Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘কয়লা লুটকারীদের ছাড়া হবে না, হিসাব নেওয়া হবে, এটা মোদীর গ্যারান্টি’!বাংলার মহিলাদের প্রতারিত করেছে তৃণমূল, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিল আটকেছে :‌ মোদী

RK NEWZ রবিবার রাজ্যে চারটি জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শুক্রবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য শনিবার রাতে ভাষণে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে কড়া ভাষা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘ভ্রূণহত্যা’র অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো দলগুলির বিরুদ্ধে। বিল পাশ করাতে না-পারার জন্য প্রধানমন্ত্রী ক্ষমাও চেয়ে নেন দেশের সমস্ত ‘মা-বোন-কন্যা’র কাছে। মোদী ‘জয় জোহার’ বলে বক্তৃতা শুরু করে বাংলায় বলেন, ‘‘কেমন আছেন? এই ভূমি বীরদের। ঝাড়গ্রামকে জনজাতি নৃত্যেু স্বর্ণ কোষাগার বলে। বাংলার এই নির্বাচন এই ভূমির সমৃদ্ধি, পরিচয় রক্ষা করার জন্য। নিজের পরিচয় হারাতে পারে বাংলা, সেই ঝুঁকি রয়েছে। তৃণমূল যে পথে চলছে, সেই এজেন্ডা ভয়ঙ্কর। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সরকার তৈরি করতে চায়। যে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ধর্ম, ভাষা, রীতির রক্ষা করবে। ওই অনুপ্রবেশকারী সরকারের শত্রু হবেন আপনারা। বাংলার সব মানুষ সব বর্গ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বিজেপি বিকাশ, উত্তরাধিকারের জন্য সমর্পিত। আমাদের সরকার প্রাণপ্রিয় বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা ঘোষণা করেছে। সাঁওতালি ভাষায় ভারতীয় সংবিধানের সংস্করণ প্রকাশ করেছে। কুড়মালি ভাষা নিয়েও ঘোষণা করেছে। বিজেপি বাংলার এই ঐতিহ্য নিয়ে কতটা গর্বিত, তা স্পষ্ট। আপনারা তৃণমূল সরকারকে ১৫ বছর দিয়েছেন। তৃণমূলের নির্মম সরকার কী দিল? কী পেলে? জনজাতি ক্ষেত্রগুলি কী পেল? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, কিছু পায়নি। সব বেহাল এখানে। ছোট ঘর তৈরি করতে হলেও তৃণমূলের সিন্ডিকেটের উপরে নির্ভর করতে হয়। তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কেরা আপনাদের সমস্যা নিয়ে ভাবে না। এরা শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবে। শতাধিক একর জমিতে কব্জা করেছে। এক বার বিদ্যুৎ গেলে অনেক দিন পরে আসে। কখনও আসেই না বিদ্যুৎ। তবে বিল আসে! কারণ, তৃণমূলের সিন্ডিকেট বাংলায় বিজেপির কারখানা নষ্ট করেছে। আপনারা অন্ধকারে রয়েছেন। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ি চমকাচ্ছে। আপনাদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। মোদী সঙ্কল্প করেছে, এখানকার কয়লা লুটকারীদের, আপনাদের যাঁরা অন্ধকারে রাখে, তাঁদের ছাড়ব না। ওদের হিসাব করা হবে। তৃণমূলে সকলের নম্বর আসবে, মোদীর গ্যারান্টি। তৃণমূলের মন্ত্রী, যাঁরা লুটে শামিল, হিসাব হবে। এক দিকে, তৃণমূল বিদ্যুৎ লুট করছে। অন্য দিকে মোদী আপনাদের বিদ্যুতের বিল শূন্য করতে চায়। এই জন্য যোজনা কার্যকর করা হয়ে গিয়েছে— পিএম সূর্যগড় মুক্ত বিজলি যোজনা। একটি পরিবার প্রায় ৮০ হাজার টাকা করে পাবে। যাতে আপনারা ছাদে সোলার প্যানেল লাগাতে পারেন, নিজের বিদ্যুৎ নিজে তৈরি করতে পারেন। কিন্তু তৃণমূল এই যোজনা বাংলায় আনতে দিচ্ছে না। ওড়িশায় ৬০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ পরিবার সোলার প্যানেল যোজনার সুবিধা পায়। আমার সঙ্গীদের বিজয়ী করুন। মোদী গ্যারান্টি দিচ্ছে, আপনাদের প্রতি ঘরে ৮০ হাজার টাকা চলে যাবে। এখানে বিজেপির সিএম আনুন। বিদ্যুতের বিল থেকে মুক্তি পাবেন। আপনাদের ভাল স্কুল থেকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল সরকার। বাকি দেশে, বিশেষত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় একলব্য মডেল স্কুল হচ্ছে। বাকি এলাকায় পিএম শ্রী স্কুল হচ্ছে। আলু চাষি, ধান চাষিদের শোষণ বন্ধ করব। ৩১০০ টাকা এমএসপি ঘোষণা করেছে ধানচাষিদের জন্য। পিএম কিষাণ সম্মাননিধির জন্য ৯০০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে দেশে কংগ্রেসের সরকার ছিল। তৃণমূল ভাগীদার ছিল। এমএসপি ছিল ৮ বা ১০। এখন প্রায় ১০০ দিচ্ছে আমাদের সরকার। গ্যারান্টি দিচ্ছি, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়ের মতো বাংলার জনজাতি পরিবার সুবিধা পাবে। কেন্দুপাতা, শালাপাতা উৎপাদনে যারা জড়িত, তাদের লাভ হবে।’’

