Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অভিজিৎ দীপকের হুঙ্কার!‌ ‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড টপকে ফের আটক সৌরভ-আশুতোষরা

RK NEWZ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদস্থল হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদস্থল হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। সেই সিদ্ধান্ত একেবারেই পছন্দ হয়নি ককরোচ জনতা পার্টির। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে হুঙ্কার দিয়েছেন, গোটা দেশকেই যন্তর মন্তর করে তুলবেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশের নির্দেশিকা জারির পরদিনই যন্তর মন্তরে পৌঁছে গেলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। কিন্তু আবারও তাঁদের আটক করেছে পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টির তরফ থেকে দিল্লি পুলিশকে আলটিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়। জানানো হয়, ২৪ ঘন্টার মধ্যে নতুন করে প্রতিবাদের স্থান এবং দিনক্ষণ জানিয়ে দিতে হবে। তা না হলে বড়সড় পদক্ষেপ করা হবে। পালটা দিল্লি পুলিশের ঘোষণা, যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করা যাবে না। তিনটি বিকল্পের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। তারমধ্যে সবচেয়ে পরিচিত স্থান রামলালা ময়দান। কিন্তু সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ময়দান বুক করতে গেলে ১.২১ লক্ষ টাকা খরচ। চলতি বছরের বুকিং ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। স্বভাবতই গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ‘ককরোচ’রা। নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তর থেকেই প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন তাঁরা। অভিজিতের কথায়, যদি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে না দেওয়া হয় তাহলে গোটা দেশ যন্তর মন্তরের মতো প্রতিবাদস্থলে পরিণত হবে। এই হুঙ্কার দেওয়ার পরদিনই ভোরবেলা সিজেপি নেতৃত্ব পৌঁছে যায় যন্তর মন্তরে। অভিজিতের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, লোহার গেট এবং পুলিশের ব্যারিকেড টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন সৌরভ-আশুতোষরা। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে, ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে দিতে ব্যারিকেড টপকে ঢুকে পড়েন সিজেপি নেতারা। খানিকক্ষণের মধ্যেই পুলিশ দৌড়ে এসে পাকড়াও করে তাঁদের। আপাতত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতে পারে বলে সূত্রের খবর। মঙ্গলবার সকালে ‘ককরোচ’দের এই অভিযানের বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নেতারা আটক হলেও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের হুঙ্কার, প্রতিবাদকে রুখে দিতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী।

সিজেপির দুই শীর্ষনেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে ফের আটক করল দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে গেট টপকে বন্ধ যন্তর মন্তরের ভিতরে ঢুকে পড়েন তাঁরা। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন সিজেপি সমর্থকও। আশুতোষ এবং সৌরভের পাশাপাশি তাঁদেরও আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনভঙ্গ করার অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে যেখানে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর কার্যালয় আছে, সেই দিকের গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকেন সিজেপি নেতারা। সৌরভ, আশুতোষদের সঙ্গে আটক করা হয় সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্দেকেও। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রকেরই অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এ বার থেকে ওই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে। ঘুম হচ্ছে না জ্ঞানেশের, খবর জোগাচ্ছেন ২০০ আমলা! দাবি রাহুলের, মিছিল করে গিয়ে মামলা করলেন সুপ্রিম কোর্টে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়ে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান সৌরভ, আশুতোষেরা। পুলিশের তরফে অনুমতি না দেওয়া হলে ফের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ হওয়ার পরেই সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজীৎ দিপকে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। এটা এখন আর প্রতিবাদস্থল নয়। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।’’ তার পরের দিনই বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে আটক হলেন সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ এবং আশুতোষ। ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে জমায়েতে যোগ দিতে না-পারেন, তার জন্য দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

শনিবার আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। যেখানেই জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই চলেছে পুলিশি ধরপাকড়। তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আটকশিবিরে। শনিবারের ওই ধরপাকড়কে ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গাঁধীর আমলের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে সিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও আক্রমণ শানান সৌরভ এবং আশুতোষ। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ বলেও কটাক্ষ করেন ‘ককরোচেরা’। জ্ঞানেশকে ‘বাঁচাতে’ বিজেপি কেন এত ‘তৎপর’, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপি নেতৃত্ব। কেন ‘ককরোচদের’ কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়া হয়নি, রবিবার তা নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) নেহা যাদব। এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে গত জুলাইয়ে যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ করেছিল সিজেপি। সে প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি কমিশনার জানান, গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে অবস্থান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল সিজেপি-কে। কিন্তু সে সময় আন্দোলনকারীরা আইন মেনে কাজ করেননি বলে দাবি তাঁর। দিল্লি পুলিশের ডিসির কথায়, “এর আগে যখন অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা আইন মানেননি। তাঁদের জমায়েতে থাকা অনেকে পাথর ছুড়েছিলেন, অস্ত্র এনেছিলেন। এর ফলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল।” এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উদ্যোক্তাদের নিয়ম না-মানার নজির মাথায় রেখেই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। সোমবার সেই নির্দেশিকায় বদল আনল অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। ১১ অক্টোবর, রবিবার দিল্লি পুলিশের তরফে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। যদিও তা প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার। যন্তর মন্তরের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর। মনে করা হচ্ছে, তার আশপাশে যাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তাই এই পদক্ষেপ। মাস কয়েক আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে যন্তর মন্তরে অবস্থান শুরু করেছিল সিজেপি। নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ছিল সেই প্রতিবাদ। ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধান। এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles