RK NEWZ ‘অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দীপকে-কে’ বাড়ি থেকে বেরনোর সময় তাঁর হাতে ছিল তেরঙা। দিল্লির বাড়ি থেকে বার হতেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজীৎ দিপকে। ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মান্ডি হাউস থেকে আটক হয়েও ছাড়া পেলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর নেত্রী নেহা বোরা। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁকে কোথায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তাঁদের ডাকে দিল্লির কনট প্লেসের কাছে জড়ো হয়েছিলেন যে প্রায় দু’হাজার কর্মী সমর্থক, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই তাঁদের হটিয়ে দেয় পুলিশ এবং সিএপিএফ বাহিনী। ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা আর তৈরিই হয়নি। শান্তিপূর্ণ ভাবেই ইতি পড়েছে দিপকেদের কর্মসূচিতে। তবে শুক্র বার বেশি রাতে নেহা ছাড়া পেলেও দিপকের সঙ্গীদের দাবি, অভিজীতকে কোথায় আটক করে রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দেন দিপকে। কিন্তু তার আগেই দিপকের দিল্লির বাড়ি ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দিল্লিতে এনসিপি (শরদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্দের বাড়িতে ছিলেন দিপকে। এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দিপকের দাবি, তাঁকে তেরঙা-কর্মসূচি বাতিল করতে বলা হয়। ভিডিয়োতে দেখা যায়, সোফায় বসে দিপকে ওই পুলিশ আধিকারিককে প্রশ্ন করছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আপনি কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন?’’ দিল্লি পুলিশ দাবি করে, আইনি পথে কর্মসূচির অনুমতি নেওয়া হয়নি। করোল বাগের বাড়ি থেকে বেরোতে যাওয়ার সময় আটক করা হয় দিপকেকে। সিজেপির তরফে এক্স অ্যাকাউন্টে জানানো হয়েছে, দলের প্রধানকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, জানা যায়নি। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাঁর হাতে ছিল তেরঙা। দলের প্রশ্ন, ‘‘তেরঙা নিয়ে হাঁটা কী করে অপরাধ হয়?’’ আটক হওয়ার আগে দিপকেও একই প্রশ্ন করেন, ‘‘আমি একা, আইনও ভাঙিনি, ধরছেন কেন?’’ তার পরে তাঁকে তেরঙা হাতে পুলিশের ভ্যানে উঠিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জাফরপুর কালান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা প্রতিরোধমূলক আটক করে রাখা হতে পারে। সোমবার যন্তর মন্তরে গেট টপকে ঢোকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে আশুতোষ এবং সৌরভ এখন তিহাড় জেলে রয়েছেন।
দিপকে আটক হওয়ার আগেই শুক্রবার বিকেলে কনট প্লেসে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ২০০০ জন। মধ্য দিল্লি-সহ গোটা রাজধানীতে তখন মোতায়েন ছিল প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ এবং সিএপিএফ। বন্ধ রাখা হয় কনট প্লেস, সেন্ট্রাল পার্কের দোকান। আন্দোলনকারীদের জড়ো হতে দেখে তাঁদের বিরুদ্ধে কনট প্লেসে স্লোগান দিতে থাকেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এই আন্দোলনের জন্য মার খাচ্ছে ব্যবসা। তাই নিয়ে দিল্লির একটি ব্যবসায়ী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েও বিফল হয়েছে। শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলেছে, ‘‘আমরা আশা করছি, শুভবুদ্ধির জয় হবে।’’
কনট প্লেসের পথে এগিয়ে মান্ডি হাউসে আটক হন নেহাও। সিপিএম সাংসদ ব্রিটাসের অভিযোগ, নেহাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা জানা যায়নি। ফোন ছাড়া তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। ফিরোজশাহ রোড থেকে স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)-র কর্মী-সমর্থকেরা শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেস পর্যন্ত মিছিল করেন। তাতে যোগ দেন ব্রিটাসও। মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানেও ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। পুলিশের অনুমতি মিললেও সূত্রের খবর, সেখানে ৫০ জনের মতো জড়ো হয়েছিলেন।