মহিলা সংরক্ষণ বিল (সংশোধনী) নিয়ে ফের সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাঁকুড়ার বড়জোড়া ও পুরুলিয়ায় সভা ছিল তাঁর। সেখান থেকেই বিরোধীদের নিশানা করলেন তিনি। তাঁর দাবি, কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলে মহিলা সংরক্ষণ বিল আটকে দিয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল বাংলার মেয়েদের প্রতারিত করেছে।” প্রধানমন্ত্রীর আরও অভিযোগ,” আগামী বিধানসভায় মহিলাদের সংখ্যা বাড়ুক, চায় না তৃণমূল”। মহিলা আসন সংরক্ষণ নিয়ে ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হয়নি। সেই ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আগেই সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার সময় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই তিনি বিরোধীদের তোপ দেগে বলেন, “বিরোধীরা পাপ করেছে। মহিলাদের আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছে। তারা তাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বিরোধীরা নারীদের অধিকার হরণ করে তারপর উল্লাস করেছে।” এবার বাংলায় এসে আরও একবার বিল ইস্যুতে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন। পুরুলিয়ার সভা থেকে তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোদী বলেন, “তৃণমূলের আরও একটা দুর্নীতি সামনে এসেছে। গোটা দেশ চাইছে যে, সংসদ ও বিধানসভাতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন লাগু হোক। এই ইস্যুতে সংসদে ভোটাভুটি হয়। কিন্তু, তৃণমূল চায়নি যে আগামী বিধানসভায় মহিলা বিধায়কের সংখ্যা বাড়ুক। এরকম হলে মহিলাদের হয়ে আওয়াজ ওঠাতে হবে। সেইকারণেই তৃণমূল এই বিলের বিরোধিতা করেছে।” বাংলার মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, এই শাস্তির সাজা দিতে হবে তৃণমূলকে। এর আগে বাঁকুড়ার জনসভা থেকেও একই ইস্যুতে বিরোধীদের তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, “আরও একবার বাংলার মহিলাদের প্রতারিত করেছে তৃণমূল। সংসদে মহিলাদের সংখ্যা বাড়ুক, চায় না তৃণমূল। কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিলকে আটকে দিয়েছে তৃণমূল।” তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূল শুধু অনুপ্রবেশকারীদেরই চায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মহিলা ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। তৃণমূল মহিলা ভোটব্যাঙ্ক টানতেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প চালু করেছে। এবারের নির্বাচনে বিজেপিও কিন্তু নারী ক্ষমতায়নে জোর দিয়েছে। দলের ইস্তাহারেও তা স্পষ্ট। মহিলাদের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। তা মাসে ৩ হাজার টাকা হোক বা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করা কিংবা অন্তঃসত্ত্বাদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডও প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এখন বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিজেপির নতুন হাতিয়ার মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল। এই বিল পাশ না হওয়ায় বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ তকমা দিয়ে প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। ভোটপ্রচারে এসে সেই ইস্যুতেই তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles