RK NEWZ লক্ষ টাকা নিয়েও একটি সিনেমায় অভিনয় না করার অভিযোগ অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। সিনেমায় অভিনয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ। একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য টাকা নিয়েও সেই সিনেমা করেননি সোহম চক্রবর্তী। সেই প্রেক্ষিতেই গত জুন মাসে অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন জনৈক ব্যক্তি। এরপর আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে পালটা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সোহম। কিন্তু এবার উচ্চ আদালতেও স্বস্তি মিলল না। বড়সড় ধাক্কার মুখে টলিউড অভিনেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে ওঠে সংশ্লিষ্ট মামলা। সেখানেই সোহম চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী বালুরঘাটের বাসিন্দা। নাম তরুণ দাস। তাঁর দাবি, সিনেমা তৈরির জন্য সোহমের সংস্থাকে ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সিনেমা তৈরি হওয়া তো দূর অস্ত, বরং ফেরত পাননি ওই টাকাও। উলটে টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রযোজক তরুণ দাস। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। পালটা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে স্বস্তির আশায় কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা। কিন্তু বুধবার সোহমের সেই আর্জি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। ফলত, ইতিমধ্যেই অভিনেতার গ্রেপ্তারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এই মামলায় সোহমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। অভিযোগকারীর দাবি, বাগুইআটির একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের চেকের মাধ্যমে ওই ১৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও সিনেমার কাজ এগোয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর কোনও সমাধান না হওয়ায় টাকা ফেরত চান তরুণ। এরপরই অভিনেতার হুমকির মুখে তাঁকে পড়তে হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত জুন মাসেও অভিনেতার প্রযোজনা সংস্থা ‘সোহম এন্টারটেনমেন্ট’-এর বিরুদ্ধে এই একই অভিযোগ তুলেছিলেন কৌশিক কর্মকার নামে জনৈক ব্যক্তি। সেই ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। কৌশিকের দাবি, ‘সোহম এন্টারটেনমেন্ট’-এ ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। ‘লাল সুটকেসটা কোথায়’ নামের এক ছবির জন্যেই ওই টাকা সোহম নিয়েছিলেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিনেমাও হয়নি। সোহমও টাকা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, পালটা টাকা চাওয়া হলে সোহম নিজের ‘বিধায়ক’ পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন। জানা গিয়েছিল, আড়িয়াদহের একটি সংস্থার প্রতিনিধি হয়ে সোহম চক্রবর্তীর সংস্থায় ওই টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন কৌশিক কর্মকার। চুক্তিমাফিক, সেই সিনেমায় অভিনয় করা তো দূরঅস্ত এমনকী টাকাও ফেরত দেননি অভিনেতা। পরে প্রাথমিক তদন্তের পর গত জুন মাসে পুলিশ দাবি করে, সোহমের সংস্থার তরফে ২০২২ সালের চুক্তিতে যে সমস্ত নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তার মধ্যে বেশ কিছু ভুয়ো নথিও ছিল। কৌশিকের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা এবং জালিয়াতি-সহ একাধিক অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয় সোহমের বিরুদ্ধে।




