Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী ‌দার্জিলিঙে ঘুরবেন হুডখোলা জিপে, সাজবেন শেরপা! ‘সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসর্ট’ নিয়ে বাংলায় হাজির কাফু

RK NEWZ ইতিমধ্যে মুম্বই পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। রবিবার সকালে পৌঁছবেন বাগডোগরা। সেখান থেকে সড়কপথে দার্জিলিং। মুম্বই পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। রবিবার সকালে পৌঁছবেন বাগডোগরা। সেখান থেকে সড়কপথে দার্জিলিং। মার্কোস ইভাঞ্জেলিসরা দে মোয়ারেস। নামটা এভাবে বললে অনেকেই হয়তো না চিনে গুগল করবেন। কারণ এই মানুষটিকে গোটা দুনিয়া একবাক্যে চেনেন কাফু নামে। তাঁকে দেখা যাবে শেরপার সাজে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই তিনি উপহার হিসাবে নেবেন ঐতিহ্যের খাদা ও কুকরি। আগামী সপ্তাহেই একাধিক কর্মসূচি নিয়ে বাংলায় আসছেন ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক। কিংবদন্তি কাফু। রবিবার রাতে দার্জিলিঙেই থাকবেন কাফু। কেন উত্তরবঙ্গে আসছেন? একশো বছরেরও বেশি পুরনো চা-বাগান সংস্থার হাত ধরে সেখানে প্রায় ৪০ একর জমির উপর তৈরি হতে চলেছে ‘সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসর্ট’। কেবল পর্যটন নয়, পাহাড়ের ফুটবল প্রতিভাকে তুলে আনতেও বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে আর্য টি কোম্পানি লিমিটেড। তাদের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে দু’টি ফুটসল দলে। দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এবং নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্স। ৬ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। সেখানেই উপস্থিত থাকবেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি কাফু।

হুডখোলা জিপে লেবাং স্টেডিয়ামে ঘোরানো হবে কাফুকে। সংস্থার ডিরেক্টর বিরাজ বনসল জানিয়েছেন, প্রায় ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে এই স্পোর্টস ও ওয়েলনেস রিসর্ট। সেখানে থাকবে ১০০-র বেশি বিলাসবহুল ঘর ও ভিলা। ফুটবল, বাস্কেটবল, টেনিস-সহ একাধিক খেলার পরিকাঠামোর পাশাপাশি থাকবে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য অল-টেরেন ভেহিকলের ব্যবস্থাও। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা ২০৩১ সাল। বিরাজের কথায়, “দার্জিলিঙের প্রায় ৪০ একর জমিতে সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বহুপ্রতীক্ষিত এই প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ৬ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার কাফুর উপস্থিতিতে করা হবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।”
তবে কেবল রিসর্টেই থেমে থাকছে না পরিকল্পনা। পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গের তরুণ ফুটবলারদের জন্য তৈরি হচ্ছে দু’টি ক্লাব ও ফুটবল অ্যাকাডেমি। দার্জিলিং ওয়ারিয়র্সে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে পাহাড়ের প্রতিভাবান ফুটবলারদের। অন্যদিকে নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্সের নজর থাকবে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদহ এবং দিনাজপুরের প্রতিভাদের দিকে। বিরাজ বলেন, “দার্জিলিং ওয়ারিয়র্সে পাহাড়ের ফুটবল প্রতিভাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্সে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাই।”

দু’টি ক্লাবের ডিরেক্টর ও সিইও অপরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শুধু স্থানীয় কোচ নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশের পরিচিত ফুটবলার এবং প্রশিক্ষকদেরও নিয়ে এসে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দু’টি ক্লাবেরই এআইএফএফ এবং আইএফএ অ্যাকাডেমি অ্যাক্রেডিটেশনের লক্ষ্য রয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৫ রাজ্য লিগে দল নামানোর পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটসল এবং সিনিয়র পুরুষ ও মহিলা ফুটসল দলও তৈরি করা হবে। অপরূপের কথায়, “স্থানীয় কোচদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পরিচিত ফুটবল ব্যক্তিত্ব ও কোচদের নিয়ে এসে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ফুটবলার তৈরি করা নয়, তাদের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের জন্য প্রস্তুত করা।”

অন্যদিকে, প্রতিভাবান ফুটবলারদের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিরাজ। তাঁর কথায়, “যে তরুণদের মধ্যে সম্ভাবনা দেখা যাবে, তাঁদের বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গ্লোবাল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দিতে চাই। ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার ফুটবলসমৃদ্ধ দেশগুলিতে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ব্যবস্থা করা হবে।” পাহাড়ের পর্যটনকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করা এবং উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকার ফুটবল প্রতিভাকে বড় মঞ্চে তুলে আনার এই উদ্যোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles