হঠাৎ দেখলাম দুপুরবেলা বুলডোজার নিয়ে এসে আমাদের দোকান ভাঙা শুরু হয়ে গেল।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles