Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অশিক্ষিত মানুষ রাজনীতি করেন বলেই এত দুর্নীতি! ভোটারদের ভাবতে হবে, কারণ তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়

RK NEWZ :‌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প মুখ কে?‌ মিঠুন চক্রবর্তী?‌ লিয়েন্ডার পেজ?‌ শমীক ভট্টাচার্য?‌ উঠে আসছে অনেক নাম। কিন্তূ দেখতে হবে কোন দল আসছে?‌ আবার, কোন দলের দলের আদর্শ বা নীতি কী, সেটা তো দেখতেই হয়। তবে প্রার্থী দেখেও ভোট দেওয়া যেতে পারে। পরীক্ষার চেয়েও যোগ্যতার মাপকাঠি থাকা বেশি জরুরি। বিশেষত শিক্ষাগত যোগ্যতা। শিক্ষিত মানুষ নিজের কর্তব্য ঠিক বুঝে নেন। দুঃখের বিষয় হল, এ দেশের বহু রাজনৈতিক নেতারই সেই যোগ্যতা নেই। বিধায়ক নিজের কর্তব্যটুকু ঠিক করে করলেই অনেক কিছু বদলায়। বিধায়ক হলে শুধু ভোটের সময়ে হাজির না হয়ে সারা বছর নিজের এলাকার সমস্যাগুলো সামলানো প্রয়োজন। রাজ্যের শিল্পের উন্নয়ন দরকার। বাংলায় যে সম্পদ আছে, তার সম্ভাবনা বিপুল। বর্তমান সরকার সেক্ষেত্রে পুরো বিফল। অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। করতে পারেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা মূলেই। এখানে অশিক্ষিত মানুষ রাজনীতি করেন। তাঁদের নীতির জায়গাটায় গন্ডগোল আছে বলেই এত দুর্নীতি হচ্ছে! বহু মানুষ দল দেখে ভোট দেন। সেই ভোটে জিতে যিনি দল বদলাচ্ছেন, তিনি তো নিজের অস্তিত্বও পাল্টাচ্ছেন। তাই আইন হওয়া উচিত, দলবদল করলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ অবিলম্বে খারিজ করা হবে। আসলে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগরার প্রাণ যায়! যাঁরা বাজে কথা বলছেন, তাঁরা হয়তো পরে পাশাপাশি বসে খাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের উসকানিতে লড়াই করে ঘায়েল হচ্ছেন নিচু স্তরের কর্মীরা। সরকার নির্বাচন করার সময়ে একটাই বিষয় বিচার করা উচিত — মানুষের উন্নয়ন। সরকার ভাতা দিচ্ছে মানে করুণা করছে না। বরং একটা মানুষকে তাঁর ন্যূনতম কিছু প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করছে। এটা জনগনের নিজের টাকা। কোনও দয়া নয়। যাতে ওই সাহায্যে ভর দিয়ে তারা জীবনে আরও এগোতে পারে। লড়তে পারে। গণতন্ত্রে সব সময় বিরোধী থাকা উচিত। তারকাদের মানুষ চেনে বলেই, সেটাকে কাজে লাগাতে ভোটে দাঁড়ালাম, এটা ঠিক নয়। দায়িত্ব নিলে পালন করতে হবে। রাজনীতি যে কেউ করতে পারেন। দেখতে হবে, তাঁর কি মানুষের কাজ করার প্রকৃত ইচ্ছে আছে। লড়াই করে উঠে আসা নেতা নেত্রী দের সম্মান জানানো প্রয়োজন। সব নীতি হয়তো পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তাঁরই নাম বলব।

‌যত দিন যাচ্ছে, ততই দেখা যাচ্ছে, ধনতান্ত্রিকতার ফলে অসাম্য একটা কুৎসিত চেহারা নিচ্ছে। আমি এমন একজন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে চাই যিনি, মন্ত্রিসভার বাকি সকলের সঙ্গে বসে সভা পরিচালনা করেন। বিরোধীদের যে সব কথায় যুক্তি আছে, সেগুলো বলার সুযোগ করে দেন। যদি মনে করেন সেই কাজটি সত্যিই হওয়া দরকার, তা হলে তা করেন। যে সময়ে বড় হয়েছি, সেই সময়ে আমাদের কাছে মতাদর্শটা জরুরি ছিল। কিন্তু আমার পারিবারিক শিক্ষা থেকে জানি যে, শুধু মতাদর্শকে গুরুত্ব দিলেই হয় না। প্রার্থী কী করছেন, সেটাও দেখার। যাঁরা ভোটে লড়তে আসছেন, তাঁরা যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তার কতখানি প্রয়োগ করতে পারছেন, সেটাও দেখা জরুরি। সাফল্য-ব্যর্থতা পরের ব্যাপার। আমাদের দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে সব প্রয়োগ সাফল্য পাবে, এর কোনও মানে নেই। বিধানচন্দ্র রায় তো ডাক্তারি পাশ করেছিলেন, জ্যোতি বসু তো ব্যারিস্টার ছিলেন, তাঁরা কি মুখ্যমন্ত্রিত্বের সব কিছু জানতেন? এর উত্তরে বলা যায়, তাঁরা মূলটুকু নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন। কারণ অগাধ এবং যথার্থ শিক্ষা। তবে এও ঠিক যে, আমাদের দেশের নিরিখে এই কথাগুলোর কোনও মানে নেই। কারণ, যে দেশের আইনসভায় আদালতে প্রমাণিত দুষ্কৃতীরা দেশের আইন তৈরি করবেন বলে বসে থাকেন, সেখানে এই আলোচনা অর্থহীন। বিধায়কের যা যা দায়িত্ব-কর্তব্য, সেগুলোই পালন করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সেটা তো করতে দেবে না আমাদের এখানকার নিয়ম। নিজের এলাকায় কে কী উন্নয়ন করবেন না করবেন, তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে হয়তো পার্টির মিলছে না। এই পুরো কুম্ভীপাকে এ দেশে তেমন কিছু করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। তবে সমবেত চেষ্টা হলে যে অনেকটাই করা যায়। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে প্রয়োজন অ্যাকাউন্টেবিলিটি! মানুষের কাছে কাজের জবাবদিহি করতে হবে। নেতাদেরও ধান্দাবাজি করতে ঘন ঘন দল বদলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবশ্যই দরকার। কোনও প্রার্থী যদি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকে জনগণের ভোটে জিতে তার পর দলবদল করেন, তা হলে সেটা তো সেই ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা। সংবিধান সংশোধন করে বলা উচিত যে, আগামী ৬-৮ বছর ওই প্রার্থী অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ বর্তমান সাংস্কৃতিক আধিপত্য। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের যত সংস্কৃতির মান পড়েছে, ততই এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। যত দিন যাচ্ছে তত প্রমাণিত হচ্ছে যে, ধনতান্ত্রিকতার ফলে অসাম্য একটা কুৎসিত চেহারা নিচ্ছে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য— এই প্রাথমিক চাহিদাগুলো যদি কিছুটাও দেওয়া যায়, তা হলেও দেশ খানিকটা অগ্রগতির মু‌খ দেখতে পায়। ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতির বদলে অবনতিই ঘটাতে চলেছে। ভাতা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনও সমাধান এটা হতে পারে না। বিরোধীশূন্য রাজনীতিও স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষ করে গণতন্ত্রের পক্ষে তো মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু যখন সোভিয়েত ব্যবস্থা তৈরি হয় সাত হাজার বছরের সভ্যতার বিরুদ্ধে, দেখা যায় দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ একই রকমের খাওয়া, পরা, শিক্ষা, বাসস্থান, সামাজিক উন্নয়নের যাবতীয় ভাগ— সবটাই পাচ্ছে। এটাও কিন্তু তথাকথিত গণতন্ত্রবিহীন এক সভ্যতা!‌‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles