RK NEWZ মঞ্চ ছোট্ট হলেও ব্যাপৃতি প্রকাণ্ড। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তখন একের পর এক বোমা ফাটাচ্ছেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী তাপস রায়। ক্রীড়াক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবর তিনি। সামনের সারিতে মাথা নিচু করে অধিষ্ঠিত ‘মদের ক্লাব’ চালানো সিদ্ধহস্ত কর্তা থেকে শুরু করে খেলাধুলোকে ভাঙিয়ে নিজের ব্যবসা পরিপুষ্ট করা কর্তাব্যক্তিরা। আর কিছু করার নেই। এবার জোর করে খেলাধুলোর পদ দখল করে থাকা যাবে না। এতদিন ছলে বলে কৌশলে জবরদস্তি ‘প্রতিদ্বন্দীকে’ পরাজিত করে অ্যাসোসিয়েশন দখল করে রেখেছিলেন সদ্য গ্রেফতার হওয়া ‘স্বরূপ’ ঘনিষ্ঠ কর্তা। তাপস রায়ের ধুন্ধুমার বক্তব্যে তিনি বেশ ইতস্তত। পদ দখলের পর থেকে কোনও কাজই তিনি সাফল্যের সঙ্গে করতে পারেননি। বরং, শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার টলিপাড়ার ‘আতঙ্ক’ স্বরূপ বিশ্বাস ঘনিষ্ঠ হয়ে অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা চুড়ান্ত করে তুলেছিলেন। খোলাধুলার রাজনীতির অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সরব মন্ত্রী তাপস রায় থেকে শুরু করে অশোক দিন্দা প্রত্যেকেই। বেশ চিন্তিত খোলাধুলোর জগতে পা না রাখা শীর্ষে থাকা দুর্নীতিগ্রস্থ একাধিক কর্তাব্যক্তিরা। ক্রীড়াকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। দায়িত্ব নিয়েই এই কথা সাফ জানিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নীশীথ প্রামাণিক। এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলার দুর্দশা নিয়ে সরব হলেন সদ্য প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া অশোক দিন্দা। তাঁর হুঁশিয়ারি, ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নতির জন্য এবার থেকে ক্রীড়াবিদদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রাক্তন তারকা পেসারের প্রতিশ্রুতি, বাংলার বুকে এবার গড়ে উঠবে ২০০ কোটি টাকার ক্রীড়া প্রকল্প। বাংলার প্রাক্তন তারকা অশোক দিন্দা জানান, “বাংলায় ক্রীড়া প্রকল্প গড়তে চেয়েছিল সাই। অন্তত তার জন্য ২৫ একর জমি চাওয়া হয়েছিল তৃণমূল সরকারের আমলে। কিন্তু সেই জমি দেওয়া হয়নি। তৎকালীন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে কথা হয় আমার। উনি জানিয়েছিলেন, বাংলায় জমি সংকটের কারণে সাইয়ের প্রকল্প গড়া যাচ্ছে না।” সদ্য মন্ত্রী হওয়া দিন্দা সেসময়ে বিজেপির বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয় গেরুয়া শিবির। সেবার ময়না কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন প্রাক্তন পেসার। দিন্দা জানিয়েছেন, তিনি বিধায়ক হওয়ার পরের বছরই জানতে পারেন সাইয়ের আটকে থাকা প্রকল্পের কথা। বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সাক্ষাৎ করেছিলেন অনুরাগের সঙ্গে। জানতে পারেন সরকারের জমি না দেওয়ার কথা। সেই বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় সরবও হন দিন্দা। কিন্তু তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়ার হুমকি শুনতে হয়েছে বলে জানান বাংলার প্রাক্তন তারকা। দিন্দা বলেন, “আমাকে বলা হল, আমার কথার সপক্ষে যথাযথ নথি দেখাতে না পারলে সাসপেন্ড করা হবে।” ২০২২ সালে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের নথিপত্র বিধানসভায় পেশ করেছেন বলেও জানান দিন্দা। কিন্তু সেই নথিতে ২০০ কোটি বাজেটের উল্লেখ ছিল না বলে জানায় তৃণমূল সরকার। সেই কারণেই সতর্ক করা হয় দিন্দাকে। তবে এবার সাইয়ের প্রকল্প তৈরি হবে বাংলর বুকে, এমনটাই ঘোষণা করেছেন তিনি। কলকাতা, বর্ধমান বা পূর্ব মেদিনীপুরে তৈরি হতে পারে এই পরিকাঠামো। বর্তমানে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে ইতিমধ্যেই এই নিয়ে আবেদনও করে দিন্দার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী দিনে ক্রীড়াক্ষেত্রের পরিচালনায় থাকবেন ক্রীড়াব্যক্তিত্বরাই।

ময়দান সাথী’র অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল ফুটবল দলকে, পর্বতারোহীদের সাঁতারু সায়নীকে, ময়দানের রেফারী ও অন্যান্য ফুটবলারদেরও। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী তাপস রায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সম্প্রতি কলকাতার ময়দান ‘সাথী’র অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি, প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র, রাজ্যের নতুন মন্ত্রী তাপস রায়, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও রাজ্যের সম্ভাব্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্দা, প্রাক্তন ফুটবলার কম্পটন দত্ত, মানস ভট্টাচার্য্য, প্রশান্ত ব্যানার্জ্জী, মেহেতাব হোসেন, অলোক মুখার্জ্জী, কোচ সঞ্জয় সেন, অনীত ঘোষ, মোহনবাগান সভাপতি দেবাশীষ দত্তও উপস্থিত ছিলেন এবং মঞ্চে কল্যাণ চৌবের স্ত্রী সোহিনী মিত্র চৌবেও ছিলেন। অনুষ্ঠানে আইএসএল সঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এবং খেলার মাঠে রাজনীতিকরণ না করার বিষয়ে সরব হন কল্যাণ চৌবে। ‘ময়দান ও সাথী’ নামক অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী তাপস রায় ও কল্যাণ চৌবে পরস্পরের সৌজন্য বিনিময় শেষে ফুটবলের সার্বিক উন্নতি এবং ময়দানে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ নিয়ে সরব হন কল্যাণ চৌবে। মন্ত্রী তাপস রায়ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্রীড়ার উন্নয়নে তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। কলকাতা ময়দানের সকল স্তরের ক্রীড়া সংগঠন ও ক্রীড়াপ্রেমীদের নিয়ে তৈরী সংগঠনের অন্যতম প্রধান কর্তা সৌরভ পাল বলেন বাংলার ফুটবলের উন্নতি ও বাংলার খেলাধুলার অভাব অভিযোগ নজরে রাখাই এই সংগঠনের প্রধান ও মূল কাজ। ময়দানের সকল স্তরের ক্রীড়া উৎসাহী মানুষকে একত্রিত করে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে প্রশমতি করাই একমাত্র লক্ষ সাদার্ন সমিতি ফুটবল কর্তা সৌরভের।





