Friday, May 29, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

লক্ষ্মীর সঙ্গে কাজ করার সময় স্বাধীনতা পেত না!‌ ওকে নাকি কাজ করতে দেওয়া হত না, বললেন সৌরাশিষ

RK NEWZ লক্ষ্মীর সঙ্গে কাজ করার সময় স্বাধীনতা পেত না। ওকে নাকি কাজ করতে দেওয়া হত না। বিস্ফোরক সৌরাশিষ লাহিড়ি। বঙ্গ ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘ ৩৫ বছরের সম্পর্ক সৌরাশিস লাহিড়ীর। তারপর তাঁকে যেভাবে বাংলার কোচিং স্টাফ থেকে ছেঁটে ফেলা হল, মেনে নিতে পারছেন না তিনি। যার পর রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। শোনা গেল, সিএবি কোচ নিয়োগের জন‌্য যে কমিটি তৈরি করেছিল, তাদের সৌরাশিসের ইন্টারভিউ পছন্দ হয়নি। সৌরাশিস সেই বৈঠকে কোনও প্রেজেন্টেশন দেননি বলেও বলা হচ্ছে। সৌরাশিসের বক্তব‌্য, সেই ইন্টারভিউ পর্বে প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কোনও ব‌্যবস্থা ছিল না। কোচ নিয়োগের ওই কমিটির তিনজন সদস‌্য ছিলেন। অরুণ লাল, দেবাং গান্ধী আর কল‌্যাণ চৌধুরী। সৌরাশিসের অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় দেবাংকে। প্রশ্ন করা হয়, যদি প্রেজেন্টেশনের ব‌্যবস্থা না থাকে, তাহলে কেউ কীভাবে সেটা ম‌্যানেজ করবে? দেবাং বলেন, “সৌরাশিস ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল শুধু একটা ডায়েরি নিয়ে আর ফোন নিয়ে। ওর আগে আরও তিনজন ইন্টারভিউ দিয়েছিল। তারা নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। ল‌্যাপটপ নিয়ে আসে। নিজেদের কী প্ল‌্যানিং, সেটা সুস্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়। আপনি চাকরির জন‌্য ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, সেখানে বিনা প্রস্তুতিতে চলে যাবেন? সেখানে তো অনেক কিছু না-ও থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যখন ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, সেই প্রস্তুতি আপনাকেই নিয়ে যেতে হবে। আমরা সৌরাশিসের জায়গায় কাকে কোচ হিসাবে নিয়ে এসেছি? মনোজ তিওয়ারিকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যার দশ হাজারের উপর রান রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। বাংলা ক্রিকেটে মনোজের অবদান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন? সৌরাশিসকে তাহলে কী বলতে চাইছে? বাংলা ক্রিকেটে ওর অবদান শুধু রয়েছে। মনোজের কোনও অবদান নেই? প্রশ্ন উঠত, যদি আমরা অযোগ‌্য কাউকে কোচ নিয়োগ করতাম। সেটা তো হয়নি। সিনিয়র থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব ষোলো পর্যন্ত কোচের তালিকা দেখুন। সিনিয়রে লক্ষ্মীরতন শুক্লা, অনূর্ধ্ব তেইশে ঋদ্ধিমান সাহা, অনূর্ধ্ব উনিশে মনোজ তিওয়ারি। যাদের সবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনূর্ধ্ব ষোলোতে অনুষ্টুপ মজুমদারকে কোচ করা হয়েছে। অনুষ্টুপ ভারতীয় এ দলের হয়ে খেলেছে। আগে কখনও এত ভালো বাংলার কোচিং প‌্যানেল হয়েছে? পুরোটাই হয়েছে স্বচ্ছভাবে। একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে। কোচেস কমিটি তৈরি হয়েছিল। বাংলা ক্রিকেটে যা আগে কখনও হয়নি। অরুণ লালের কোচিংয়েও বাংলা ফাইনাল খেলেছিল। তার পরের বছর ওঁকে সরে যেতে হয়েছিল। এটাই নিয়ম। কেউ সারাজীবন কোনও পদে থাকতে পারে না। আমরা সাফল‌্যকে দু’ভাবে বিচার করেছি। প্রথমত, টিমের পারফরম‌্যান্স। টিম ক’টা ট্রফি জিতেছে। সৌরাশিসের কোচিংয়ে মাত্র একটা ট্রফি পেয়েছে বাংলা। দ্বিতীয়ত, ও যে টিমের কোচ ছিল, সেখান থেকে পরবর্তী পর্যায়ে ক’জন ক্রিকেটার গিয়েছে। এমন হতেই পারে যে টিম ট্রফি পেল না। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে সেই টিমের অনেক ক্রিকেটার খেলল। অর্থাৎ সাপ্লাই লাইন তৈরি হল। সৌরাশিসের কোচিংয়ে সেটাও হয়নি। দু’একজন ক্রিকেটার ছাড়া কেউ আর পরবর্তী পর্যায়ে যেতে পারেনি।” দেবাং এরপর আরও এক মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “ইন্টারভিউ পর্বে সৌরাশিস বলেছিল, যখন অরুণ লালের সঙ্গে সিনিয়র টিমের কোচ ছিল, তখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত। লক্ষ্মীর সঙ্গে কাজ করার সময় স্বাধীনতা পেত না। ওকে নাকি কাজ করতে দেওয়া হত না।” সৌরাশিসের বক্তব‌্য শোনার পর রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন অরুণ লাল। তিনি বললেন, “সৌরাশিস আমার খুব কাছের। ওকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। ও যে কথাগুলো বলেছে, সেটা প্রচণ্ড দুর্ভাগ্যের। একটা জিনিস ওকে বুঝতে হবে, কেউ চিরকাল একই জায়গায় থাকে না। সবসময় বদলের প্রয়োজন রয়েছে। সব রাজ্যেই কোচ বদল হয়। ওকে এই অ‌্যাসোসিয়েশন অনেক সুযোগ দিয়েছে। সাত-আট বছর সুযোগ পেয়েছে। তাহলে? ওকে যদি কোচ করা হত, তাহলে কি এই কথাগুলো বলত? দায়িত্ব পেলে অ‌্যাসোসিয়শন ভালো। আর সুযোগ না পেলেই অ‌্যাসোসিয়েশন খারাপ হয়ে যায়? এটা সুবিধাবাদীর মতো কথা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles