Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সুপ্রিম কোর্টে মামলা! কমিশন নীরব কেন?‌ জ্ঞানেশের ইস্তফা চেয়ে ক্রমশ বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে রাজ্যে রাজ্যে!‌

RK NEWZ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন তাকে বৈধতা দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সিজেপির প্রধান। সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের পাল্টা বক্তব্য, বিরোধীরা ভোট বয়কট করার অর্থ, সব আসন একাই জিতে যাবে বিজেপি। শুধু বিরোধীরা নয়, এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে সরব শাসকজোট এনডিএ-র তিন শরিকদলও। তাদের দাবি, বিরোধীদের স্বার্থে না-হলেও সাধারণ ভোটারদের স্বার্থে মুখ খুলুন জ্ঞানেশ। জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টেও। সেখানে মামলা করে বলা হল, ‘সাধারণ অভিযুক্তের মতোই’ বিচারের আওতায় আনা হোক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী দলগুলি। তাঁদের দাবি একটাই— ইস্তফা দিন জ্ঞানেশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা যুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল ডেটাবেস অ্যাক্সেস সংক্রান্ত বিষয়ে অন্তত ১৪ বার ‘অন-রেকর্ড’ (চিঠি লিখে বা ফাইলে নোট দিয়ে) আপত্তি জানিয়েছেন। যদিও কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন মেনেই হয়েছিল।

সেই নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির দাবি, ‘ভোটচুরি’ করা হয়েছে। আদতে ভোটারদেরই প্রতারণা করা হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সময় আসবে, ছাড় পাবেন না! বিচার হবে। এ বার বিচার চেয়ে গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পথে নামল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। আটক হলেন বহু নেতা-কর্মী। ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকের প্রশ্নের তির আবার বিরোধীদের দিকেই। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন তাকে বৈধতা দিচ্ছে?

এর মধ্যে আবার জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠীর দাবি, জ্ঞানেশকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা দরকার। সেই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খন্নাকেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (আরপিএ আইন) ৩২ নম্বর ধারার অধীনে তদন্ত এবং বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে মামলায়। শৈলেন্দ্র পেশায় আইনজীবী। ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী সরকারি কাজ বা যে কোনও পদক্ষেপের জন্য বিশেষ রক্ষাকবচ পান নির্বাচন কমিশনারেরা। সেই রক্ষাকবচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। আবেদনে তিনি বলেছেন, ‘‘যখন কোনও কাজ এবং সরকারি দায়বদ্ধতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে না, তখন যৌক্তিক সংযোগ বাতিল হয়ে যায়। সেই কারণেই ২০২৩ সালের আইনের ১৬ নম্বর ধারার অধীনে প্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারদের রক্ষাকবচও অকার্যকর হয়ে যায়।’’

প্রশ্ন উঠেছে নতুন ভোটারদের নাম তোলার বার্ষিক প্রক্রিয়া বা ‘বার্ষিক সংক্ষিপ্ত সংশোধন’ (‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ বা এসএসআর) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করেও। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় গড়িমসির অভিযোগ উড়িয়ে কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর থেকে ১৮-২৮ বছর বয়সি ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেও সরব হয়েছে এনডিএ-র তিন শরিক দল— লোক জনশক্তি পার্টি, টিডিপি এবং রাষ্ট্রীয় লোকদল। তাদের দাবি, জনগণের স্বার্থে মুখ খুলুন জ্ঞানেশ। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসন করুন।

জ্ঞানেশ-কাণ্ডে সরব হয়েছে এনডিএ-র তিন শরিক দল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান, রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা শুক্রবার জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনের এ বার মুখ খোলা উচিত। পটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে চিরাগ জানান, বিরোধীদের প্রশ্ন নিয়ে মুখ খোলার প্রয়োজন নেই, তবে জনগণের উদ্বেগ নিরসন করা উচিত। তাঁর কথায়, ‘‘একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, সাংবিধানিক সংগঠনের হয়ে কথা বলতে চাই না। বিরোধীরা যা বলছে, তা নিয়েও আমি খুব একটা চিন্তিত নই, কারণ ওটাই ওদের রাজনৈতিক অবস্থান।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘তবে বলতে পারি, বিরোধীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের ভরসা ধরে রাখতে নির্বাচন কমিশনের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা দরকার।’’ উপেন্দ্র সংবাদমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে একই ভাবে কমিশনকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার কথা বলেছেন। টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুরও একই দাবি। তাঁরও মত, জ্ঞানেশের এ বিষয়ে মুখ খোলা উচিত।

দেশ জুড়ে বিরোধী দলের সমর্থকদের এখন একটাই দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমেছেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকেরা। দিল্লিতে কংগ্রেস সমর্থকদের একটি দল ব্যারিকেড ভেঙে নির্বাচন কমিশনারের দফতরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ বেশ কয়েক জন কংগ্রেসকর্মীকে আটক করে। দুপুরে আটক করা হয়েছে যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অসমেও বিক্ষোভ দেখানোর সময় জেলা কংগ্রেস প্রধান গৌরব গগৈ-সহ বেশ কয়েক জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পটনায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের উদ্দেশে এগোচ্ছিলেন বহু কংগ্রেস সমর্থক। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পুদুচেরী, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেহরাদূন, জম্মু, কলকাতা-সহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেই বিরোধী দলগুলি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘বিজেপির হয়ে ভোটচুরির’ অভিযোগ এনেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন তাকে বৈধতা দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান দীপকে। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে দেশের বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে দীপকে বলেন, “ভোটে কারচুপি হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি কারচুপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তা হলে সেগুলিকে বৈধতা দেওয়া হয়ে যায়। নির্বাচন অবাধ এবং স্বচ্ছ এমন একটি ভুল ধারণাও তৈরি হয়।” দীপকের মতে, অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্যই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ‘কারচুপির’ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই সূত্রেই বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে সিজেপি নেতার প্রশ্ন, “যখন ভোট চুরি হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে, দল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোন ধরনের অস্তিত্ব টেকানোর চেষ্টা করছেন আপনারা?” একই সঙ্গে দীপকের সংযোজন, “যে ব্যবস্থা আপনাদের দুর্বল করে, দল ভেঙে দেয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে নেয়, সেই ব্যবস্থা এই ভাবে কত দিন টিকে থাকা সম্ভব?” এই প্রসঙ্গে মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সমাজমাধ্যমে লেখেন, বিরোধীরা ভোট বয়কট করার অর্থ, সব আসন একাই জিতে যাবে বিজেপি। ভোটে না লড়াই করলে তা দলের কর্মীদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়েই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি খারিজ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠী। কমিশনের অন্দরে জ্ঞানেশের সিদ্ধান্তগুলিকে খারিজ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘সাধারণ অভিযুক্তের মতো’ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী। ভোটারদের নাম তোলার বার্ষিক প্রক্রিয়া বা ‘বার্ষিক সংক্ষিপ্ত সংশোধন’ (‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ বা এসএসআর) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় গড়িমসির অভিযোগ উড়িয়ে কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর থেকে ১৮-২৮ বছর বয়সি ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশ জুড়ে কোনও এসএসআর না হওয়ায় ফলে কয়েক কোটি তরুণ-তরুণী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সঁধু এবং জোশী এই ‘ঢিলেমি’ নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জ্ঞানেশকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়। সাধারণ ভাবে ফর্ম-৬ পূরণ করেই নতুন ভোটারেরা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। খবর প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা নতুন করে সুর চড়িয়েছে। এই আবহে শুক্রবার কমিশন জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৪ নম্বর ধারার ২০২১ সালে করা সংশোধনী এবং ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এমন যে কোনও ব্যক্তি যাঁর নাম ভোটার তালিকায় নেই বা যিনি ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই বা ১ অক্টোবর ১৮ বছর বয়সে পৌঁছোবেন, তিনি এসএসআর-এর জন্য অপেক্ষা না-করেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তি করতে পারেন। এসএসআর এবং এসআইআর উভয়ই ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারার অধীনে করা হয়। দু’টিই একসঙ্গে করা আইনত বাধ্যতামূলক নয়। জ্ঞানেশের কন্যা বলেই কি নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের মামলা রস্টার অমান্য করে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চে পাঠানো হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিল আইনজীবীদের সংগঠন ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’। বুধবার জ্ঞানেশ-কন্যার মামলার শুনানির সময় ভিডিয়ো কনফারেন্সের অডিয়ো মিউট রাখা হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের ওই সংগঠনটি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, সুপ্রিম কোর্টে গত ১৩ জুলাই থেকে যে রস্টার চালু রয়েছে, তাতে হেবিয়াস কর্পাস এবং সতর্কতামূলক আটক সংক্রান্ত মামলাগুলি প্রথম চারটি বেঞ্চে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি এমএম সুন্দরেশের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যাওয়ার কথা। বস্তুত নয়ডার যে শ্রমিক বিক্ষোভের সূত্রে জ্ঞানেশ-কন্যা মেধার নাম উঠে আসে, সেই সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলি বিচারপতি নাগরত্নের বেঞ্চেই রয়েছে। তা হলে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মেধা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের দু’টি মামলা একত্রে বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হয় কী করে, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles