RK NEWZ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে চার ধর্মের চার ব্যক্তিকে ‘প্রস্তাবক’ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিরাজ। শুক্রবার রাসবিহারীর প্রার্থী, বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানার মাঝেই এলগিন রোডে মিরাজের বাড়িতেও আয়কর অভিযানের খবর মেলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ তথা ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর প্রস্তাবক মিরাজ শাহের বাড়িতে গেলেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। মমতা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে চার ধর্মের চার ব্যক্তিকে প্রস্তাবক করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিরাজ। শুক্রবার রাসবিহারীর প্রার্থী, বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে আয়কর হানার মাঝেই এলগিন রোডে মিরাজের বাড়িতেও আইটি অভিযানের খবর মেলে। শাসকদলের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ইডিকে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। ৮ এপ্রিল ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা মনোনয়ন জমা দেন। সর্বধর্মের সমন্বয়ের বার্তা দিতে সে দিন মমতার সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিকের স্বামী প্রযোজক নিসপাল সিংহ রানে। এ ছাড়া ছিলেন শিক্ষাবিদ মিরাজ, মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত হাকিম এবং ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ। মিরাজ ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। এলাকায় যথেষ্ট নামডাক রয়েছে তাঁর। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা মিরাজকে প্রস্তাবক হতে বলেছিলেন মমতা। পত্রপাঠ মিরাজ রাজিও হন। মমতার মননোয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে হাজিরও ছিলেন। কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গায় আয়কর হানার খবর আসে। তার মধ্যে রয়েছে সল্টলেক, মিডলটন স্ট্রিটের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ এলাকা’। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ওই সব জায়গায় তল্লাশি চলে। তল্লাশি চলে তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিসের বাড়িতেও। আগে তাঁকে ইডি-ও ডেকে পাঠিয়েছিল। শুক্রবার রাজনৈতিক সভা থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটস্বার্থে কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘এখানে বিজেপির বড় নেতা জ়েড প্লাস নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সব হরিদাস! এক এক জন ২০-২৫টা সেন্ট্রাল ফোর্স (কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান) নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাড়ি থেকে বেরোলে কেউ তাকিয়েও দেখে না এদের। এরা গুন্ডামি করছে সেন্ট্রাল ফোর্সকে সঙ্গে নিয়ে। তাদের কিন্তু নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে না, শুধু তৃণমূলেরই হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ক’টা বিজেপির (নেতার) বাড়ি তল্লাশি হয়েছে, আমি জানতে চাই।” বিজেপিকে নিশানা করে মমতা আরও বলেন, ‘‘কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে বাংলায় বসে আছে। আর আমার প্রার্থীর বাড়ি, পার্টি অফিসে তল্লাশি করছে! আমার বিমানেও তল্লাশি করতে গিয়েছিল। আমার সিকিয়োরিটিদের রেড করছেন। নির্লজ্জ, বেহায়া! সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না। ভীতু, কাপুরুষ!’’

বিধানসভা নির্বাচনের আগে গ্রেফতার নদিয়ার এক তৃণমূল কাউন্সিলর। শুক্রবার সকালে আচমকাই হরিণঘাটা পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান রাজীব দালালের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তাঁকে প্রথমে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় রাজীবকে। তাঁর গ্রেফতারিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কেন গ্রেফতার করা হল রাজীবকে? স্থানীয় সূত্রে খবর, হরিণঘাটা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বিশ্বাসের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় অশান্তি হয়। অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিলের সময় রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন হরিণঘাটা পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। সেই ঘটনায় পরে কল্যাণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। জানা গিয়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে রাজীবের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশির পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে সেখান থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশের এই অভিযানে ক্ষুব্ধ ধৃতের পরিবার। রাজীবের স্ত্রী সুজাতা দালালের অভিযোগ, ‘‘কোনও রকম নোটিস ছাড়াই পুলিশ সকালে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তল্লাশির কারণও জানাতে চায়নি। বাড়ির আনাচে-কানাচে তল্লাশি চালানো হয়, অথচ সেই সময় রাজীব বাড়িতে ছিলেনই না।’’ পরিবারের দাবি, কোনও পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ যে ভাবে তল্লাশি চালিয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই গ্রেফতারির নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে। গ্রেফতারির ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে কল্যাণী থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কল্যাণী থানার সামনে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দেবাশিস কুমারের শাশুড়ির ফ্ল্যাটেও পৌঁছে গিয়েছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানেও চলছে তল্লাশি অভিযান। রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিসের বাড়িতে শুক্রবার ভোর থেকে হানা দিয়েছে আয়কর দফতর। অভিযান চলছে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও। দেবাশিসের বাড়ির কাছেই একটি পার্টি অফিসেও হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। তবে প্রয়োজনীয় তল্লাশির পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান আয়কর আধিকারিকেরা। আয়কর আধিকারিকেরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিসের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। ওই বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বিধায়কের শাশুড়ি। দেবাশিসের বাড়িতে তল্লাশি শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরে, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে যান আয়কর আধিকারিকেরা। বহুতল ওই ভবনের পঞ্চম তলে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন দেবাশিসের শাশুড়ি। একাই থাকেন সেখানে তিনি। এলাকার লোকেরা ফ্ল্যাটটিকে ‘দেবাদার ফ্ল্যাট’ বলেই জানেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ওই ফ্ল্যাটে শুরু হওয়া আয়কর তল্লাশি এখনও চলছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেবাশিসকে একাধিক বার তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে অন্তত তিন বার তলব করা হয়েছিল তাঁকে। তার মধ্যে দু’বার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। একটি সংস্থার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ওই সংস্থার আধিকারিকদের ফোন থেকে এবং তল্লাশিতে বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল দেবাশিসকে। এ বার এরই মধ্যে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়কের বাড়িতে, নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা দিল আয়কর দফতর। বিধায়কের শাশুড়ির বাড়িতেও চলছে তল্লাশি অভিযান। কালীঘাটেও কুমার সাহা নামে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে আয়কর দফতর। দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত কুমার। সূত্রের খবর, বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা এবং রাসবিহারী অঞ্চলে শাসকদলের সভা-সমিতিতে লোক ভরানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে তাঁর। দেবাশিস, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী-সহ দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের বিভিন্ন ‘মাথাদের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে কুমারের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত মিরাজ শাহের বাড়িতেও কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান চলছে। তিনি ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর প্রস্তাবকও।





