RK NEWZ ভবানীপুরের জোড়া সভা শেষ করার পরে বেহালার চৌরাস্তায় একটি জনসভা রয়েছে মমতার। সেখানে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং বেহালা পূর্বের প্রার্থী শুভাশিষ চক্রবর্তীর সমর্থনে সভায় মমতা বলেন, “তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। কারণ, সরকারটা যদি তৈরি করি আমি, সেটা আমার নেতৃত্বেই হবে। অন্য কেউ আসবে না। এটা দলের সিদ্ধান্ত। সেই জন্যই বলছি, সরকার হোক পাকাপোক্ত। যাতে বিজেপি মহারাষ্ট্রের মতো ভাঙতে না পারে। ওদের এখন খেলা হচ্ছে, ‘যেমন তেমন করে তৃণমূলের আসনটা কমিয়ে দাও। তা হলে টাকা দিয়ে কিনব, আর তা না হলে ভাঙব।’ আমি বলি, কোনওটাই হবে না। আমরা ভাঙব তবু মচকাব না। এটা মাথায় রেখে দিও। সকালে একদিন পান্তা ভাত খেয়ে নেবেন। গরমের দিনে পান্তা ভাত খেলে শরীরটা ভাল থাকে। ওয়েটটাও কমে। কিন্তু ভোটটা সকাল সকাল দিয়ে আসবেন। আজ কলকাতাকে বলছে ঝুপড়ি? কলকাতাকে ঝুপড়ি বানিয়েছি আমি? এটা কলকাতার অসম্মান নয়? অপমান নয়? এই কলকাতায় আলো পর্যন্ত ছিল না। লোডশেডিংয়ের সকাল, লোডশেডিংয়ের দুপুর, লোডশেডিংয়ের বিকেল, লোডশেডিংয়ের রাত। এখন আর লোডশেয়িং নেই। গর্ব করে বলুন। কাল নৌকাবিহার (করেছে)। ওটা তো আর্মির নৌকা। নেভির। ও-ও তো সাজিয়ে গুজিয়ে। আলিপুর চিড়িয়াখানায় যান। আমি গত ১০ বছর আগে একটা বুলেটপ্রুফ কাচ দিয়ে একটা বাঘের খাচা করে দিয়েছি। সেখানে যে কেউ দাঁড়ালে বাঘের সঙ্গে ছবি তুলতে পারে। আমাকে এ সব দিয়ে ভুল বোঝানো যাবে না। ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আমাদের সাংসদেরা প্রশ্ন করেছিল। জানতে চেয়েছিল, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি-সহ কত অনুপ্রবেশকারী সারা ভারতে আছে? উত্তর ছিল, দু’হাজার সামথিং। প্রথমে বলল, রোহিঙ্গা। একটাও রোহিঙ্গা এখানে আসেনি। যদি ঢুকে থাকে, আপনি ঢুকিয়েছেন। আমি একটা টুইট করলেও দেখে নিই সেটা ফেক কি না। এআই থেকে আজকাল অনেকেই ফেক নিউজ় করে। এই তো আজকেই দেখছিলাম, আমাকে একজন পাঠিয়েছে। আমাদের একজন প্রার্থী নাকি বলছে, আমি তো জিতব না। কেউ বলতে পারে নিজে দাঁড়িয়ে আমি তো জিতব না? টোটাল আর্টিফিশিয়াল এজেন্সিকে দিয়ে ফেক করে। কলকাতাকে হেরিটেজ টাউন করে দেব বলে হোর্ডিং লাগাচ্ছে। ওরে ওটা আমরা করে দিয়েছি। জানেই না। অর্ধশিক্ষিত। কলকাতাকে ইউনেসকো হেরিটেজ করার জন্য আমাদের সঙ্গে ২০২৫ সাল থেকে আলোচনা চলছে। এটা ২০২৫ থেকে আলোচনা চলছে। আর অর্ধসত্যির দল, শুধু মিথ্যা কথা বলে। এক বিএলও এক বয়স্ক মহিলার পোস্টাল ব্যালট নিতে গিয়েছিল। তিনি পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নিজের ব্যাগে ঢুকিয়েছে। ওরা তো জানে না গ্রামের লোকেরা খুব চালু হয়। ওরা জিজ্ঞেস করছে, আপনি কেন এটা ব্যাগে ঢোকালেন? বলে, ইনস্ট্রাকশন আছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘেরাও করেছে। বিডিও-কে ফোন করেছে। তার পরে জানতে পেরেছে, এমন কোনও ইনস্ট্রাকশন নেই। কল্পনা করতে পারেন কী চলছে? এটা বিজেপির ইনস্ট্রাকশন। আপনারা জানেন আমি বেহালার মিটিংটা শেষ দিন করি। কিন্তু আমার কাছে কিছু ইনফরমেশন আছে। সেই জন্য আমি আগে করে নিলাম। সেটা আমি এখন আর বলছি না। এরা প্রধানমন্ত্রীর সভা যে শেষ হয়ে যায়, সেই সব শেষ করে দেয়। কিন্তু আমি শুনলাম ওনার নাকি ২৭ তারিখে মিটিং আছে। দু’দিন আগেও ইলেকশনে আমরা সেঞ্চুরি পার করেছি। নেক্সট ইলেকশনে আপনাদেরও সেঞ্চুরি পার করাতে হবে। নেক্সট দায়িত্বটা আপনাদের নিতে হবে। লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিটা কী! কই বিহারে তো হল না, ওড়িশায় হল না, রাজস্থানে হল না। তোমার রাজ্যে হল না। পশ্চিমবঙ্গে কেন হল? কারণ পশ্চিমবঙ্গের উপর তোমাদের রাগ আছে। তোমরা বাংলাবিদ্বেষী। এ বারের লড়াইটা গণতন্ত্রের লড়াই। বিজেপি নামক একটা অপদার্থ পার্টি, যারা বিধর্মী, ধর্ম মানে না। