RK NEWZ রাজ্যের মন্ত্রিসভা বন্টন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৪১ জন মন্ত্রির দায়িত্ব ভাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়া দীপক বর্মন পেলেন শিক্ষাদপ্তর। সঙ্গে রয়েছে হাউজিং দপ্তর ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তর। অর্থমন্ত্রীর হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছন স্বপন দাশগুপ্ত, স্বাস্থ্যদপ্তর পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তবে নিশীথ প্রামাণিকের দপ্তরের কিছুটা বদল করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দপ্তর পেয়েছেন তিনি। ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তর গিয়েছে ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে। পাশাপাশি তিনি উপভোক্তা দপ্তর পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পরে অবশেষে রাজ্যের নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। স্বরাষ্ট্র দফতর মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতেই রাখছেন। পাশাপাশি, আইন ও বিচার, ভূমি ও ভূমিরাজস্ব এবং বিদ্যুৎ দফতরও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকছে বলে খবর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে পেশায় চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নাম এ দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছেন। বুধবার নিউ টাউনের রামমন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। উপস্থিত ছিলেন শারদ্বতও। সেখানেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে শারদ্বতের নাম জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের নতুন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়। প্রাথমিক ভাবে শোনা যাচ্ছিল, অর্থ দফতর মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকবে। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে বিজেপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন স্বপন দাশগুপ্ত। এর আগে শোনা গিয়েছিল, স্বপন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হবেন এবং স্কুলশিক্ষা যাবে শঙ্কর ঘোষের হাতে। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষা দফতর পাচ্ছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতা তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মণ।
বাম জমানায় শিক্ষা দফতরকে ভাগ করে নানা হাতে দেওয়া হয়েছিল। অনেকের মতে, জোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় সিপিএম-কে তেমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম দিকে সেই ধারা বহাল রাখলেও পরে গোটা শিক্ষা দফতরকে একত্রিত করে দেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসু, দু’জনেই দীর্ঘদিন একা শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। কেন্দ্রে বা বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি সরকারেও গোটা শিক্ষা দফতরকে সাধারণত একত্রিত রাখা হয়। উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা মন্ত্রী করা হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই নীতি থেকে সরে আসা হচ্ছে। গত ১৫ বছরে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিয়োগে বেলাগাম দুর্নীতির কারণে, যে রকম জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে শিক্ষা বিভাগ সামলানো নতুন সরকারের পক্ষে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া, বিজেপি এবং আরএসএস-এর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ-ও মনে করেন যে, রাজ্যের শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম, শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান-সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন দরকার। কারণ, ৩৪ বছরের বাম জমানায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার নানা স্তরে বামপন্থী ঝোঁক তৈরি হয়েছিল। তাঁদের মতে, ১৫ বছরের তৃণমূল জমানাতেও সে ঝোঁক বর্জনের কোনও চেষ্টা হয়নি, বরং ব্রাত্য বসুর মতো ‘বামপন্থী’ মন্ত্রী সেই ধারাই বহাল রেখেছিলেন। তৃণমূল জমানায় পাঠ্যক্রম নির্ধারণের কমিটিতে মার্কামারা বামপন্থী শিক্ষকদেরই যে দাপট ছিল, তা কারও অজানা নয়। ফলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং আরএসএস এ বিষয়ে সহমত যে, শিক্ষা বিভাগের রাশ ‘সংগঠনের ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিত শক্ত নেতাদের হাতে থাকা জরুরি।
এই মাপকাঠিতে স্বপনও উতরে গিয়েছিলেন। শপথের অনেক আগে শিক্ষা বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে বিকাশ ভবনে গিয়েছিলেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং খড়দহের বিধায়ক কল্যাণ চক্রবর্তী। কিন্তু স্বপনকে অর্থমন্ত্রী হিসেবেই বেশি পছন্দ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। শঙ্কর ঘোষকে দেওয়া হচ্ছে পর্যটন দফতর। শিক্ষাবিদ তথা কৃষিবিজ্ঞানী কল্যাণ পাচ্ছেন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানবিদ্যা; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি; তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন দফতরের দায়িত্ব। তাঁদের বদলে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে যাঁদের বাছা হয়েছে, সেই জগন্নাথ এবং দীপকও সঙ্ঘ ও বিজেপির মাপকাঠিতে খুবই মানানসই। দু’জনেই সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক এবং আদর্শগত পরিবারের পুরনো পরিচিত মুখ। ৯ মে ব্রিগেডের শপথ সমারোহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঁচ মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন—দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টু়ডু। তাঁদের সকলেরই দফতর বণ্টন হয়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ। খাদ্য ও সরবরাহ দফতর গিয়েছে অশোকের হাতে। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে ক্ষুদিরাম। তবে অগ্নিমিত্রাকে প্রাথমিক ভাবে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর দেওয়া হলেও এখন সেই দফতর যাচ্ছে মালতী রাভা রায়ের হাতে। একই সঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রকল্প নজরদারি দফতরের দায়িত্বও পাচ্ছেন তুফানগঞ্জের বিধায়ক। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের হাত থেকেও ক্রীড়া এবং যুব বিষয়ক দফতর নিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁকে। সেই সঙ্গে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরও যাচ্ছে তাঁর হাতে। নিশীথ থাকছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে। পরিবহণ এবং শ্রম দফতর পাচ্ছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংহ। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ‘আদি বিজেপি’ নেতা তথা ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক দুধকুমার মণ্ডলের কথা ভাবা হচ্ছে বলে বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে।
শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য শপথ নিয়েছিলেন ১ জুন, লোকভবনে। তাঁদের কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং রাজ্য বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের মতামত জেনেছে দিল্লি। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপি এবং আরএসএস-এর মধ্যে প্রধান সমন্বয়ক যিনি, সেই অরুণ কুমারের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাঁদের মতামত মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিত্বের তালিকায় কয়েকটি রদবদল হলেও হতে পারে।
পূর্ণমন্ত্রী
শুভেন্দু অধিকারী- স্বরাষ্ট্র দপ্তর, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, বিদ্যুুৎ দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর-সহ যেগুলির দায়িত্ব ভাগ করা হয়নি সেগুলি নিজের কাছে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী)
নিশীথ প্রামাণিক- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দপ্তর।
অশোক কীর্তনিয়া- খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর।
দিলীপ ঘোষ-পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, কৃষি বিপণন দপ্তর।
ক্ষুদিরাম টুডু- আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর।
অগ্নিমিত্রা পল- পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।
দীপক বর্মন- স্কুল শিক্ষাদপ্তর, হাউজিং ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তর।
তাপস রায়- শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর।
শংকর ঘোষ- পর্যটন, পরিষদীয় দপ্তর।
মনোজকুমার ওরাওঁ-পরিবেশ ও বন দপ্তর।
অর্জুন সিং- শ্রম ও পর্যটন দপ্তর।
গৌরিশংকর ঘোষ- অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর, লাইব্রেরি দপ্তর।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়- উচ্চশিক্ষা দপ্তর
স্বপন দাশগুপ্ত- অর্থমন্ত্রী।
কল্যাণ চক্রবর্তী- তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তর।
শ্বারদত মুখোপাধ্যায় – স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর।
অরূপকুমার দাস- সেচ দপ্তর।
অজয়কুমার পোদ্দার- জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত দপ্তর।
দুধকুমার মণ্ডল- কৃষি দপ্তর।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী
মালতি রাভা রায়- নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর।
রাজেশ মাহাতো- মৎস্য দপ্তর।
ইন্দ্রনীল খাঁ- ক্রীড়া ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর।
প্রতিমন্ত্রী
জোয়েল মুর্মু- আদিবাসী উন্নয়ন ও সেচ দপ্তর।
হরেকৃষ্ণ বেরা- উচ্চশিক্ষা দপ্তর।
আনন্দময় বর্মন- পরিবহণ ও অর্থ দপ্তর।
অশোক দিন্দা- কৃষি বিপণন ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদপ্তর।
নাদিয়ার চাঁদ বউরি- পূর্ত, অনগ্রসর জাতি কল্যাণদপ্তর।
বিশাল লামা- স্বরাষ্ট্র দপ্তর, সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্ত।
শান্তনু প্রামাণিক- খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর।
মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র- শিল্প দপ্তর, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও বায়ো টেকনলেজি।
উমেশ রায়- পরিষদীয় দপ্তর, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।
পূর্ণিমা চক্রবর্তী- তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, পর্যটন দপ্তর।
কৌশিক চক্রবর্তী- স্কুলশিক্ষা, দমকল দপ্তর।
ভাস্কর ভট্টাচার্য- জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও শ্রম দপ্তর।
দিবাকর ঘরামি- সমবায়, পরিবেশ ও বন দপ্তর।
অমিয় কিস্কু- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষি দপ্তর।
কলিতা মাজি- আবাসন দপ্তর।
গার্গী দাস ঘোষ- বিদ্যুৎ দপ্তর।
বিরাজ বিশ্বাস- আইন দপ্তর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর।
দীপঙ্কর জানা- ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর, সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর।
সুমনা সরকার- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর।





