RK NEWZ সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এই রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশকে তোপ দাগলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বললেন, “জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো (আপনার খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে)।” শুধু তাই নয়, এ নিয়ে ফের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। জ্ঞানেশের ইস্তফা দাবি করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করারও দাবি জানিয়েছে সিজেপি। এই সূত্রেই তাদের বক্তব্য, জ্ঞানেশকে কে বা কারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে। ‘যন্তর মন্তর ভার্সন ২’! দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগ না-করলে ফের দেশ জুড়ে আন্দোলনে নামার ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে তারা। সেখানেই তিন দাবির কথা তুলে ধরেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। জ্ঞানেশের ইস্তফা দাবি করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করারও দাবি জানিয়েছে সিজেপি। এই সূত্রেই তাদের বক্তব্য, জ্ঞানেশকে কে বা কারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে। দীপকে-দের দ্বিতীয় দাবি হল, সামনে যে সমস্ত নির্বাচন রয়েছে, সেগুলি স্থগিত রাখতে হবে। অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে যে ভোটার তালিকা ছিল, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এসআইআর-এর সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবিও জানিয়েছে তারা। এই সূত্রেই তাদের সংযোজন, এসআইআর সম্পর্কিত সমস্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে। ককরোচদের তৃতীয় এবং শেষ দাবি হল, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে তারা।
সাংবাদিক বৈঠকে দীপকে বলেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী। তাঁর এখনই পদত্যাগ করা উচিত। কারণ তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।” একই সঙ্গে দীপকে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না-করেন, তা হলে ককরোচ জনতা পার্টি সারা দেশে প্রতিবাদে নামবে। উনি পদত্যাগ না-করা পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না।” প্রসঙ্গত, জুন মাসে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ অনিয়মের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানে বসেছিল সিজেপি। তাঁদের আন্দোলনে শামিল হলেন শিক্ষাবিদ এবং সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকও। অনশনে বসেন তিনি। ককরোচদের আন্দোলনের জেরে ২৫ জুলাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। জ্ঞানেশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না-করলে ফের সেইরকম আন্দোলন শুরু করা হবে বলে বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দীপকে।
বিরোধীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একসুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। বিজেপির দিকে নিশানা করে বিরোধীদের বক্তব্য, গেরুয়া শিবির যে চুরি করেই ভোটে জিতছে, সেটা এবার প্রমাণিত হয়ে গেল। বিতর্কের মধ্যে কমিশন জানিয়েছে, “কমিশন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। কোনও বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকা অস্বাভাবিক নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। কমিশনের ৩ সদস্যের পাশাপাশি অন্য আধিকারিকরাও নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে জানাতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় ঐক্যবদ্ধভাবেই।” ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অন্ধকারে রেখে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু এবং জোশী। গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। বিতর্কের মুখে কমিশনের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিরোধী দলগুলি কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে। এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইল সিজেপি-ও।




