Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘গুন্ডাদমন’ বিল ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু! আপত্তি জানিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি

RK NEWZ অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গত জুন মাসে ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’ বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। রাজ্যে বহু আলোচিত গুন্ডাদমন বিলে আপত্তি জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন বিলে উল্লিখিত বিধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মাদকবিরোধী আইন ‘এনডিপিএস’-এর সংঘাত তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি ওই পদক্ষেপ করেছেন। যার প্রেক্ষিতে বিরোধীরা কটাক্ষ করলেন শুভেন্দুর সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা তোপ দাগলেন, এত দিন যা বলে এসেছেন, তাই করেছেন। সবুর করার পরামর্শ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, গুন্ডাদের জেলেই থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া নোট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন বিলের অনুচ্ছেদ বি-তে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি ‘ন্যাশনাল ড্রাগ অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস্ অ্যাক্ট, ১৯৮৫’ অনুসারে শাস্তিযোগ্য কোনও অপরাধ করলে, করার চেষ্টা করলে, অপরাধে মদত দিলে অথবা অপরাধীকে আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা দিলে তাঁকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে এই ধরনের ব্যক্তিকে যে ভাবে নিবর্তনমূলক আটক (অর্থাৎ সন্দেহবশে আটক) রাখার কথা বলা হয়েছে, তা ‘প্রিভেনশন অফ ইল্‌লিসিট ট্রাফিক ইন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস্ অ্যাক্ট, ১৯৮৮’-এর পরিপন্থী। এই কেন্দ্রীয় আইনে মাদক এবং মানসিক রোগের ওষুধের অবৈধ ব্যবসায়ীদের নিবর্তনমূলক আটকের ভিন্ন বিধান রয়েছে। কারণ, ‘পিআইটিএনডিপিএস ১৯৮৮’ নামের ওই কেন্দ্রীয় আইনে ইতিমধ্যেই মাদক কারবারিদের প্রতিরোধমূলক সশ্রম সাজার সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বলবৎ রয়েছে। ফলে এই প্রস্তাবিত বিলে রাজ্য সরকার মাদক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করায় কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সমান্তরাল আইনি পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে, যা ভারতীয় সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আইনি দ্বৈততা বা বিরোধ এড়াতে বিলে ২(ডি)(৩) (বি)অনুচ্ছেদ থেকে মাদক সংক্রান্ত ধারাটি ছেঁটে ফেলে সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবে খানিক অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক আমলা বলেন, “নিশ্চিত ভাবেই সরকারের জন্য একটা সাময়িক ধাক্কা। কারণ, দ্রুত বিলটি কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল। তবে কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে পুনরায় বিধানসভায় পেশ করে বিলটি পাস করানোর আইনি পথ খোলা রয়েছে। তার পর বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।”

অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গত জুন মাসে ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’ বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যের নতুন সরকার। বিরোধীদের বিরোধিতার মুখেও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন যে, প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারির এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। প্রস্তাবিত বিলে অসামাজিক কার্যকলাপ ও ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের আদেশে নির্দিষ্ট কোনও এলাকা, শহর বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (তড়িপাড়) করার আইনি বিধান রয়েছে। অতীতে বেশ কয়েকটি জনসভা এমনকি, বিধানসভার অন্দরেও মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, ‘গুন্ডাদমন বিল’-এ রাজ্যপাল সই করেছেন এবং সেটা ইতিমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ জুলাই ধর্মতলার একটি প্রতিবাদ মিছিলে হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ওই ‘আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্য সরকার স্বীকার করে যে, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায়, তা আইনে পরিণত হয়নি। অন্য দিকে, ওই বিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। গত ৬ অগস্ট সেগুলি খারিজ করে দেয় বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। বিলটিতে রাষ্ট্রপতির সম্মতি না-মেলায় তাকে ‘প্রিম্যাচিয়োর’ বলে উচ্চ আদালত। এ-ও বলা হয়েছিল, বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেয়ে গেজেট বিজ্ঞাপিত হলে তবেই মামলাকারীরা পুনরায় আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতি শুভেন্দুর সরকারের বিল ফেরত পাঠানোর প্রেক্ষিতে শুক্রবার সমাজমাধ্যমে কটাক্ষপূর্ণ পোস্ট করেন মমতা-তৃণমূলের নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘‘ডবল ইঞ্জিন শুধু পোস্টারে। রিভার্স গিয়ারে রয়েছে সরকার। সংশোধনের জন্য হোমওয়ার্কের প্রয়োজন।’’ কালীঘাট-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ আবার নিশানা করেন ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়ক এবং এনসিপিআই সাংসদদের। তাঁর মন্তব্য, ‘‘যাদের চোর বলা হয়েছিল, তারাই তো বিজেপির ঘরে বসে রয়েছে। কেউ দিল্লির ধোপার বাড়ি যাওয়ার নাম করে রাজধানীতে বসে। আর এখানে বিজেপির বকলেস পরে অনেকে বসে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বললেন কী করে!’’ পর ক্ষণেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আসলে মুখ্যমন্ত্রী যখনই জেলে ঢোকানের কথা বলেন, বুঝে নিতে এগুলো ‘মিসড কল’। কোনও ফাইল খোলার কথা বলছেন, যাতে সেই নেতা সুড়সুড় করে বিজেপিতে যোগদান করেন।’’ শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা তো প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম যে, এই বিলের ভিত্তি নেই।” তার পরেই শুভেন্দুকে কটাক্ষ করে তাঁর সংযোজন, “ভাগ্যিস রাষ্ট্রপতি এই বিলে সই করেননি। না-হলে ওই আইনের জন্য আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকেই জেলে যেতে হত।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও খোঁচা দিয়েছেন বিজেপি সরকারকে। তিনি বলেন, “চারদিকে কত রঙ্গতামাশা চলছে গুন্ডাদমন আইনের নামে। রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এই বিল বানিয়ে পাঠানো হয় কী যুক্তিতে? এ বার বিধানসভায় এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। দোষীকে শাস্তি দিতে ভারতে কি আইন কম পড়েছে? আসলে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমনপীড়নের জন্য আইন আনার চেষ্টা করছিল। এই আইন নিয়েও কম তামাশা দেখিনি। এ দিকে, অত্যাচারিতেরা বিচার পাচ্ছেন না।” একই সুরে সরকারকে আক্রমণ করেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এমন ব্যবস্থা নেব, তিন পুরুষ মনে রাখবে। কত বড় বড় আওয়াজ! প্রত্যেক দিন ছবি উঠছে, আর উনি নানান প্রবাদ শোনাচ্ছেন। কিন্তু বাংলার প্রচলিত প্রবাদে আছে, ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশি। এদের অবস্থাও তাই। আগের সরকারের পথে চলছে। এই নিয়ে দু’বার আইন তৈরি হল এবং সেগুলি খারিজ হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গে হুমকির শাসন চালাচ্ছে বিজেপি।। বার বার ধাক্কা খাওয়ার পরেও শিক্ষা হচ্ছে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন গুন্ডাদমন বিল নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। অন্য দিকে, অভিষেকের কটাক্ষপূর্ণ পোস্টের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর দাবি, ভয় পেয়ে ওই সমস্ত লেখালেখি বা বলাবলি করছেন ‘গুন্ডা’রাই। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘গুন্ডারা ভয় পেয়েছে তাই পোস্ট করছে। করতে দিন ওদের। বাকিটা আমরা বুঝে নেব। আমরা যা করি আইন মেনে করি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এখনও পর্যন্ত যা বলেছি, তাই করেছি। তাই করবও। যারা গুন্ডা, তারা জেলে থাকবেই।’’

রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি গুন্ডাদমন বিল! হঠাৎ সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু বললেন, ‘মিথ্যা খবর’। গুন্ডাদমন বিল নিয়ে মিথ্যা প্রচার। অযথা ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর। মহামান্য রাষ্ট্রপতির দরবারে এখনও পরযন্ত পৌঁছয়নি বিলটি। এতএব তা ফেরত আসার কোনও ব্যাপার নেই। শুক্রবার রাতে হঠাৎ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিতর্কিত গুন্ডাদমন বিলটি সই না করে ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলে খবর ছড়ায় সংবাদমাধ্যমের একাংশে। সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো সুর চড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি। চায়ের কাপে রীতিমতো তুফান উঠতে শুরু হয় নানা আলোচনা চক্রে। তারপরই রাত পৌনে ১০টা নাগাদ হঠাৎ সাংবাদিক সম্মেলনে বসলেন শুভেন্দু। চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, “গল্পের গরু গাছে তুলবেন না। যান ডিনার করে শুয়ে পড়ুন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, তথাকথিত গুন্ডাদমন বিলে দু’টি অংশ। একটি (সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত) আগেই কার্যকর হয়েছে। অন্যটি রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। সেইটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে কাজ চলছে। এখনও পাঠানোই হয়নি। মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশে এই রকম বিল রয়েছে। বঙ্গে মাদকের ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করার আবেদন চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারকোটিক্সের ক্ষেত্রে বিএনএসে ৩ বছরের জেল ও জামিন যোগ্য বলা হয়েছে। আমরা জামিন অযোগ্য করতে চাইছি। তাই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। সবটাই নিয়ম মেনে হচ্ছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মাধ্যমে কাজ করছে।” এই বিলে কোথাও ‘গুন্ডা’ শব্দ নেই বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন রাতের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছন, “বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে যায়নি। কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি কাজ চলছে। মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে। দু’টি অংশের বিল ছিল। একটি আগেই কার্যকর। অন্যটি কার্যকর হবে। যাঁরা নিজেদের গুন্ডা মনে করেন তাঁরাই এই সব বলছেন। তাঁরা নিজেরাই জানেন বিল আইন হলে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles