মোহনবাগান ১ (জেলকোভিচ)
ইস্টবেঙ্গল ০
RK NEWZ ফুটবল উৎসবের এমন আবহে ডার্বির স্বাদ মিলে গেলে বাঙালির কাছে তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী! ব্রাজিল-উরুগুয়ের ফুটবল-উন্মাদনার মধ্যেই হাজির মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। মরশুমের পরিসংখ্যানও বলছে, লড়াইয়ে এখনও কেউ কাউকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। কলকাতা লিগে ড্র। ডুরান্ড কাপে একবার করে জয়। দু’দলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে ইস্টবেঙ্গলকে অনেকেই এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ডার্বিতে যে কোনও দলই এগিয়ে থাকে না, তা আবারও প্রমাণ করল এই ম্যাচ। শিল্ড জিতে ৫০ বছরের ইতিহাস ফেরাল মোহবাগান। শুরু থেকেই দু’দলের খেলাতেই আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। ৬ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড। ডান দিকে বল রাখলেও তাঁর শট আটকে দেন বিশাল কাইথ। ১৫ মিনিটে পালটা আক্রমণ মোহনবাগানের। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান লি এরউইন। তবে তাঁর শটে জোর না থাকায় সহজেই তা তালুবন্দি করেন ফুরবা লাচেনপা। ৩৬ মিনিটে ফের দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা মোহনবাগানের। রশিদের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ছাংতেকে দেন জেলকোভিচ। মাঝমাঠের কাছাকাছি জায়গা থেকে ছাংতের দূরপাল্লার জোরালো শট অবশ্য দুর্দান্ত দক্ষতায় বিপদমুক্ত করেন লাচেনপা। এক মিনিট পরেই ফের ইস্টবেঙ্গল গোলকিপারের পরীক্ষা নেন সাহাল। বক্সের ডান দিক থেকে তাঁর নিচু হাফ-ভলি বাঁ দিকের পোস্ট লক্ষ্য করে এগোলেও দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার। ৪৫ মিনিটে গোল করে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন জেলকোভিচ। বক্সের বাইরে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভুল থেকে বল পেয়ে যান সাহাল। তিনি চিপ করে বল তুলে দেন সমিরের উদ্দেশে। সুযোগ বুঝে বল নিয়ে সোজা বক্সে ঢুকে পড়েন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ফুটবলার। ঠান্ডা মাথায় বল জড়িয়ে দেন জালে। ডার্বির প্রথমার্ধ শেষ হয় মোহনবাগানের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়। তবে প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে আনোয়ার আলি না থাকায় বারবার সমস্যার মধ্যে পড়েছে লাল-হলুদ রক্ষণ। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে নামালেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলমুখ খুলতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ৪৮ মিনিটে সাহাল ক্রস ধরতে গিয়ে লাচেনপার সঙ্গে ধাক্কা খান। ৫৫ মিনিটে রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এডমুন্ড। ৫৮ মিনিটে পিভি বিষ্ণু ও আকে লোবাকে নামান হাবাস। অন্যদিকে ৬৬ মিনিটে সাহালের বদলে মনবীরকে নামান পানোস। তার আগে অবশ্য সন্দীপ মান্ডির সঙ্গে ট্যাকেলে মাথা ফাটে দ্রাজিচের। তবু লড়াই ছেড়ে যাননি। তাঁর শরীরী ভাষা যেন কথা বলছিল। যেভাবে ফেয়ার ট্যাকেলে গেলেন, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ৬৭ মিনিটে পোলিশ স্টাইকাত জিওলিনস্কির হেড দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান বিশাল। পরের মিনিটে ছাংতের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৭০ মিনিটে জোড়া বদল করেন পানোস। লি এরউইন ও ছাংতের জায়গায় নামেন মনবীর ও অনিরুদ্ধ থাপা। ৭১ মিনিটে এডমুন্ডকে তুলে ডেভিডকে নামান হাবাস। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের খেলায় সেই তাগিদ দেখা গেল না। ফ্রিকিক পেয়েও রশিদের শট আটকে গেল মানবপ্রাচীরে। লোবা বারবার বল হারালেন, জিওলিনস্কির হেড ছাড়া উল্লেখযোগ্য সুযোগও তৈরি করতে পারল না লাল-হলুদ। ক্লান্ত, ছন্দহীন ফুটবলে ম্যাচের শেষটাও হয়ে উঠল বিবর্ণ। শেষ পর্যন্ত ২০২৫-এর পর ২০২৬-এও আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলল মোহনবাগান। এই নিয়ে ২২ বার শিল্ড জিতল সবুজ-মেরুন। নতুন কোচ পানোসেরও এটাই প্রথম ট্রফি। ডুরান্ড হারের জবাব আইএফএ শিল্ডে দিল মোহনবাগান। ১৯৭৬ সালের পর কলকাতা লিগের সঙ্গে আবার আইএফএ শিল্ডও একই মরশুমে সবুজ-মেরুন তাঁবুতে এল।



