Sunday, May 17, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শুভমনদের উড়িয়ে প্লে-অফের দৌড়ে কেকেআর!‌ ইডেন গার্ডেন্সে ফিরে স্বমহিমায় কলকাতা নাইট রাইডার্স

কলকাতা নাইট রাইডার্স: ২৪৭/২ (ফিন ৯৩, অঙ্গকৃষ ৮২*, সিরাজ ৫০/১)
গুজরাট টাইটান্স: ২১৮/৪ (গিল ৮৫, বাটলার ৫৭, নারিন ২৯/২)
২৯ রানে জয়ী কেকেআর

RK NEWZ জঘন্য বোলিং-ফিল্ডিং গুজরাতের। ইডেনে গুজরাট টাইটান্সকে ২৯ হারিয়ে প্লেঅফের আশা জাগিয়ে রাখল নাইট রাইডার্স। প্রথমে ব্যাট করে ‘ফ্যানটাস্টিক’ ফিন অ্যালেন ও বিধ্বংসী অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর ইনিংসে ভর করে ২৪৭ রান তোলে কেকেআর। জবাবে শুভমান গিলদের ইনিংস থেমে যায় ২১৮ রানে। যথেষ্ট লড়াই দিলেও শেষরক্ষা হল না গুজরাটের। বোলাররা দেদার রান বিলোলেন ঠিকই, তবে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পয়েন্ট ঘরে তুলে নিলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। ১২ ম্যাচে কেকেআরের পয়েন্ট দাঁড়াল ১১। সপ্তম স্থানে উঠে এসে প্লেঅফের লড়াইয়ে বেঁচে রইল নাইটরা। ইডেন গার্ডেন্সে ফিরে স্বমহিমায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে তারা টিকে থাকল প্লে-অফের দৌড়ে।

প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর তুলেছিল ২৪৭/২। জবাবে গুজরাত থেমে গেল ২১৮/৩ স্কোরে। ইডেন গার্ডেন্সে ফিরে স্বমহিমায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে তারা টিকে থাকল প্লে-অফের দৌড়ে। বাকি দু’টি ম্যাচেও জিততে হবে তাদের। তবে গুজরাতের বিরুদ্ধে দলের ক্ষুধার্ত মানসিকতার পরিচয় পাওয়া গেল। তিন ব্যাটার জয় এনে দিলেন কেকেআরকে। ফিন অ্যালেন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট জেতাল কেকেআরকে। প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর তুলেছিল ২৪৭/২। জবাবে গুজরাত থেমে গেল ২১৮/৩ স্কোরে। জিতল ২৯ রানে। ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট হল কেকেআরের। দিল্লিকে টপকে উঠে এল সপ্তম স্থানে। ম্যাচের আগে দুই বিশ্লেষণ অইন মর্গ্যান এবং অ্যারন ফিঞ্চ জানিয়েছিলেন, এই পিচে ১৮০-১৯০ উঠলেই লড়াকু স্কোর হবে। শুরুতে কেকেআরের ব্যাটিং দেখে তেমনই মনে হয়েছিল। কিন্তু অ্যালেন হাত খুলে মারা শুরু করতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। রঘুবংশী এবং গ্রিন তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন। গুজরাতও লড়াই ছাড়েনি। শুভমন গিল, জস বাটলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খারাপ বোলিং এবং ফিল্ডিং জিততে দিল না গুজরাতকে। ইডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতরান ছিল অ্যালেনের। একই মাঠে এ দিন আবার শতরানের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। নজির গড়ে ফেলার সামনেও ছিলেন তিনি। অল্পের জন্য তা হয়নি। ৯৩ রানে ফিরতে হয় তাঁকে। কিন্তু অ্যালেন যে খেলা দেখালেন তাতে বোঝা গেল, তাঁর উপরে ভরসা রেখে ভুল করেনি কেকেআর। ঠিক আট দিন আগে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো শতরান করেছিলেন। আবার একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস এল তাঁর ব্যাট থেকে। নিজের ইনিংসে ১০টি ছয় মেরেছেন কিউয়ি ব্যাটার। পেসার হোক বা স্পিনার, কাউকে ছাড়েননি। অবলীলায় মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন। অফ ফর্ম থাকায় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। ফেরার পর আর চেনাই যাচ্ছে না তাঁকে। কেকেআরের ইনিংসে এই দুই ব্যাটারেরা কথা বলতেই হবে। গুজরাতের বোলারদের আত্মবিশ্বাসে যদি চিড় ধরানোর কাজটা করেন অ্যালেন, তা হলে তা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কাজটা করেছেন রঘুবংশী এবং গ্রিন। অ্যালেন ফেরার সময় কেকেআরের স্কোর ছিল ১৩৯। তখনও আট ওভারের উপর খেলা বাকি ছিল। অথচ রান রেট একটুও কমেনি কেকেআরের। সৌজন্যে তরুণ রঘুবংশী এবং কেকেআরের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার গ্রিন। প্রথম জন চারটি চার এবং সাতটি ছয় মেরে ৪৪ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকলেন। গ্রিন তিনটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে করলেন ২৮ বলে ৫২। দুই ব্যাটারের ১০৮ রানের জুটি ম্যাচে কেকেআরের জয় নিশ্চিত করে দেয়। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে কেকেআরের বিরুদ্ধে ইডেনে খেলতে এসেছিল গুজরাত। কী ভাবে তারা এতগুলি ম্যাচ জিতল তা নিয়ে বিস্ময় জাগতে পারে। শনিবার যে ফিল্ডিংয়ের নমুনা তারা দেখাল তা ভাবাই যায় না। শতরানের মুখে আউট হওয়া অ্যালেনের ক্যাচ দু’বার ফস্কেছে তারা। তিন ওভারের মাথায় জেসন হোল্ডার ঝাঁপিয়ে এক হাতে ক্যাচ নিতে গিয়ে ফস্কান। সপ্তম ওভারে লং অনে সিরাজের হাতে সহজতম ক্যাচ উড়ে এসেছিল। তিনি বল ভাল করে ধরতেই পারেননি। ১৬তম ওভারে ক্যাচ পড়ে ক্যামেরন গ্রিনের। রশিদ খানকে স্লগ সুইপ মেরেছিলেন গ্রিন। শেষ মুহূর্তে আর্শাদ খানের হাত থেকে বল পিছলে বেরিয়ে চার হয়ে যায়। ১৮তম ওভারে ক্যাচ ফেলার তালিকায় যোগ দেন ওয়াশিংটন সুন্দর। রঘুবংশীর মারা শটে ঠিক জায়গায় পৌঁছেও গিয়েছিলেন। হাঁটু মুড়ে ক্যাচ নিতে গিয়ে হাত থেকে বল গলে যায়। পাঁচটি ম্যাচে বিপক্ষের রান ২০০-র ধারেকাছে যেতে দেয়নি গুজরাত। আগের ম্যাচেই হায়দরাবাদকে অলআউট করেছিল ৮৬ রানে।

কলকাতার বিরুদ্ধে গুজরাত দেখাল তারা কতটা খারাপ বল করতে পারে। প্রথম দিকে মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডাদের বোলিং বেশ বেগ দিয়েছিল কলকাতাকে। এক বার অ্যালেন মার শুরু করতেই দিশেহারা হয়ে গেলেন গুজরাতের বোলারেরা। পেসার থেকে স্পিনার, কারও বল ঠিক জায়গায় পড়ল না। ব্যাটারদের চাপে রাখার কৌশল ভুলেই গিয়েছিলেন রাবাডা, রশিদ খানেরা। একমাত্র হোল্ডার বাদে বাকি পাঁচ বোলারে ওভারে ১০-এর বেশি রান দিয়েছেন। একেবারেই সাফল্য পাননি রশিদ। কোনও ঝাঁজই ছিল না গুজরাতের বোলিংয়ে। এর পুরোপুরি ফায়দা তুলেছেন কেকেআর ব্যাটারেরা। নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন শুভমন। ইডেনে অনেক স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন কেকেআরের জার্সিতে। পুরনো দলের বিপক্ষে গুজরাতকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য এতটাই বেশি ছিল যে কিছু করতে পারেননি। এমনকি জস বাটলার এবং হাতে চোট লাগা সাই সুদর্শনের প্রয়াসও কাজে লাগেনি। ব্যাটারেরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেও বোলারদের ব্যর্থতায় ডুবল গুজরাত। সুনীল নারাইন ৩৭ বছরেও যে বলটা করছেন তিনি তা বেগ দেবে যে কোনও তরুণ বোলারকে। ইডেনে মার খেয়েছেন রশিদ, সাই কিশোরের মতো স্পিনার। সেখানে নারাইন ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ২৯ রান। নিলেন দু’টি উইকেটও, যার মধ্যে একটি শুভমনের। কেকেআরের হয়ে এ দিন ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। মনে রাখার মতো বল করলেন তিনি। ব্যাট করার ফাঁকে প্রশংসা জানিয়েছেন খোদ শুভমনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles