Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচে কাঁদলেন, কাঁদালেন মেসি!‌ বিদায়ী ম্যাচেও গোল, অ্যাসিস্ট! স্মরণীয় রাত বুয়েনোস আইরসে

RK NEWZ চোখের জলে সমাপ্ত মেসি ম্যাজিক, গোল-অ্যাসিস্টে রাঙিয়ে নীল-সাদা জার্সিকে বিদায় কিংবদন্তির। স্বয়ং লিওনেল আন্দ্রেস মেসিও কি তৈরি ছিলেন? এখনও আর্জেন্টিনাকে তিনি অনেক কিছু দিতে পারতেন। হয়তো আরও কয়েকদিন খেলে যেতে পারতেন। অন্তত বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে যেভাবে গোল-অ্যাসিস্ট করলেন, তাতে আফসোস থেকেই যায়। কিন্তু তিনি নিজের ভাগ্য নিজে লিখেছেন। মাঠে সব জিতেছেন, সব! মাঠের বাইরে কোটি-কোটি ভক্তর মন জিতেছেন। তাই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচে বিশ্বজুড়ে আবেগের ঢেউ। চোখের জল বাঁধ মানছে না। বুয়নেস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে যেন আর্জেন্টিনার ম্যাচ নয়, আয়োজিত হল এক অতিমানবের মহাপ্রস্থানের অলৌকিক লোকগাথা। বিশ্বকাপের পরই ঠিক করেছিলেন, আর দেশের হয়ে খেলবেন না। বাবা জর্জের মৃত্যু হয়তো সেই সিদ্ধান্তে শিলমোহর দেয়। এদিন স্টেডিয়ামে নীল-সাদায় মেসির শেষ ম্যাচে হাজির ছিলেন মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো, তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। শুধু জর্জে ছিলেন না। যাঁকে ছাড়া মেসির ফুটবল জীবন অসম্পূর্ণ। সেই অভাব কোনও দিন ঘুচবে না। যেমন ঘুচবে না আর্জেন্টিনায় মেসির অভাব। নিকো পাজ, জুলিয়ান আলভারেজদের নতুন প্রজন্মকে আবাহন করা হল ঠিকই। কিন্তু মেসি যে আজও মেসিই, সেটা ম্যাচের প্রতিটা মুহূর্তে বোঝা গেল। বিদায়ী ম্যাচের জন্য বিশেষ জার্সি তৈরি করা হয়েছিল। নীল-সাদায় ছিল বিশ্বজয়ের সোনালি ছোঁয়া। ম্যাচের আগে কিছুক্ষণ পরপর আতশবাজির ধুম। আলোর রোশনাইয়ে ভাসছে ৮৫ হাজার দর্শকের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। গোটা দেশজুড়ে দেওয়ালে-দেওয়ালে, রাস্তায়-রাস্তায় মেসির বিদায় সংগীত। একটা দেশ সুখে-দুঃখে বিদায় উৎসবে মেতেছে। কান্না আছে, কষ্ট আছে। আবার তিনি ছিলেন বলে আনন্দও আছে। বিদায়ী ম্যাচে প্রতিপক্ষ বেনিন। ফুটবল বিশ্বে অজ্ঞাতকুলশীল এক দেশ। নেহাত মেসির শেষ ম্যাচ বলে তারা নাকি বিনা পয়সায় ম্যাচ খেলতে রাজি হয়ে গিয়েছে।

ম্যাচের আগে সবার চোখে জল। জাতীয় সঙ্গীতের সময় চোখের জল সামলাতে পারলেন না খোদ মেসিও। সামনে তিন সন্তানকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। স্টেডিয়াম জুড়ে ‘ওলে ওলে মেসি’ ধ্বনি। ‘গ্রাসিয়াস ১০’ লেখা এক বিরাট জার্সি মেলে ধরা হল মাঠের মাঝখানে। বেনিনের ফুটবলাররা তাঁদের দেশের স্মারক তুলে দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়কের হাতে। মেসি শুরু করলেন নিজের ছন্দেই। ১০ মিনিটের মাথায় ম্যাচ বন্ধ করে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ দেওয়া হয়। প্রথমার্ধে গোল আসেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মেসির কর্নার থেকে গোল করলেন ওটামেন্ডি। ৩৮ বছর বয়সি ডিফেন্ডারেরও এটা বিদায়ী ম্যাচ। এরপর ৬১ মিনিটে মেসির পাস থেকেই নিকো পাজের গোল। বক্সের বাইরে থেকে বাঁপায়ের বাঁক খাওয়ানো শট দেখে অনেকের সেই মেসির কথাই মনে পড়বে। এরপর এল সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জালে বল জড়ালেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২৬ তম গোল। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা জয়। দেশের চোখে মহানায়ক। বিশ্বজুড়ে কোটি-কোটি ফুটবলপ্রেমীর নয়নের মণি। এরচেয়ে ভালো বিদায় আর কী হতে পারে! বিদায় মেসি। গ্রাসিয়াস। ধন্যবাদ। সবকিছুর জন্য। মঙ্গলবারের রাতটা সাধারণ কোনও রাত ছিল ছিল না। বুয়েনোস আইরেসের এস্তানিয়ো মনুমেন্টালে থাকা দর্শকেরা জানতেন, এই রাত আর জীবনে ফিরবে না। ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে সে ভাবেই বিদায় জানালেন তাঁরা। আবেগ, আতসবাজি, আলোর জাদু, সমবেত হাততালি— মেসির সামনে রাতটাকে স্মরণীয় করে রাখলেন সমর্থকেরা। উপরি পাওনা মেসির পা থেকে একটি গোল এবং দু’টি অ্যাসিস্ট। দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচেও মেসি সেই কাজটিই করলেন যা এত বছর ধরে করে এসেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles