RK NEWZ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বয়স: ৭১। প্রতিপক্ষ চাই! যে করেই হোক। কারণ, তিনি লড়াই চান। এই বিধানসভা ভোটে যেমন তাঁর প্রতিপক্ষ নির্বাচন কমিশন। লড়াই ছাড়া ‘দিদি’ থাকতে পারেন না। এ বার কি তাঁর লড়াই ‘কঠিন’? গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে আচমকা ঘোষণা করেছিলেন, সেখান থেকেই লড়বেন। বলেছিলেন, ভবানীপুর তাঁর ‘বড় বোন’। নন্দীগ্রাম ‘মেজো বোন’। ভোটের ফলাফল অনুকূলে আসেনি। শান্তিকুঞ্জের মেজোপুত্রের কাছে পরাজিত হয়ে ফিরেছিলেন ‘বড় বোন’ ভবানীপুরে। এ বারেও ভবানীপুর থেকেই তিনি প্রার্থী। আসলে তিনি অঘোষিত প্রার্থী বাকি ২৯৩টি আসনেও। গত বিধানসভা নির্বাচনে স্লোগান দিয়েছিলেন ‘খেলা হবে।’ নন্দীগ্রামের প্রচারের সময়ে পায়ে আঘাত পান। ফ্লেক্সে তাঁর প্লাস্টার-করা পায়ের ছবি দিয়ে তৃণমূল লিখেছিল, ‘ভাঙা পায়ে খেলা হবে।’ রাজ্য জুড়ে সেই ‘খেলা’ হলেও নন্দীগ্রামের ‘ডার্বি’ জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ বার মনস্থির করে শুধু বড় বোনের কাছেই রয়েছেন দিদি। হলদি নদীর তীর থেকে আদিগঙ্গার তীরে। লড়াই সেই শুভেন্দুর সঙ্গেই। এ বার মমতার স্লোগান ‘ফাটাফাটি খেলা হবে।’ এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ভবানীপুরের বিএলএ-দের সঙ্গে অন্তত বার পাঁচেক বৈঠক করেছেন। তিনি কি কিঞ্চিৎ উদ্বিগ্ন? ঘনিষ্ঠেরা বলছেন, আদৌ কোনও উদ্বেগ নেই। গুরুত্ব আছে। যে কোনও লড়াইয়ের মতোই তিনি এই লড়াইয়েও সিরিয়াস। কর্মিসভায় মমতার জয়ের ব্যবধান বেঁধে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০ হাজার। পাশাপাশিই অদৃশ্য সিসিটিভি বসিয়েছেন কর্মীদের উপর। ভাইপো-ভাইঝিদের নাম রেখেছিলেন ইংরাজি বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘এ’ দিয়ে। অভিষেক, আকাশ, আবেশ, অগ্নিশা ইত্যাদি। পরের প্রজন্মের নামকরণও ‘এ’ দিয়েই। অভিষেকের পুত্র-কন্যার নাম আজানিয়া-আয়াংশ। ভাই কার্তিকের পুত্র আবেশের কন্যাসন্তানের নাম ‘পিসিঠাকুমা’ রেখেছেন আদিরা। ব্যাঘ্রশাবকেরও নামকরণ করেছেন। তবে তাতে বর্ণমালা গুরুত্ব পায়নি।
অরূপ বিশ্বাস, বয়স: ৬১। ছবিই কর্ম, ছবিই ধর্ম, ছবি হি পরমং তপঃ। ছবি ছাড়া তিনি যেন জল বিনে মছলি। কাজ করেন উদয়াস্ত। সে কাজও ছবিতে ধরা থাকে। ডিসেম্বরে একটু ছবি কেলেঙ্কারি হয়েছিল ঠিকই। লিয়োনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলাতে গিয়ে সমস্যা। সাধের ক্রীড়া দফতর থেকেই অব্যাহতি নিতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে। জীবনের শুরুর ছবি খুব সাদামাঠা। নিউ আলিপুর কলেজে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে নাম লেখানোর পর থেকেই তাঁর জীবন-লিফ্টের বোতামে হাত। কাউন্সিলর থেকে বরো চেয়ারম্যান, সেখান থেকে ঝপ করে টালিগঞ্জের বিধায়ক। তা-ও ভোটের মাত্র ২১ দিন আগে টিকিট পেয়ে। জিতেছিলেন মাত্র ৫২৬ ভোটে। সেই থেকে ছুটছে তাঁর অশ্বমেধের ঘোড়া। প্রতিবারই শোনা যায়, তাঁর আসন নাকি টলোমল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি টালিগঞ্জের ‘ফার্স্ট বয়’। কারণ, তিনি সারাবছর পড়াশোনা করেন। ফলে পরীক্ষায় ভয় নেই। ভোটও বোঝেন ছবির মতো। যেমন বোঝেন পুজো। আর বোঝেন দিদি। ২০১১ সালে রাজ্যে ‘পরিবর্তনের সরকার’ এলেও প্রথম দফায় মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। তীব্র অভিমানে অভিন্নহৃদয় বন্ধু (এবং মন্ত্রী) ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলতেন না। তবে বেশিদিন ঠোঁট ফুলিয়ে থাকতে হয়নি। মাত্র ন’মাস পরেই রদবদলে অরূপ মন্ত্রী। দায়িত্বের ঝুলি ভারী একাধিক দফতরে। একদা অতিরিক্ত হাঁটায় অনীহা ছিল। জেলাসফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কয়েক বার তাঁকে হাঁটার সঙ্গী করেছিলেন। তার পর থেকে দেখা গিয়েছিল, মমতার সঙ্গে সফরে গেলেও ঠিক ‘সময়মতো’ অরূপের দফতরের বৈঠক পড়ে যায়। সেই প্রকল্পের নাম ‘দিদিকে বোলো না’।
অধিকারী বুঝে নেওয়া প্রখর দাবিতে
শুভেন্দু অধিকারী, বয়স ৫৫। রাজ্যের রাজনীতিতে গত পাঁচ বছরে কট্টর হিন্দুত্বের ‘মুখ’। একদা ঘাসফুল শিবিরের ভরসা, এখন পদ্ম শিবিরের প্রধান অস্ত্র। যদিও ঘনিষ্ঠদের কাছে দাবি করেন, এই ঝোঁক নাকি ইদানীংকার নয়, ছোটবেলার সংস্কারেই বোনা ছিল এর বীজ। রাজনীতির ময়দানে যতই তর্ক-বিতর্ক থাকুক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ এখনও অটুট। বিশেষত, পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে। অনায়াসে শ্রীখোল গলায় ঝুলিয়ে হরিনাম সংকীর্তনে যোগ দেন। মাথার উপর দু’হাত তুলে শ্রীচৈতন্যের মতো নাচতেও দেখা যায় মাঝেমধ্যে। একদা তৃণমূলের সরকারে একাধিক দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। সে সব ছেড়েছুড়ে রামচন্দ্রের পদপ্রান্তে গিয়ে বসেছেন। ২০২১ সাল থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। রাজনৈতিক আদর্শ মানেন সতীশ সামন্ত, সুশীল ধাড়াকে। একদা ‘রাজনৈতিক গুরু’ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সাল থেকে অমিত শাহ। বলেন, আর ‘গুরু’ বদলাবেন না। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতার টক্কর নিতে নেমেছেন। শুভেন্দু মানেই চরৈবেতি। ৪০০-৫০০ কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে গন্তব্যে পৌঁছনো তাঁর কাছে নিত্যদিনের ব্যাপার। সঙ্গী বিশ্বস্ত কালো এসইউভি। অন্যান্য রাজনীতিকদের মতো চালকের পাশের আসনে বসেন না। বসেন মাঝখানে। জনসভা, মিছিল থেকে শুরু করে মন্দির দর্শন সবই এক সূচিতে বাঁধা। দেখে গোলগাল মনে হলেও ডায়েটে শৃঙ্খলা আছে। ব্রাউন রাইস, পানিফলের আটার রুটি আর রাতে নিয়ম করে আধ ঘণ্টা হাঁটা। শুনে ‘ফিটনেস গুরু’ মনে হয় বৈকি! কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কেটে যায় বাতানকূল গাড়ির অভ্যন্তরে আরামে। ঘনিষ্ঠরা ঠাট্টা করে বলেন, “হাঁটা যত, বসা তার চেয়ে বেশি!” রাজনীতির কড়া ভাষণের আড়ালে নিরন্তর মজার লড়াই চলে— ওজন বনাম সময়সূচি। বিশ্ব যোগ দিবসে সূর্যপ্রণাম করতে গিয়ে ঘেঁটে গিয়েছিলেন। তবে শবাসনে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন। ভোটের ময়দান জিততে অভ্যস্ত। এখন দেখার শরীরচর্চার লড়াইয়ে জেতেন নাকি রণে ভঙ্গ দেন। ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় শেষ বার হল-এ গিয়ে সিনেমা দেখেছিলেন। তবে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরে গত পাঁচ বছরে তিনটি সিনেমা দেখেছেন। তা-ও দলের নির্দেশে। বলেন, রাজনীতি করলে সিনেমা দেখার সময় পাওয়া যায় না!
নামে নীল, কাজে লাল-সবুজ-কমলা
রুদ্রনীল ঘোষ, বয়স ৫৩। ‘বাম’ থেকে ‘রাম’ হওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। তবে সরাসরি নয়। ভায়া তৃণমূল। ছাত্রজীবনে ছিলেন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর নেতা। কর্মক্ষেত্র ছিল হাওড়ার নরসিংহ দত্ত কলেজ। ছাত্রফ্রন্ট থেকে সিপিএমের পার্টি সদস্যপদও পেয়েছিলেন। তা নিয়ে তাঁর শ্লাঘাবোধও রয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারে আসার পরে লাল থেকে ক্রমে সবুজঘেঁষা হয়ে ওঠেন। জুটে গিয়েছিল সরকারি পদও। সে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে তিনি কমলা শিবিরে চলে যান। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি-র হয়ে প্রথম লড়েছিলেন ভবানীপুরে। কিন্তু এ বার তাঁর ‘পুর’ বদলেছে। তিনি লড়ছেন হাওড়ার শিবপুর থেকে। যা তাঁর ‘ঘরের মাঠ’। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়। যিনি গত বার জিতেছিলেন বালি কেন্দ্রে। এই সুযোগে রুদ্রবাহিনী চোরাগোপ্তা প্রচার করছে, ‘শিবপুর নিজের ছেলেকেই চায়!’ গত বিধানসভা ভোটে পদ্মের প্রতীকে রুদ্রের সঙ্গে লড়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তনুশ্রী চক্রবর্তীও। ভোটের পরে তনুশ্রী রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলেও রুদ্র মাটি কামড়ে ছিলেন। তনুশ্রী বিবাহ করে ভিন্দেশে সংসারধর্ম করছেন। কিন্তু ‘বিজেপি-র রাহুল গান্ধী’ রুদ্র এখনও অকৃতদার। গত নভেম্বরে তনুশ্রীর বিয়ের পরে রুদ্রকে নিয়ে কৌতূহল বেড়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিয়ে করবেন। তবে কি ভোট মিটলেই সানাই বাজবে? বাবা-মা দু’জনেই ছিলেন স্কুলশিক্ষক। বাবা ছিলেন আঁকিয়ে। সরকারি আর্ট কলেজের ডিগ্রিধারী। সেই সূত্রেই আঁকা রুদ্রের রক্তে। তিনি এখনও আঁকেন। তবে ক্যানভাসে আঁকার সুযোগ খুব একটা পান না। বদলে এমন একটি মোবাইল সেট ব্যবহার করেন, যাতে ডিজিটাল পেন্টিংয়ের বন্দোবস্ত রয়েছে। তাতেই ছবি আঁকেন অভিনেতা-নেতা।
আমি এক যাযাবর
দীপ্সিতা ধর, বয়স ৩২। এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় নেত্রী থাকাকালীন মাঝেমধ্যেই অসম যেতেন। তিনি কি জানতেন সেই অসমেরই ভূমিপুত্র ভূপেন হাজারিকার গান পশ্চিমবঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সম্পৃক্ত হয়ে যাবে? ২০২১ সালের বিধানসভায় তিনি বালি কেন্দ্রে সিপিএম-এর প্রার্থী। ২০২৪ সালের লোকসভায় তিনি শ্রীরামপুরে সিপিএমের প্রার্থী। ২০২৬ সালের বিধানসভায় আবার তিনি উত্তর দমদমে সিপিএমের প্রার্থী। জন্ম ৯ অগস্ট ‘নাগাসাকি দিবসে’। কিন্তু নির্বাচনী রাজনীতিতে এখনও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলেন না। ঠাকুর্দা পদ্মনিধি ধর ডোমজুড়ের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক। পদ্মনিধির নাতনি হলেও ঘোর বিরোধী পদ্মশিবিরের। সিপিএমে গুঞ্জন, তাঁকে প্রথমে ভবানীপুরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ‘দিদি’র বিরুদ্ধে লড়তে রাজি হননি। যদিও এই খবরে কোনও আনুষ্ঠানিক সিলমোহর নেই। তবে উত্তর দমদমের প্রচারে তিনি ‘ডিডি’। নাম-পদবির আদ্যক্ষর জুড়ে প্রচার কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘ডিডি-কে বলো’। সিপিএম-এর কেউ কেউ সমাজমাধ্যমে ‘ডিডি’র ছবি দিয়ে লিখছেন, ‘চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।’ সম্ভবত এটি কোন পণ্যের বিজ্ঞাপনী ‘ক্যাচলাইন’ তা না জেনেই! এমনিতে তিনি বিড়ালবিলাসিনী। তবে বাড়ির দু’টি বিড়ালকেই অকালে হারিয়েছেন। ছবিতে হাতের ভ্যানিটি ব্যাগে মহার্ঘ ফরাসি ব্র্যান্ড ‘লুই ভিঁতো’র লোগো। সর্বহারার দলের নেত্রী হয়ে ‘লুই ভিঁতো’? বিতর্কের ঝড় বহিল ফেসবুকে। শেষে জানা গেল, ব্যাগের সাকিন নয়াদিল্লির সরোজিনী মার্কেট। দর কুল্যে সাড়ে ৪০০ টাকা। অনেকে রসিকতা করে বললেন, ‘গরিবের মহুয়া মৈত্র’। একটি বিশেষ ভারতীয় ব্র্যান্ডের ব্যাগের শখ অবশ্য রয়েছে তাঁর। যে ব্র্যান্ডের সঙ্গে জুড়ে আছে দলিত শিল্পীদের শ্রম। তবে এখনও কেনা হয়ে ওঠেনি।
তিস্ সাল বাদ!
অধীর রঞ্জন চৌধুরী, বয়স ৭০। তিরিশ বছর আগে তিনি প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন। তিন দশক পরে আবার বিধানসভার লড়াইয়ে মুর্শিদাবাদের ‘রবিনহুড’। ১৯৯৬ সালে লড়েছিলেন নবগ্রাম থেকে। এ বার ঘরের মাঠ বহরমপুরে। তিন দশক আগে যখন ভোটে লড়েছিলেন, তখন তিনি মুর্শিদাবাদ-ছাড়া। সিপিএম জমানার পুলিশ তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। তাঁকে নিরাপদ আস্তানায় রেখে দিয়েছিলেন ‘ছোড়দা’ সোমেন মিত্র। অধীরের বক্তৃতার রেকর্ডিং নবগ্রামের গাঁয়ে গাঁয়ে পরশ দিয়েছিল। জিতেছিলেন। কিন্তু তার পর থেকে আর বিধানসভায় লড়েননি। ১৯৯৯ সালে প্রথম বার বহরমপুর থেকে সাংসদ আরএসএপি-র প্রমথেশ মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে। তার পর থেকে বহরমপুর আর অধীর সমার্থক। কিন্তু গত লোকসভায় হেরে যান তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে। যদিও অধীর আশা ছাড়েননি। বলেছিলেন, হেরে গেলে রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে বাদাম বেচবেন! হেরেছিলেন। বাদাম বেচতে বেরোননি। রাজনীতিও ছাড়েননি। আবার বিধানসভার লড়াইয়ে। ১৯৯৪ সালের একটি খুনের মামলায় গ্রেফতার হতে হয়েছিল অধীরকে। বহরমপুর জেলে থাকার সময়ে অসুস্থ হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসা করেছিলেন চিকিৎসক নির্মলচন্দ্র সাহা। যিনি গত লোকসভা ভোটে বহরমপুরে ছিলেন অধীরের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী।
তব চরণে নত মাথা
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বয়স ৪৬। ছিলেন মার্ক্সবাদী। হয়েছেন মমতাবাদী। রাজনৈতিক জীবনে লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তাকে সবুজ করেছে কালীঘাট। আক্ষরিক অর্থেই ‘লাল’ থেকে ‘সবুজ’ হয়েছেন। নিঃশব্দে কাজ করেছেন আইএনটিটিইউসি-তে। পরিশ্রমের ফল হিসাবে মধ্যমেয়াদে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘দিদি’র ছবি পোস্ট করে সে দিন ঋতব্রত লিখেছিলেন, ‘তব চরণে নত মাথা’। প্রথমে সিপিএম। তার পর দলহীন। তার পরে তৃণমূল। এক ব্যক্তির তিন পরিচয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে। অনেকে বলেন, বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে আর ঋতব্রত রাজ্যসভায়। সুবক্তা। সুপাঠক। এবং অতঃপর এ বার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী। যাদবপুরের উদ্বাস্তু কলোনির কাঠবাঙাল হলেও কট্টর মোহনবাগান সমর্থক। আপাদমস্তক সবুজ-মেরুন। ঘটনাচক্রে, তাঁকে প্রার্থীও করা হয়েছে প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলার বিদেশ বসুর ছেড়ে আসা আসন উলুবেড়িয়া পূর্বে। তবে তিনি ফুটবলে নীল-সাদা নন। যদিও গত দেড় দশক ধরে নীল-সাদাই তৃণমূলের ‘থিম রং’। যার সঙ্গে মেলে আর্জেন্টিনার জার্সি। তবে ঋতব্রত হলুদে-সবুজে। কঠিন ব্রাজ়িল সমর্থক। দলীয় কর্মসূচিতেও ব্রাজিলের জার্সি পরে চলে যান। আর ভক্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেটের। আসলে পৃথিবীজোড়া কালো মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসা। সে ব্রাজিল হোক বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। নিজের গাত্রবর্ণ ধবল হলেও বলতে পছন্দ করেন, ‘আমিও তো ভাই কালো মানুষের এক জন!’ জিতলে এই প্রথম সরাসরি মানুষের ভোটে জনপ্রতিনিধি হবেন আশুতোষ কলেজের প্রাক্তনী। ধূমপান ছেড়েছেন। অভিষেকের অনুপ্রেরণায় রোজ ব্যায়াম করেন। ওজন কমিয়েছেন অনেকটা। দিনে খাওয়াদাওয়ার বর্ণপরিচয় ‘ড’। ডিমসেদ্ধ এবং ডাবের জল। রাতে সামান্য চিকেন স্টু। কলকাতায় একটি দোকান আবিষ্কার করেছেন। সেখানকার ফ্রুট ডেজ়ার্ট বেজায় পছন্দ। নিজে তো খানই, ঘনিষ্ঠদেরও খাওয়ান।