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে মানে না। যারা রাজা রামমোহন রায়ের স্বপ্ন জানে না। যারা গান্ধীজিকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে বাদ দেয়। যারা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সন্ত্রাসবাদী বলে, তাদের আমি ধিক্কার জানাই। আজ জিনিসপত্রের দাম কত বেড়ে গিয়েছে। আজ দেখছিলাম, অফিসযাত্রী, বাইরের যাত্রীরা রাস্তায় রাস্তায় মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কেন হচ্ছে? এখন তো আমাদের হাতে নেই। সব বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ মোটরগাড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে। বাইকও বন্ধ করে দিয়েছিল। ওটা তো আমরা চালু করিয়েছি কোনওরকমে। তা-ও কোর্টে কেস করে। সব বন্ধ করে দেবে। যাতে মানুষ অফিসে, হাসপাতালে যেতে না পারে। বলছে পুলিশের পারমিশন নিতে হবে। যদি আপনার বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন পারমিশন নিতে হবে? তত ক্ষণে তো হার্ট অ্যাটাকের রোগী মারা যাবে! লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিটা কী! কই বিহারে তো হল না, ওড়িশায় হল না, রাজস্থানে হল না। তোমার রাজ্যে হল না। পশ্চিমবঙ্গে কেন হল? কারণ পশ্চিমবঙ্গের উপর তোমাদের রাগ আছে। তোমরা বাংলাবিদ্বেষী।”
কালীঘাটের ওসি বদল! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতার আরও দুই থানায় রদবদল করল কমিশন। ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করেছিল কমিশন। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হল গৌতম দাসকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন। শুধু ওসি নয়, কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি-কেও বদলে দিয়েছে কমিশন। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের উত্তম পাইককে ওই দায়িত্বে আনা হয়েছে। এ ছাড়াও আলিপুর এবং উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি-কেও বদলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আলিপুর থানার নতুন ওসি করা হয়েছে সুব্রত পাণ্ডেকে। আর উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি-কেও বদল করল কমিশন। ওই থানার দায়িত্বে আনা হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। তিনি আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি ছিলেন। কালীঘাট থানা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। আগামী ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার ভোটে অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র ভবানীপুরই। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর বিপক্ষে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দেখা গিয়েছিল মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ। এ বার ভবানীপুর। ভোটের দিন তিনেক আগে মমতার বাড়ির এলাকার থানার ওসি, অতিরিক্ত ওসি বদল তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তবে কেন এই বদলি, তা জানায়নি কমিশন। মনে করা হচ্ছে, ভোটের সময় ওই কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা আরও আঁটোসাঁটো করতে, নজরদারি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, দিন দুয়েক আগেই হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি-কেও সরিয়ে দেয় কমিশন। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে আমলা এবং আইপিএস পদে বদল করছে কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন মধ্যরাত থেকে এই পর্ব শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করেছিল কমিশন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না।




