RK NEWZ সৌরভ একেবারেই সিএবির সভাপতির দায়িত্ব ছাড়ছেন না। যা খবর, তিনি ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওমবাডসম্যানের থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী, এক সঙ্গে দু’টি পদে থাকা যাবে না। কারণ, স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট। কিন্তু জানা গেল, সৌরভের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হচ্ছে না। বিসিসিআইয়ের এথিক্স অফিসারের নির্দেশ সেরকমই। সৌরভ যখন দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের অন্যতম মালিক জেএসডব্লিউ-এর ‘ডিরেক্টর ক্রিকেট’ পদে এসেছিলেন, তখন সঞ্জীব গুপ্ত স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এথিক্স অফিসার, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অরুণ মিশ্র সৌরভকে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। এ বারও সেটিকেই সৌরভ ঢাল করছেন বলে সূত্র মারফত জানা গেল। বিচারপতি তাঁর নির্দেশে বলেছিলেন, অভিযোগে স্পষ্ট করা হয়নি। এক, একটি পদের দায়িত্ব পালন কী ভাবে অন্য পদের দায়িত্বকে প্রভাবিত করে? দুই, কী ভাবে ক্রিকেট খেলার স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? তিন, এই পদগুলিতে বহাল থাকার কারণে সৌরভ কী ভাবে কোনও অসঙ্গত বা অনুচিত সুবিধা পাচ্ছেন? বিচারপতি মিশ্র বলেছিলেন, বিসিসিআই-এর সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তির কেবল অন্য কোনও পদে বহাল থাকা আপনাআপনি স্বার্থের সংঘাতের সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর জন্য যথেষ্ট না-ও হতে পারে। সৌরভের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, ‘‘রোল কমপ্রোমাইজ়’’ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি বলেছিলেন, “এটি তখন ঘটে যখন একজন ব্যক্তি বিসিসিআই, আইপিএল সদস্য বা ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে এমন দুটি পৃথক বা স্বতন্ত্র পদ ধরে রাখেন, যার দায়িত্ব পালনে একটির কাছে অন্যটির অনুগত থাকা বা মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এই ভিত্তিতে পরীক্ষা করলেও, অভিযোগকারী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে বিবাদী (সৌরভ) অভিযোগে উল্লিখিত পদে বহাল থেকে কী ভাবে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছেন যেখানে একটি পদের দায়িত্ব পালন অন্য পদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপস ঘটায়, প্রভাব ফেলে বা মুখোমুখি দাঁড় করায়।” বিচারপতি তাঁর নির্দেশে আরও বলেছিলেন, “বিসিসিআই-এর কাঠামোয় (নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না থাকলে) কেবল দুটি পৃথক বা স্বতন্ত্র পদে বহাল থাকাকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেই পরিস্থিতিকে, যেখানে এই পদগুলিতে বহাল থাকার ফলে বিধি ৩৮-এ উল্লেখিত ভূমিকার আপস বা সংঘাত সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারী এমন তথ্য পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যেখানে আপসের কথা প্রমাণিত হয়। ফলে অভিযোগটি টিকতে পারে না।” সৌরভের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের কোনও বাস্তব বা সম্ভাব্য আশঙ্কা, নিরপেক্ষতার অভাব বা স্বজনপ্রীতি, আর্থিক বা অন্য কোনও সুবিধা প্রাপ্তি, অভিযোগে উল্লিখিত পদগুলোর মধ্যে কোনও গোপন আঁতাঁত বা যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি, তা-ও নির্দেশে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বিচারপতি মিশ্র। তিনি বলেছিলেন, “ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি, জেএসডব্লিউ স্পোর্টসের ডিরেক্টর – ক্রিকেট, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগের দলের হেড কোচ হিসেবে সৌরভের দায়িত্ব পালন কী ভাবে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে, তা দেখানোর মতো কোনও তথ্যগত উপাদান রেকর্ডে নেই। এগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক পদ, যাদের একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও সম্পর্ক নেই।” সৌরভের দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হওয়ার কথা সকরারি ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। হেমাঙ্গ বাদানির জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন সৌরভ।
জেএসডব্লিউ এবং জিএমআর-এর যৌথ মালিকানাধীন দিল্লি ক্যাপিটালস একটি ভিডিয়োবার্তায় জানিয়েছে, সৌরভ ২০২৭ আইপিএলে তাদের প্রধান কোচ হচ্ছেন। গত দু’বছর, অর্থাৎ, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে এই দায়িত্বে ছিলেন বাদানি। সৌরভ বলেছেন, “আইপিএলে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে আমি দারুণ আগ্রহী। দিল্লি ক্যাপিটালস এমন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি, যা আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি, এবং বিগত বছরগুলোতে এদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই মধুর। আমি মালিকপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদ, সাপোর্ট স্টাফ এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করেছি, যা এই দায়িত্বটাকে আমার কাছে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। আমাদের একটা দারুণ দল রয়েছে এবং বিগত দিনে আমরা অসাধারণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছি। আমি দলের সঙ্গে কাজ করার, নতুন মরসুমের অভিজ্ঞতা নেওয়ার এবং একটা শক্তিশালী দল গড়ে তোলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।” সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হবেন, সেই ঘোষণা ছিল সময়ের অপেক্ষা। এরপর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিনি কি আর রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবির সভাপতি পদে থাকতে পারবেন?



