Sunday, May 17, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের পর থেকে সাফল্যের খতিয়ান!‌ পদ্মশিবির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পরে প্রথম এক সপ্তাহে খতিয়ান

RK NEWZ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের পর থেকে সাফল্যের খতিয়ানে তুলে ধরেছে পদ্মশিবির। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র থেকে কী কী পেয়েছে পশ্চিমবাংলা, সেই তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। শপথগ্রহণ হয়েছিল ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীতে। সরকার গঠনের পর প্রথম এক সপ্তাহে কতটা কাজ হল পশ্চিমবাংলায়, এ বার তার খতিয়ান তুলে ধরল পদ্মশিবির। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ‘উল্লেখযোগ্য’ গ্রেফতারির কথাও তুলে ধরেছে রাজ্যের শাসকদল। শনিবার সরকার গঠনের পর সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই বৈঠকেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত। আয়ুষ্মান ভারত-সহ অন্য কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মন্ত্রিসভার প্রথমে বৈঠকে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তগুলিকে নতুন সরকারের সাফল্যের খতিয়ানে তুলে ধরেছে পদ্মশিবির। নির্বাচনের প্রচার পর্ব থেকে বিজেপি বলে আসছে, তারা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য ভাতা মাসে ৩০০০ টাকা করে দেবে। আগামী ১ জুন থেকে সেই প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে সরকারি বাসে সফর করতেও মহিলাদের কোনও টাকা লাগবে না ওই দিন থেকে। সম্প্রতি প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্য ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০০০ টাকা করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ভাতাও বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানা যায়। বিজেপির দাবি, প্রতিবন্ধী ভাতাও দ্বিগুণ হচ্ছে। এই দুই ভাতাও ১ জুন থেকেই চালু হয়ে যাবে বলে দাবি বিজেপির।

বিজেপি আরও জানিয়েছে, ২০১১ সালের পর থেকে হওয়া সব জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়েও নির্দেশিকা জারি করেছে। দুর্নীতির মামলায় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রেও সিবিআই-কে সবুজসঙ্কেত দিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। আলু বা অন্য কৃষিজ পণ্য ভিন্‌রাজ্যে বিক্রি করার ক্ষেত্রেও আর কড়াকড়ি থাকবে না, সে কথাও জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, ‘ডব্লিউবিসিএস এগ্‌জিকিউটিভ’ পরীক্ষা দীর্ঘ দিন থমকে ছিল। নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পরে ওই পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে বিভিন্ন রাজনীতিকের সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বদল এসেছে। বিজেপির দাবি, নতুন সরকার আসার পরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ‘নন-ক্যাটেগরাইজ়ড’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এক জন সাংসদের যেটুকু সরকারি নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে এখন সেটুকুই পান, তা-ও উল্লেখ করেছে বিজেপি। পাশাপাশি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন গ্রেফতারি হয়েছে। সেই সব গ্রেফতারির কথাও উল্লেখ করেছে বিজেপি। তালিকায় কলকাতায় কাশীপুর থেকে ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রীর গ্রেফতারির কথা যেমন উল্লেখ রয়েছে, তেমনই ‘বাংলা পক্ষ’-র প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে পুরনিয়োগ মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি, কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহের গ্রেফতারির কথাও উল্লেখ করেছে বিজেপি।

দীর্ঘ দিন আটকে থাকার পরে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজও শুরু হয়েছে। মেট্রোর এই কাজে পূর্বতন সরকার ও পুলিশের অনুমতি পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলেছে। অবশেষে সেই কাজ শুরু হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী শুক্রবার এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে। এ বার বিজেপিও রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম এক সপ্তাহের কাজের খতিয়ানে জুড়ে দিল চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পকে।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরে দিল্লি থেকে কী কী পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, তা-ও তুলে ধরেছে বিজেপি। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিজেপি বলে এসেছে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের বিকাশে আরও গতি আসবে হবে। গত শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি পাঠিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রাজ্যে তিনটি রেল প্রকল্পে ছাড়পত্রের কথা জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে ডবল লাইন নির্মাণের একটি প্রকল্পে সবুজসঙ্কেত মিলেছে। শালবনি থেকে আদ্রা পর্যন্ত ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে তৃতীয় লাইন নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত সমীক্ষা বা ডিপিআর তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রেল। সাঁতরাগাছি থেকে খড়্গপুর হয়ে জয়পুর পর্যন্ত বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যে তিন রেল প্রকল্পে কেন্দ্রের এই ছাড়পত্রকে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্য হিসাবেই দেখছে বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর শনিবার শুভেন্দুর প্রথম জেলাসফর ছিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে। যেখানকার সাংসদ অভিষেক। আগামী ২১ মে ফলতার পুনর্নির্বাচন উপলক্ষে সভা করেন শুভেন্দু। তার আগে ডায়মন্ড হারবারে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারেন। সেখান থেকে ঘোষণা করেন, মমতার তৈরি করার পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড শনিবার থেকেই ভেঙে দেওয়া হল। সভায় গিয়ে মমতা এবং অভিষেককে এক পঙ্‌ক্তিতে ফেলে আক্রমণ করেন দু’টি পৃথক ইস্যুতে। আরজি করের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস-কে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার ফলতার সভাতেও সেই প্রসঙ্গ টানেন এবং আরও তীক্ষ্ণ ভাবে তিন বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করেন। শুভেন্দু বলেন, ‘‘অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় এবং কথায় যাঁরা যাঁরা অত্যাচার করেছেন, প্রমাণ লোপাট করেছেন, অভয়ার মাকে আগের হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যাঁরা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, সেই তিন আইপিএস সাসপেন্ড হয়েছেন। এ জেলাতেও ছাড়া হবে না। বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে প্রকাশ্যে মেরেছিল। (তাই) বারুইপুরের আইসি সাসপেন্ড! ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীর উপর অত্যাচার করেছিল। (তাই) আইসি অমিত হাতি সাসপেন্ড!’’

শুভেন্দু জানিয়েছেন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অফিসারদের তিনি কল রেকর্ডস্, হোয়াটস্‌অ্যাপ চ্যাট জমা দিতে বলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে কারা কারা ফলতা, ডায়মন্ড হারবার তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অত্যাচার করেছেন, সব বার করব।’’ সেই সময় আবার আরজি কর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তদের কল রেকর্ড, চ্যাট যখন তদন্তকারীর সামনে আনবেন, সে দিন দেখতে পাবেন, আগের সরকারের কুকীর্তি। কত নীচে নেমেছিলেন!’’

মুখ্যমন্ত্রী কারও নাম না-করে জানান, তিনি অভিষেকের সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারও তদন্ত হবে। তাঁর কথায়, ‘‘মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল প্রপার্টির লিস্ট আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডসে্‌র ২৪টি প্রপার্টি (সম্পত্তি) কলকাতায়। আমতলায় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) প্রাসাদের মতো অফিস! …হিসাব হবে।’’ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বার বার আলোচনায় উঠে এসেছে ‘লিপস্‌ অ্যান্ড বাউন্ডস্’ নামক সংস্থাটি। ইডির অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে কিংবা সাদা করা হয়েছে। বার বার সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। কয়েক বার ইডির তলবে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি।আরজি করে ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় ফের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়েও হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্ঘোষ, দুই ‘কাণ্ডেরই’ শেষ দেখে ছাড়বেন। তাঁর অভিযোগ, আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ, খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল পূর্বতন সরকার। অন্য দিকে, তৃণমূল সরকারে থাকার সুবাদে হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে সাংসদ অভিষেকের। শুধু সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ করে থেমে থাকেননি শুভেন্দু। অভিষেকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আবহে সন্ত্রাস, পুলিশকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের হয়রানির অভিযোগও করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর জায়গায় জায়গায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ করছেন অভিষেক। তার পাল্টা হিসাবে শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘কত জন ঘরছাড়া আছে দেখান আমাকে।’’ শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাক্যালাপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বলি না, চার তারিখ ফলঘোষণার দিন দুপুর ১২টার পর ডিজে বাজবে। আমাদের রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘অভিনন্দন যাত্রা করুন। অনিচ্ছুকের গায়ে আবির দেবেন না।’ এটাই বিজেপি।’’ অভিষেককে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু এ-ও বলেন, ‘‘আপনারা কী করেছেন আমরা জানি না? পুলিশকে ব্যবহার করে ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর আমার সভায় আসা লোকগুলোকে কী ভাবে মেরেছিলেন! আমি ভুলিনি।’’ শ্লেষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘পৃথিবীটা গোল। চিরদিনই কাহারো সমান নাহি যায়। ভুলব কী করে এগুলো! মানুষ তো শুধু চেয়ারে বসিয়ে দেয়নি। মানুষ বিচার চেয়েছে। এটা শুধু নামের বদল নয়, রঙের বদল নয়, এটা দ্বিতীয় স্বাধীনতা বাংলার, গোটা বাংলা নাচছে।’’

অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১০ বছর ফলতার মানুষজন লোকসভা, বিধানসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ বার তার হিসাব হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ফলতায় আসার পথে কুড়ি জায়গায় দাঁড়িয়েছি। একটাই প্রশ্ন ছিল আমার। কত দিন ভোট দিতে পারেননি? সকলে বলল, ‘ভাইপো যত দিন এসেছে তত দিন ভোট দিতে পারিনি।’’’ শুভেন্দুর ব্যাখ্যা, ফলতার নির্বাচন নিছক বিধায়ক নির্বাচিত করার জন্য নয়, সংবিধান অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা। তিনি সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের উদ্দেশে জানান, ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ (কুখ্যাত অপরাধী) বলে ঘোষণা করেছিল মানবাধিকার কমিশন। তার মধ্যে জাহাঙ্গির ছিলেন। ভোট মিটলে তাঁর ‘ব্যবস্থা’ করার দায়িত্ব তিনি নিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘পুলিশকে বলেছি, কাল থেকে খাতা-পেন নিয়ে বসুন। গত ৫ বছর বা তারও আগে যত অত্যাচার হয়েছে, অভিযোগ করতে এলে নিতে হবে। এফআইআর করতে হবে। কোনও গুন্ডা বাড়িতে থাকবে না। পুলিশকে বলেছি, প্রধানমন্ত্রী আবাসের বাড়ি, আমফানের টাকা, কৃষকবন্ধু, বার্ধক্যভাতা, ১০০ দিনের কাজ— ঘুষ যদি নিয়ে থাকে সেই পঞ্চুবাবুদের জেলে ঢোকাবেন। মহিলাদের উপর শারীরিক নির্যাতনকারীরা যদি এখনও জয় বাংলা বলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদেরও ছাড়া হবে না।’’

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের বাকি আর পাঁচ দিন। শনিবার সেখানে সভা করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জেতানোর আবেদনের পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে তোপ দাগলেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’’ অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গির গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নাম হয়ে উঠেছেন। বিধানসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ‘বনাম’ তৃণমূল প্রার্থীর ঠান্ডা লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্য। এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়পাল উত্তরপ্রদেশের আইপিএস। পুলিশকর্তা হিসাবে তাঁর ইমেজের জন্য বড়পর্দার চরিত্র ‘সিংহম’-এর সঙ্গে তাঁকে তুলনা করা হয় আদিত্যনাথের রাজ্যে। সেই অজয়পালের উদ্দেশে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি।’’

ভোট মিটে যাওয়ার পর বিরোধীরা অভিযোগ করেন, ফলতা বিধানসভার বেশ কয়েকটি বুথে সুষ্ঠু ভোট হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আগামী ২১ মে আবার ফলতায় ভোট। বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে শনিবার সেই ফলতাতেই সভা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ ঘোষণা করেছিল মানবাধিকার কমিশন। তার মধ্যে জাহাঙ্গির এক জন। তিনি কটাক্ষ করে সভা থেকে বলেন, ‘‘ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম! যত অভিযোগ করেছে সাধারণ নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না।’’ বিজেপি যখন বিরোধীর আসনে ছিল, তাদের অভিযোগ ছিল, ফলতা তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বেই সন্ত্রাস-মারামারি, তোলাবাজি, জোর করে বুথ দখলের বহু ঘটনা ঘটে। বিরোধী রাজনীতি করা লোকজন তো বটেই, বহু সাধারণ মানুষ নাকি জাহাঙ্গিরের দাপটে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাহাঙ্গির অবশ্য সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন। শুধু ফলতা থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকসভার তৃণমূল প্রার্থীকে দেড় লক্ষ লিড দেওয়ার প্রধান চরিত্র শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খুলে জানিয়েছেন ভোটের জন্য তিনি প্রস্তুত। জাহাঙ্গিরের দাবি, তৃণমূল আমলে সমগ্র ফলতায় তিনি কী কাজ করেছেন, সেই জবাব সর্বসাধারণ দেবে।

এর মধ্যে শনিবার ফলতার জন্য ‘স্পেশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ’ রয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর ফলতা তথা ডায়মন্ড হারবারের মানুষ নিজের ইচ্ছায় ভোটদান করতে পারেননি। এ বার ভোট হবে সুষ্ঠু এবং অবাধ। ফলতাবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘এই পুনর্নির্বাচনে শুধু দেবাংশুকে জেতানো নয়, নিছক একটি বিধানসভার ভোট নয়। এই বিধানসভার মোট ভোটার ২ লক্ষ ২৫ হাজার। এক লক্ষ ভোটে দেবাংশুকে জিতে পাঠাবেন।’’ সেই সঙ্গে জেলা পুলিশকে কঠোর হতে বার্তা দিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু। পূর্বতন তৃণমূল সরকার এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে বিঁধে পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘বিগত বছরগুলিতে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় প্রচুর অন্যায় ও বেআইনি কাজ হয়েছে। রাজনৈতিক চাপে পড়ে আপনাদেরই সেই সব কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানকার সাংসদ নিজে ফোন করে করে পুলিশকে দিয়ে দলদাসের মতো কাজ করাতেন, তার সব প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু সেই দিন এ বার শেষ। এখন থেকে আপনাদের আমি ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিলাম। কোনও তাঁবেদারি না করে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles