RK NEWZ একমাত্র সমীক্ষা! হুবহু মিলল আর কে নিউজে। RK NEWZ-এর সমীক্ষার সঙ্গে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফল এক্কেবারে অদ্ভূত মিল। সকাল আটটা থেকে গণনা শুরু হয়। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হতেই দেখা যায় বিজেপির প্রার্থীরা একাধিক জায়গায় এগিয়ে যায়। উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় বিজেপির প্রার্থীরা এগিয়ে যেতে থাকে। ক্রমে সেই ট্রেন্ড প্রায় গোটা বাংলাতেই দেখা যায়। খাস কলকাতায় বিজেপি একাধিক আসনে এগিয়ে যেতে থাকে। এরপর খোলা হয় ইভিএম। দেখা যায় বিজেপি প্রার্থীরা দিকে দিকে মার্জিন বাড়তে থাকে। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া-সহ উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ আসনে বিজেপি প্রার্থীরা একাধিক আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান। কলকাতাতেও বিজেপির ভালো ফলে আসায়। শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও গেরুয়া আবির উড়তে শুরু করেছে। নন্দীগ্রামে আট হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে আছেন। তবে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনেও তাঁর জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।

দিকে দিকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। শুরু হয়ে গিয়েছে গেরুয়া আবির খেলা। লাড্ডূ, গেরুয়া রঙের রসগোল্লা বিলি। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী। বহু জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সেই তথ্য সামনে আসতেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের প্রবল উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল। সোমবার সকাল থেকে দিল্লির কন্ট্রোল রুমে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁকে গণনার ‘মিনিট টু মিনিট’ রিপোর্ট সল্টলেক পার্টি অফিসের কন্ট্রোল রুমে থেকে পাঠানো হচ্ছে বলে খবর। এবারের নির্বাচন বিজেপির কাছে প্রেস্টেজিয়াস ফাইট ছিল। প্রায় ১৪ দিন রাজ্যে পড়ে থেকে একের পর এক সভা, রোড শো করেছেন অমিত শাহ। শুধু তাই নয়, দফায় দফায় সমস্ত স্তরের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন তিনি। এবার সবার নজর ফলাফলের দিকে। চাপা টেনশন। প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তনের পক্ষে মানুষের রায় গোটা বাংলার নজর রয়েছে। রাজধানীতে বসে নজর রাখছেন মোদির ডেপুটিও। জানা গিয়েছে, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এদিন কলকাতাতেই রয়েছেন। সল্টলেকের কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন তাঁরা। সেখান থেকেই ২৯৩ টি আসনে গণনার গতিপ্রকৃতি, কোন আসনে বা কত আসন এগিয়ে দলের প্রার্থীরা, সে সব খবর শাহকে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা পাঠাচ্ছেন বলে খবর। গত কয়েকদিনে ভোট গণনার প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় স্তরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মালদহ, শিলিগুড়ি, কলকাতায় আলাদা আলাদা বৈঠক করেন রাজ্যের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। চার ধাপে ভাগ করে জেলা সভাপতি, প্রার্থী, কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠক চলে। গণনার দিন দলের সব প্রার্থী থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের নেতা ও কর্মীদের এবং কাউন্টিং এজেন্টদের কী ভূমিকা থাকবে তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেন বনশলরা। এমনকী প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, নন্দীগ্রামে ১৮ রাউন্ড গণনা হবে। তাঁর কথায়,“ভেবেছিলাম ১১০০ পাব, কিন্তু পেয়েছি ৩০০০। প্রায় তিন গুণ বেশি।” শুভেন্দুর কথায়, “এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে হিন্দু EVM বিজেপির। মুসলিম EVM তৃণমূলের।” তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “এবার আর একচেটিয়া মুসলিম ভোট তৃণমূল পায়নি। মালদহ, মুর্শিদাবাদে বহু জায়গায় মুসলিম ভোট কংগ্রেসে গিয়েছে।” যদিও এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বহরমপুরে পিছিয়ে রয়েছেন অধীর চৌধুরী। আত্মপত্যয়ী শুভেন্দু বলেন, “এখন পর্যন্ত ১৬৫ টা বিজেপি এগিয়ে। নন্দীগ্রামে আমার লিড রয়েছে প্রায় ৭ হাজার, ভবানীপুরে প্রথম রাউন্ড ছিল মুসলিম এলাকায়, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড। আমি প্রায় ২০০০ ভোটে পিছিয়ে ছিলাম। সেকেন্ড রাউন্ড ছিল হিন্দু এলাকা, আমি ২০০০ কভার করে ২২০০ তে লিড করছে।” গণনা ট্রেন্ড দেখে বাংলার নির্বাচন সংক্রান্ত প্রত্যেক খবরের ওপর দিল্লির নির্বাচনী কন্ট্রোল রুম থেকে নজর রাখছেন অমিত শাহ।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তা দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘দয়া করে কোনও (তৃণমূল) প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান (পরিকল্পনা)।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি গতকাল থেকে বলছি, ওদেরগুলো (এগিয়ে থাকা আসন) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় কাউন্টিংয়ের বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনও মিলই নেই। কেন্দ্র জোর করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূলের উপর অত্যাচার করছে। অফিস ভাঙছে। জোর করে দখল করছে। এসআইআরের নামে ভোট লুট করেছে। মমতার দাবি, এখনও তৃণমূল ১০০-র বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেগুলো বলছে না কমিশন। তিনি বলেন, ‘‘ইলেকশন কমিশন নিজের ইচ্ছামতো খেলছে। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমাদের পুলিশরা মাথা নত করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হয়ে কাজ করছে। মনখারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড সবে কাউন্ট হল। ১৮-১৯ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ। আপনারা সকলে জিতবেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি।’’




