Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইডি–সিবিআই মামলা থাকলে ‘ওয়ার্কিং রিলেশন’ রাখতে পারব না!‌ ‘৮৬ শতাংশ সনাতনী এক হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী’!‌

RK NEWZ উৎসবের মরসুমে নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একলা কেউ কোনও কাজ করতে পারে না। এত হাজার হাজার পুজোর মাঝে চোরবাগানের ঘটনা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। ভক্ত, দর্শনার্থী, পুজো ব্যবস্থাপক, স্বেচ্ছাসেবক এবং পুলিশ-প্রশাসন— সকলকে একসঙ্গে, সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও সমস্ত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আমি সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শক্তির দেবী মা কালীর আরাধনা ও আলোর উৎসব যেন অত্যন্ত সুস্থ ও আনন্দময় পরিবেশে সম্পন্ন হয়।” কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণের কেন্দ্রভূমি বলে উল্লেখ করে অতীতের রাজনৈতিক আমলকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “বিগত ৩৪ বছরের বাম আমল এবং পরবর্তী ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের ঐতিহ্য, পরম্পরা, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতাকে পদদলিত করে রাখা হয়েছিল। নাস্তিকদের রাজত্ব এবং ধর্মীয় আচরণে বাধা দেওয়ার সেই দিনগুলি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ আজ পাপমুক্ত ও শাপমুক্ত। মা দুর্গা, মা কালী এবং প্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের কৃপায় রাজ্য নতুন ভোরের আলো দেখেছে।” তিনি বলেন, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো রাজ্যের সর্ববৃহৎ উৎসবে পরিণত হয়েছে এবং কাউকে অনুমতির জন্য হাইকোর্টের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়নি। গত বছর যেখানে অনুমোদিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত পুজোর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার, এ বার তা বেড়ে ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে এবং সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। সনাতনী ঐতিহ্য ও ঐক্যের সপক্ষে সওয়াল করে শুভেন্দু বলেন, “আমাদের মধ্যে ভাষার তফাত বা উপাসনা পদ্ধতির তফাত থাকতে পারে। আমরা কেউ শাক্ত বা বৈষ্ণব হতে পারি, আবার কেউ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ইসকন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ কিংবা আর্য সমাজের অনুগামী হতে পারি— কিন্তু দিনশেষে ‘উই অল আর হিন্দুস্তানি’। আমরা সবাই ভারতীয়, আমাদের এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ৮৬ শতাংশ সনাতনী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন বলেই বারাসতের বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী। জনগণের এই আস্থার মর্যাদা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রাবণী মেলা, কৌশিকী অমাবস্যার মেলাকে ইতিমধ্যেই রাজ্যস্তরীয় মেলার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলার রূপ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোচবিহারের মদনমোহন জিউ মন্দির ও তারাপীঠ থেকে শুরু করে তারকেশ্বর, কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরকে যুক্ত করে একটি সুবৃহৎ ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গড়ে তোলার কাজ চলছে। দুর্গাপুজোয় যেমন কলকাতার নাম প্রথম সারিতে আসে, তেমনই কালীপুজোর প্রসঙ্গে বারাসাত, মধ্যমগ্রাম ও নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী স্থান অপরিসীম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ বছরের বারাসতের কালীপুজো অত্যন্ত সুখকর, মধুময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন। শিল্পের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাসও দিলেন। তবে সেই সঙ্গেই শিল্পমহলের সামনে একটি সীমারেখা টেনে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে তিনি জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআইয়ের মামলা রয়েছে কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা আত্মসাৎ ও ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজের সম্পর্ক থাকবে না।

শুভেন্দুর বক্তব্য, ব্যক্তিগত সৌজন্য এবং প্রশাসনিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়। তাঁর কথায়, “সামনাসামনি দেখা হলে নমস্কার, হ্যালো বলব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ওয়ার্কিং রিলেশন রাখা সম্ভব নয়।” শিল্পমহলের প্রতিনিধি ও শিল্পকর্তাদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এদিনের বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শিল্পগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি তিনি। ফলে তাঁর এই অবস্থান কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কিংবা কীভাবে তা কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বক্তব্যের বাইরে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।নয়া শিল্পনীতিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। যোগ্য শিল্প সংস্থার জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানে সহায়তা, মহিলা নিয়োগে বাড়তি সুবিধা, পিছিয়ে থাকা এলাকায় বিনিয়োগে উৎসাহ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেই নীতি ঘোষণার মঞ্চেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

তোলাবাজির অভিযোগে ‘১৫ মিনিটে গ্রেফতার’
শিল্পকর্তাদের উদ্দেশে শুভেন্দু এদিন স্পষ্ট জানান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা কড়া হাতে রক্ষা করবে সরকার।
তোলাবাজির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, অভিযোগ পেলে ১৫ মিনিটের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে। শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনায় বাধা তৈরি হলে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে, সেই আশ্বাসই দিতে চেয়েছেন তিনি।
শিল্পের জন্য আর্থিক সুবিধা যতটা জরুরি, কারখানা চালানো এবং পণ্য পরিবহণের স্বাভাবিক পরিবেশও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার পরে প্রতিদিনের কাজ যাতে বাধাহীনভাবে চলে, শিল্পমহলের কাছে সেটিও বড় বিবেচনা। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্যে সেই বিষয়টিই সামনে এসেছে।

টোল প্লাজায় নজরদারি সল্টলেক থেকে
ডানকুনি ও দুর্গাপুরের টোল প্লাজায় তোলা আদায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সল্টলেকের কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা রাজ্যের টোলগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
টোল প্লাজা দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ির চলাচলের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে বেআইনি টাকা আদায় হলে পরিবহণে বাধা এবং বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়। রাজ্যজুড়ে নজরদারির কথা জানিয়ে সেই জায়গাতেও প্রশাসনিক তৎপরতার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নয়া শিল্পনীতির আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি এদিন তাই দু’টি বিষয় স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু—শিল্পের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব নেবে সরকার, আবার তদন্তকারী সংস্থার মামলা ও ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে নাম জড়ানো ব্যক্তিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও থাকবে তাঁর ঘোষিত সীমারেখা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles