RK NEWZ ইরানি কাপে অবশিষ্ট ভারতের কোচ ছিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি বাংলার প্রধান কোচ। দুই ছাত্রকে ভাল খেলতে দেখে উচ্ছ্বসিত লক্ষ্মী। নিউজিল্যান্ড সিরিজর জন্য ভারত ‘এ’ দল ঘোষিত হয়েছে। সেখানে জায়গা পেয়েছেন বাংলার দুই পেসার আকাশদীপ ও মুকেশ কুমার। পাবেন না-ই বা কেন। সদ্য ইরানি কাপের ফাইনালের দুই নায়ক তাঁরা। দুই বোলারের কাঁধে ভর দিয়ে গত বারের রঞ্জিজয়ী দল জম্মু-কাশ্মীরকে হারিয়েছে অবশিষ্ট ভারত। ইরানিতে অবশিষ্ট ভারতের কোচ ছিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্ল। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি বাংলার প্রধান কোচ। দুই ছাত্রকে এত ভাল খেলতে দেখে উচ্ছ্বসিত লক্ষ্মী। ইরানির ফাইনালে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়েছেন মুকেশ। আকাশ নিয়েছেন ৬ উইকেট। অর্থাৎ, জম্মু-কাশ্মীরের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৪টিই তাঁদের। দুই পেসারকে নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-কে লক্ষ্মী বললেন, “গত চার বছরে দু’জনের উত্থান অসাধারণ। আকাশদীপের কথা আলাদা করে বলতে পারি। ও ভারতের হয়ে টেস্ট খেলার পরেও ইডেনের ডরমিটরিতে থেকেছে। এটা দেখা যায় না।” আকাশদীপের আগে ভারতের টেস্ট দলে অভিষেক হয়েছিল মুকেশের। কিন্তু বেশি দিন খেলেননি তিনি। ইরানির ফাইনালে নামার আগে ছাত্রকে কী বলেছিলেন লক্ষ্মী? বাংলার কোচ বললেন, “গত দু’বছর ধরে মুকেশ ভারতীয় দলের বাইরে। সেখান থেকে ইরানি ফাইনালে এ রকম পারফরম্যান্স অসাধারণ। মুকেশকে বলেছিলাম, তোকে যদি কামব্যাক করতে হয় তা হলে এই ম্যাচটাই সুযোগ। এখানে করে দেখা। সেটা ও করে দেখিয়েছে।” আকাশও গত বছর ইংল্যান্ড সফরের পর থেকে চোটে। ফলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। চোট সারিয়ে ফেরার পর পুরনো আকাশকে দেখতে পাচ্ছেন লক্ষ্মী। তিনি বললেন, “আকাশ গত আট মাস মাঠের বাইরে। গত মরসুমে বাংলার হয়ে রঞ্জির সেমিফাইনাল খেলেছিল। তার পর থেকে উৎকর্ষ কেন্দ্রে রয়েছে। সেখান থেকে ফিরে ও ঘণ্টায় ১৪৪-১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করছে। এই কামব্যাক অসাধারণ।” আকাশের পরিবারে নানা রকম সমস্যা রয়েছে। তাঁর দিদি ক্যানসার আক্রান্ত। ইংল্যান্ড সিরিজে দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর দিদির নামই করেছিলেন আকাশ। লক্ষ্মীও সেই কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বললেন, “আকাশের বাড়িতে অনেক সমস্যা রয়েছে। দিদির ক্যানসার। তার মধ্যে আকাশের সদ্য বিয়ে হয়েছে। ওর বউ ওকে খুব সমর্থন করে। বাড়ির এই সমর্থন পেয়েছে বলেই ও এ ভাবে খেলতে পারছে।” দুই পেসারের পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন লক্ষ্মী। তা হলে কোচ হিসেবে তিনি কী করেছেন? লক্ষ্মীর স্পষ্ট জবাব, “আমি শুধু ওদের উৎসাহ দিয়ে গিয়েছি। বাকিটা ওরা নিজেই করেছে।”
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের দল ঘোষণা করে দিয়েছে ভারত। ঘোষণা করা হয়েছে ভারত ‘এ’ দলও। কিন্তু এক দিনের সিরিজের দল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। কেন এই দেরি? নির্বাচকেরা অপেক্ষা করছেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের ‘এ’ দলের খেলার উপর। সেখানে বেশ কয়েক জন প্রথম সারির ক্রিকেটার রয়েছেন। তাঁদের দিকে নজর রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে ভারত। নির্বাচকেরা চাইছেন, সিরিজ়কে দু’ভাগে ভাগ করতে। প্রথম তিন ম্যাচের জন্য একটি দল। পরের দুই ম্যাচে কিছু বদল হতে পারে। সেখানে ভারত ‘এ’ দলের মধ্যে থেকে কয়েক জনকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ভারত ‘এ’ দলে সাই সুদর্শন, দেবদত্ত পডিক্কল, রজত পাটীদারের মতো ক্রিকেটারেরা রয়েছেন। তাঁদের এক দিনের দলে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আগামী বছর এক দিনের বিশ্বকাপ। তার আগে একটি বড় স্কোয়াড তৈরি রাখতে চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই কারণেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে শুরুতে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে ভারত। তার পর পাঁচটি এক দিনের ম্যাচ। শেষে দু’টি টেস্টের সিরিজ। জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ভারতের এক দিনের দল ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগে একটু সময় নিয়ে নিচ্ছেন নির্বাচকরা।
ভারত ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে ধ্রুব জুরেলকে। দলে রয়েছেন কেএল রাহুল, ঋষভ পন্থ, যশস্বী জয়সওয়াল, দেবদত্ত পাড়িক্কল, রবিচন্দ্রন স্মারণ, ওয়াশিংটন সুন্দর, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, খলিল আহমেদ এবং তিলক বর্মার মতো তারকা ক্রিকেটারেরা। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরেছেন সাই সুদর্শনও। জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি-সহ দলে রয়েছেন মোট ১২ জন ক্রিকেটার, যাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভারত ‘এ’-কে নেতৃত্ব দেবেন ধ্রুব জুরেল।
ভারত ‘এ’ এবং নিউজিল্যান্ড ‘এ’-র প্রথম চার দিনের ম্যাচটি হবে ২৪ থেকে ২৮ অক্টোবর লিঙ্কনে। দ্বিতীয় ম্যাচ ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর ক্রাইস্টচার্চে। শেষ ম্যাচটি ৭ থেকে ১০ নভেম্বর লিঙ্কনে। তবে মূল ভারতীয় দলের সঙ্গে সূচির সংঘাত থাকায় কয়েকজন ক্রিকেটারকে সব ম্যাচে পাওয়া নাও যেতে পারে। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-নিউজিল্যান্ড পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে কেএল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল এবং ওয়াশিংটন সুন্দর যদি মূল ওয়ানডে দলে থাকেন, তাহলে ভারত ‘এ’ দলের শেষ দিকের ম্যাচগুলিতে তাঁদের পাওয়া যাবে না। এরপর শুরু টেস্ট সিরিজ। ১৯ নভেম্বর থেকে ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্ট। তারপর ২৭ নভেম্বর থেকে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্ট।
ভারত ‘এ’ দল:
ধ্রুব জুরেল (অধিনায়ক), যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল, দেবদত্ত পাড়িক্কল, রবিচন্দ্রন স্মারণ, ঋষভ পন্থ, ওয়াশিংটন সুন্দর, আকিব নবি, আকাশ দীপ, অংশুল কাম্বোজ, মানব সুথার, মুকেশ কুমার, সাই সুদর্শন, খলিল আহমেদ, তিলক বর্মা।




