RK NEWZ মনুমেন্টালের গ্যালারিতে শেষবারের মতো শোনা যাবে পরিচিত আওয়াজ–‘মেসি…মেসি..মেসি।’ শেষবারের মতো মেসি দৌড়বেন আর্জেন্টিনার দশ নম্বর জার্সি গায়ে। বুধবার ভারতীয় সময় ভোর রাতে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে সেরকমই এক রাত ফিরতে চলেছে। গ্যালারিতে উড়বে হাজার-হাজার আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা। পঁচাশি হাজারের স্টেডিয়াম সর্বক্ষণ একটা নামের কোরাস গাইবে–লিওনেল মেসি। মাস দু’য়েক আগে সোশাল মিডিয়ায় আবেগঘন এক বার্তা দিয়ে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করে। কিন্তু রাজা আর কবেই বা এরকমভাবে বিদায় জানিয়েছেন! আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন ঠিক করে, নিজেদের ঘরের মাঠে একটা প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হবে। সেখানে মেসির বিদায়ী সংবর্ধনা হবে। বুধবার ভারতীয় সময় ভোর রাতে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে সেরকমই এক রাত ফিরতে চলেছে। গ্যালারিতে উড়বে হাজার-হাজার আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা। পঁচাশি হাজারের স্টেডিয়াম সর্বক্ষণ একটা নামের কোরাস গাইবে–লিওনেল মেসি। মাস দু’য়েক আগে সোশাল মিডিয়ায় আবেগঘন এক বার্তা দিয়ে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করে। কিন্তু রাজা আর কবেই বা এরকমভাবে বিদায় জানিয়েছেন! আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন ঠিক করে, নিজেদের ঘরের মাঠে একটা প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হবে। সেখানে মেসির বিদায়ী সংবর্ধনা হবে। একটা সময় ছিল, যখন বারবার প্রশ্ন উঠত–ক্লাবের মেসি দেশের হয়ে কোথায়? একের পর এক ব্যর্থতা। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার। কোপায় হার। ২০১৬-র কোপা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। অবসরের ঘোষণা–‘আমি আর ফিরছি না।’ শেষটা সেখানে হলে আর পাঁচজনের মতো তা সাধারণের গল্প হয়ে থেকে যেত। কিন্তু মেসি যে আলাদা। অবসর ভেঙে তিনি ফেরেন। ফেরেন জীবনের মহাকাব্য লিখতে। প্রথমে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা জয়। ইটালিকে গুঁড়িয়ে ফিনালিসিমা। তারপর দোহার সেই মায়াবী রাত। জাদুকরী বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে অধরা মাধুরীর স্পর্শ। চাইলে তখন ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। দেশের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন। তৈরি করেছেন আরও অনেক স্মৃতি। এবার যে সত্যিই শেষ! মনুমেন্টালের গ্যালারিতে শেষবারের মতো শোনা যাবে পরিচিত আওয়াজ–‘মেসি…মেসি..মেসি।’ শেষবারের মতো মেসি দৌড়বেন আর্জেন্টিনার দশ নম্বর জার্সি গায়ে। শেষবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে গাইবেন জাতীয় সঙ্গীত। শেষবারের মতো গ্যালারির দিকে হাত নাড়াবেন। সেই মুহূর্তে হয়তো মেসির চোখেও জল আসবে। এই জার্সির সঙ্গে সম্পর্ক শুধু ফুটবলের নয়। সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৈশবের স্বপ্ন। দেশের হয়ে কিছু করে দেখানোর তাগিদ। জড়িয়ে রয়েছে ব্যর্থতার তীব্র যন্ত্রণা। আবার বিশ্বজয়ের আনন্দ। যে মেসি নিয়ে একটা সময় তাঁর দেশের লোকেরা প্রশ্ন তুলতেন, তাঁরাই আজ বিদায়ের প্রাক্কালে প্রবল ভারাক্রান্ত। স্টেডিয়ামে হয়তো পঁচাশি হাজার দর্শক বসতে পারবেন। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে থাকবেন কয়েক লক্ষ। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি যেমন বলছিলেন, “যদি পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সেটাও মঙ্গলবার ভরে যেত। সব জায়গা থেকে মেসেজ পাচ্ছি। যখনই মেসিকে নিয়ে কথা হবে, নস্ট্যালজিক হয়ে পড়বে সবাই। সবাই ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। মেসি নিজেও। সবার কাছে অবিস্মরণীয় একটা দিন হয়ে থাকবে এই মুহূর্ত। আমি নিজেও সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারব, সেটা ভেবে দারুণ লাগছে।” সময়ের নিয়মে সবাইকে থামতে হয়। মেসিও এবার থামছেন। মঙ্গলবারের রাত (সে দেশের স্থানীয়) সময়) তাই আর্জেন্টিনার কাছে শুধুই একটা ম্যাচ নয়। তাদের প্রিয় দশ নম্বরকে শেষবারের মতো ভালোবাসার রাত।



