RK NEWZ নির্বাচনী দামামা ধীরে ধীরে বাজতে শুরু করেছে। কিন্তু তারই মধ্যে এমন এক জিনিস ঘটে গেল, যা বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা স্মরণকালে তার নির্বাচন ঘিরে দেখেনি। সিএবি নির্বাচনের আর দিন কুড়ি বাকি। যে কোনও মামলা-মোকদ্দমা, স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত সব বিষয়ে আদালতে ‘ক্যাভিয়েট’ করে রাখল সিএবি! যা আবার পাঠিয়ে দেওয়া হল ক্লাবে-ক্লাবে! অর্থাৎ, সিএবি-র অনুমোদিত সংস্থায়! চিঠির মাধ্যমে! বিভিন্ন ক্লাবে ‘ক্যাভিয়েট’ করার যে চিঠি পাঠিয়েছে সিএবি, তাতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে, সিএবিকে নোটিশ না পাঠিয়ে কোনও রকম মামলা সংস্থার বিরুদ্ধে করা যাবে না। ইচ্ছে হলে আদালতে কোনও কিছু নিয়ে স্থগিতাদেশের আবেদনও করা যাবে না। দু’টো ক্ষেত্রেই আগাম নোটিশ পাঠাতে হবে সিএবিকে। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে ময়দানে। বিভিন্ন ক্লাবে ‘ক্যাভিয়েট’ করার যে চিঠি পাঠিয়েছে সিএবি, তাতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে, সিএবিকে নোটিশ না পাঠিয়ে কোনও রকম মামলা সংস্থার বিরুদ্ধে করা যাবে না। ইচ্ছে হলে আদালতে কোনও কিছু নিয়ে স্থগিতাদেশের আবেদনও করা যাবে না। দু’টো ক্ষেত্রেই আগাম নোটিশ পাঠাতে হবে সিএবিকে। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে ময়দানে। সত্যি কথা বলতে, নির্বাচন বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় এই প্রথম হচ্ছে না। কিন্তু নির্বাচনের আগে কখনও শাসক-গোষ্ঠী সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতে ‘ক্যাভিয়েট’ করে রাখেছে মামলা-মোকদ্দমা ঘিরে, এ জিনিস ঘটেছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন সিএবির বর্তমান শাসক-গোষ্ঠীর এ হেন পদক্ষেপকে ঘিরে যথেষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ময়দানের গরিষ্ঠ অংশে। স্থানীয় ক্রিকেটমহল বলাবলি করছে, সংস্থার কি এতই দুর্দিন যে, সম্ভাব্য মামলার ভয়ে আদালতে ‘ক্যাভিয়েট’ করে রাখতে হচ্ছে?
গত কাল দুপুর থেকে একের পর এক ক্লাবে সিএবি-র ‘ক্যাভিয়েট’ সংক্রান্ত চিঠি যেতে শুরু করে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে হাতে সে চিঠি পেয়েছেন। কেউ কেউ এখনও হাতে পাননি। তবে শোনা গেল, সমস্ত ক্লাবের কাছেই সেই চিঠি যাচ্ছে। প্রথমে অনেকে হাতে সেই চিঠি পেয়ে আশ্চর্য হয়ে যান। পরে গুরুত্ব বোঝার পর, উষ্মা বাড়ে। ক্ষোভ তৈরি হয়। কেউ কেউ তো সিএবির শাসকগোষ্ঠীর কর্তাদের ফোন করেও বলে দেন, বিশ্বাস বলে কিছুই কি আর অবশিষ্ট নেই? শেষ পর্যন্ত ‘ক্যাভিয়েট’-এর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে? অনেকের মতে, এটা সিএবি-র অনুমোদিত সদস্যদের স্বাধীনতা ‘খর্ব’ করার প্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু কেন এ হেন পদক্ষেপ? আর সমস্ত ক্লাবের কাছেই তা গেল কেন? সিএবি-র একাংশের মত হল, বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে লোধা আইন মানার কথা যে বারবার বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, তারই ‘প্রতিক্রিয়া’ এ পদক্ষেপ। শাসকগোষ্ঠী নাকি আশঙ্কা করছে, সংস্থাদের কেউ সেই বিষয় নিয়ে আদালতে চলে যেতে পারে। আর ‘কোনও কিছু নিয়ে স্থগিতাদেশের আবেদন’ বলতে আসন্ন নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশের আবেদন বোঝানো হচ্ছে। স্থানীয় ক্রিকেটমহলের কেউ কেউ আবার সঙ্গে একটা বিষয় জুড়ে দিতে চান। তির্যক ভাবে বলা হল, অনুমোদিত সদস্যদের মধ্যে ‘ঝাড়াই-বাছাই’ করে ‘ক্যাভিয়েট’-এর চিঠি পাঠাতে গেলে হয়তো দেখা যেত, গরিষ্ঠ অংশের কাছে তা পাঠাতে হচ্ছে! অগত্যা, ব্যাপারটাকে ‘সর্বজনীন’ করে দেওয়া হয়েছে। ‘ক্যাভিয়েট’ বিতর্কতে সিএবির অস্বস্তি।




