Wednesday, June 10, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

রাজ্য মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন মুখ্যমন্ত্রীর!‌ নবান্নে এবার গেরুয়া রঙের প্রথম প্রলেপ!‌নিজের হাতে স্বরাষ্ট্র-সহ আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর

RK NEWZ রাজ্যের নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর কোন মন্ত্রীকে কোন দপ্তর দেওয়া হবে, সেটা চূড়ান্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি ঘোষণা না হলেও সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে স্বরাষ্ট্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকছে। তিনি আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর নিজের হাতে রাখছেন। মন্ত্রীদের মধ্যে বিজেপির পুরনো মুখ স্বপন দাশগুপ্ত পেতে পারেন অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব। বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায় পেতে পারেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর। পরিবর্তনের বাংলায় এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দলের দুই অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মুখে ভরসা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব যাচ্ছে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাতে। নবান্নে সূত্রে তেমনটাই খবর। নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে দেওয়া হচ্ছে পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব। শুভেন্দু অধিকারীর আমলে শিক্ষা দপ্তরকে আগের মতো দু’ভাগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে আসছেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলশিক্ষার দায়িত্বে দীপক বর্মণ। বিজেপির আদি মুখ দুধকুমার মণ্ডলের হাতে যাচ্ছে কৃষি দপ্তরের গুরুভার। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ হচ্ছেন পর্যটন মন্ত্রী। বন ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন মনোজ ওঁরাও। দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীদের দপ্তরভাগের কথা ঘোষণা করতে পারে সরকার। গত ৪ মে রাজ্য বিধানসভা ভোটের ফলাফলে, ২৯৪টির মধ্যে ২০৮ আসন পেয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাঁচ মন্ত্রী শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে। ওইদিন শুভেন্দু ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পান দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক। পরে ১ জুন লোকভবনে শপথ নেন আরও ৩৫ জন মন্ত্রী। তারপর গত এক সপ্তাহ কে কোন দপ্তর পাবেন, তাই নিয়েই জল্পনা ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই দপ্তর বণ্টনের কাজটা সম্পন্ন হল।

নবান্নে এবার ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’!‌ গেরুয়া রঙের প্রথম প্রলেপ পড়ল নবান্ন চত্বরে। বাংলায় এবার রং বদলের শুরুয়াত! বদল আসতে পারে নবান্নের রঙে। নীল-সাদা বদলে হতে পারে গেরুয়া-সাদা। মঙ্গলবার গেরুয়া রঙের প্রথম প্রলেপ পড়ল নবান্ন চত্বরে। গোটা নবান্ন ভবন গেরুয়া রঙেতে রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য এখনও অবশ্য পূর্ত দফতর দরপত্র ডাকেনি। তবে নবান্ন সভাগৃহে গেরুয়া ও সাদা রঙ লাগানো শুরু হয়েছে জোরকদমে। অন‌্যান‌্য সরকারি ভবনের রংও সেক্ষেত্রে বদল হবে কিনা সেবিষয়ে সরকারি কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। কারণ নিউ সেক্রেটারিয়েট থেকে খাদ‌্যভবন, পঞ্চায়েত থেকে বিকাশ ভবন–বদল হলে সব দপ্তরেরই রংয়ের বদল হবে। নবান্নের এক আধিকারিকের কথায়, কিছুটা অংশ গেরুয়া করে দেখে নেওয়া হচ্ছে কেমন লাগে দেখতে। তারপর এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। একটা সময়ে রাজ্যে সরকার চলত রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে। সেই ভবনের রং ছিল লাল। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রশাসনিক ভবন সরিয়ে আনা হয় গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে। ১৪ তলার ভবন ‘নবান্ন’ শুরুর দিন থেকেই এর রং নীল-সাদা। প্রাক্তন মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছেমতো রাজ্যের প্রায় সমস্ত প্রশাসনিক ভবনেরই রং বদল হয় সেই সময়। নীল-সাদা রঙে সেজে উঠতে শুরু করে সরকারি অফিস-বিল্ডিং। রাস্তার ডিভাইডারগুলিও নীল-সাদা রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। এবার সেগুলোর রংও বদলাতে পারে। তৃণমূল অতীত। সেই সঙ্গে অতীত নীল-সাদাও। অনেকেই মনে করছিলেন বিজেপি জমানায় রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনগুলির গেরুয়াকরণ সময়ের অপেক্ষা। বাংলায় একটা সময় রং বদলের এই প্রচলন ছিল না বিশেষ। তৃণমূল জমানাতেই সেটা শুরু হয়। নতুন সরকার এসেও নিজেদের সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে মানানসই রং গেরুয়ায় প্রশাসনিক ভবন রাঙাতে সচেষ্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles