RK NEWZ লালবাজারে তলবে সাড়া দেননি ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে আভেরি সেন। দিঘার জগন্নাথদেবের মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন পালন। বিভিন্ন খাতে পর্যটন দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার পেয়েছে শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থাই। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে পুজো পাস বিক্রির নামে বিপুল টাকার দুর্নীতি ছাড়াও পর্যটন দপ্তরের টেন্ডার দুর্নীতির তদন্তও শুরু করেছে লালবাজারের ‘সিট’। প্রাথমিক তদন্তে এরকম ১৫০টি টেন্ডারের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। গত পঁাচ বছরে এই প্রত্য়েকটি টেন্ডার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের তিনটি সংস্থাই পেয়েছেন বলে দাবি লালবাজারের। বুধবারও লালবাজারে তলবে সাড়া দেননি ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে আভেরি সেন। এবার দ্বিতীয় নোটিসে সাড়া না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে লালবাজার। এমনকী, তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছেন লালবাজারের এক কর্তা। ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে দুর্নীতির টাকা মেয়ের কোম্পানির অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। এমনকী, তদন্তে দেখা গিয়েছে যে, ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মেয়ে ও স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কয়েক কোটি টাকা গিয়েছে। সেই টাকা ফের ইন্দ্রনীলের সংস্থায় গিয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। মঙ্গলবার আভেরি লালবাজারে হাজিরা না দিয়ে জানান, তিনি অসুস্থ। এদিন তঁাকে তলব করা হলেও হাজিরা দেননি। এদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ দ্বিতীয় নোটিস দেয়। লালবাজারের এক কর্তা জানান, বৃহস্পতিবার তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে। কিন্তু এবারও তিনি না এলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করতে পারে। এদিকে, সূত্রের খবর, জেরার মুখে ইন্দ্রনীল সেন ‘সিট’কে জানিয়েছেন, ‘‘দুর্নীতির ব্যাপারে আমার স্ত্রী সব জানে, আমি কিছুই জানি না।’’ লালবাজার জানিয়েছে, পর্যটন দপ্তরের কয়েকশো কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতির হদিশ পাওয়ামাত্রই ‘সিট’-এর সদস্যরা পর্যটন দপ্তরে যান। দেখা যায়, বিভিন্ন সময় ব্যানার লাগানো থেকে শুরু করে রেড রোড কার্নিভাল, রাস্তা সাজানো, অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন পালন, দিঘার জগন্নাথদেবের মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ, বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরণ থেকে অজস্র কারণ দেখিয়ে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৫০টি টেন্ডার দিয়েছে পর্যটন দপ্তর। প্রত্যেকটি টেন্ডারই মূলত ঘুরেফিরে তিনটি সংস্থাই পেয়েছে। ওই তিনটি সংস্থাই ইন্দ্রনীল সেনের বন্ধুদের সংস্থা। সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা ইন্দ্রনীলের পরিজনও। এই সংস্থাগুলির উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রাক্তন মন্ত্রীর। এই ব্যাপারেও প্রয়োজনে ফের ইন্দ্রনীলের স্ত্রীকে জেরা করা হতে পারে। ইন্দ্রনীলের মামলায় যে নতুন এমপিও আইন লাগু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




