Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বনাথ বসুর বাড়ির ৩৫৫ বছরের পুজো! বসিরহাটের গ্রামের পুজোয় মিলেমিশে যান অভিনেতা

সোহিনী মণ্ডল
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, আর কে নিউজ

তারকা পরিচয় দূরে সরিয়ে রেখে প্রতি বছরই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজোর কাজে হাত লাগাতে দেখা যায় অভিনেতাকে। পুজোর ঐতিহ্য ও পারিবারিক পরম্পরার টানে শিকড়ের সঙ্গে আজও জড়িয়ে রয়েছেন। বিশ্বনাথ ও তাঁর পরিবার প্রত্যেক বছরই পুরোপুরি অংশ নেন এই পুজোয়। ৩৫৫ বছরের ঐতিহ্য আগলে আজও স্বমহিমায় দেবী দুর্গার আরাধনা করে চলেছে বাদুড়িয়ার আড়বালিয়ার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বসুবাটি। অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর বাড়ির পুজো নামেই পরিচিত এই বনেদি বাড়ির পুজো। পুজো-পাঠ, ভোগ বিতরণ, অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে কাঁধে করে একচালা প্রতিমা বিসর্জন। সেখানে তিনি শুধুই অভিনেতা নন, পরিবারের পুজোর অন্যতম সদস্য। বসু জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় রীতি মেনে আজও নিজের হাতে পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পুজোর দালান পরিষ্কার—সব কাজেই হাত লাগান তিনি। এ বছরও অন্যথা হয়নি। দশমীতে দিন অভিনেতার স্ত্রী দেবিকা বসু দেবী বরণ করেছেন নিয়ম মেনে। পরনে লাল পাড় সাদা শাড়ি, মাথায় ঘোমটা। দুপুরে বিশ্বনাথকে দেখা গেল কাঁধে করে একচালা প্রতিমা নিরঞ্জন করতে। গ্রামের একদল লোকের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিলেন পর্দার ব্যস্ত অভিনেতা। কাঁধে বাঁশ, গালে সিঁদুর। অভিনেতা বা তারকা ব্যক্তিত্বের তকমা ঘুচিয়ে বিশ্বনাথ এ সময়টায় একেবারেই তাঁর গ্রামের ছেলে। গ্রামের মানুষের সঙ্গেই গলা মিলিয়ে চেঁচিয়েছেন, “আসছে বছর আবার হবে, বল দুগ্গা মাইকি জয়”। তার পরে সপরিবার মেতেছেন কোলাকুলি-মিষ্টিমুখে। বরাবরের মতোই। রুপোলি পর্দার ব্যস্ততা সরিয়ে পুজোর ক’টা দিন গ্রামের বাড়িতেই কাটান অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। জমিদারি আমলের ঐতিহ্য, পারিবারিক রীতিনীতি এবং গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে বছরের পর বছর ধরে একইভাবে হয়ে আসছে এই পুজো।

জমিদার রামরাম বসুর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। ১৬৭৫ সাল থেকে পুজো হয়ে আসছে বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা। সেই হিসাব অনুযায়ী, পুজোর বয়স ৩৫০ বছরেরও বেশি। বসু জমিদার বাড়ির পুজোয় আজও বেশ কিছু প্রাচীন রীতি মেনে চলা হয়। আগে মহিষ বলির প্রথা থাকলেও এখন আর তা হয় না। তবে ব্যারাকপুর থেকে গঙ্গাজল আনা, ১০৮টি বেলপাতা দিয়ে হোম এবং চিনির ভোগ নিবেদনের মতো রীতি এখনও চালু রয়েছে। পঞ্জিকার নির্ধারিত সময় মেনেই শুরু হয় পুজো। পুরনো দালানেই দেবীর আরাধনা চলে। জমিদার রামরাম বসুর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। ১৬৭৫ সাল থেকে পুজো হয়ে আসছে বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা। সেই হিসাব অনুযায়ী, পুজোর বয়স ৩৫০ বছরেরও বেশি। বিশ্বনাথ বসুর কথায়, তাঁর জীবনের এবার ৪৮তম পুজো। প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর দিনগুলি একই রকম ব্যস্ততায় কাটছে। সপ্তমীর সকাল থেকে দশমীর রাত পর্যন্ত সময় যেন চোখের নিমেষে কেটে যায়। পরিবারের সকলেই পুজোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। বিশ্বনাথ বসুর কথায়, তাঁর জীবনের এবার ৪৮তম পুজো। প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর দিনগুলি একই রকম ব্যস্ততায় কাটছে। সপ্তমীর সকাল থেকে দশমীর রাত পর্যন্ত সময় যেন চোখের নিমেষে কেটে যায়। পরিবারের সকলেই পুজোর কাজে ব্যস্ত থাকেন।

বিশ্বনাথ বলেন, “১০০৮টা বেল পাতা দিয়ে হোম হয় আমাদের বাড়িতে। এই রীতিটার আসল কারণ আমার ঠিক জানা নেই। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই চলছে এই নিয়ম। আমরা যেহেতু ব্রাহ্মন নই, তাই আমাদের অন্নভোগ দেওয়ার রীতি নেই। তবে আমাদের বাড়িতে চিনির ভোগ দেওয়া হয়। এক সময় সপ্তমীতে সাত কিলো, অষ্টমীতে আট কিলো এরকম করে ভোগ দেওয়া হত। সেই সময় আমাদের বাড়িতে মিষ্টির দোকান ফ্রাঞ্চাইজি খুলত। ছোটবেলায় দেখছি বাড়ির দালানেই বসত মিষ্টির দোকান। আর একটা জিনিস যেটা সারা বছর দেখা না গেলেও পুজোর সময় আমাদের বাড়িতে আসে, সেটা হল কদমা। কদমা আমাদের ভোগের মধ্যে থাকে‌। আশির দশকে গ্রামটা আরও একটু শান্ত, আরও একটু অন্ধকার ছিল। তাই পুজোর সময় অনেক লাইট জ্বলতে দেখে মনে হত, রাতের বেলাতেও দিনের আলো আছে। ভয় কম করত। আর শহর থেকে যখন আত্মীয়রা আসতেন, তখন উৎসবের আসল মেজাজটা পাওয়া যেত। কিন্তু পুজোর শেষে ওঁরা চলে যাওয়ার সময় মনে হত আলোগুলো ওঁদের সঙ্গে শহরের দিকে চলে যাচ্ছে। আমি কখনও পুজোর সময় বাইরে কাজ রাখিনি। সারা বছর কাজ করলেও এই সময়টা আমি আমার শিকড়ের টানে ফিরে আসি। যতদিন বেঁচে থাকব, পুজোয় বাড়ি ফিরব।”‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles