Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলার পড়ুয়াশূন্য স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক!‌ শূন্য স্কুলগুলিতেই কর্মরত হিসেবে নাম ১৯,৫০২ জন শিক্ষকের

RK NEWZ ক্লাসে নেই এক জন পড়ুয়াও— অথচ খাতায়-কলমে প্রতি মাসে বেতন গুনছেন হাজার হাজার শিক্ষক! আবার উল্টো দিকে, ৬ হাজারেরও বেশি স্কুলে শয়ে শয়ে পড়ুয়ার ভিড় সামলাতে একা ঘাম ঝরাচ্ছেন মাত্র এক জন শিক্ষক! তৃণমূলের দেড় দশকের শাসনে রাজ্যের স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামো কতটা নড়বড়ে ও বিষম হয়ে পড়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস’ (UDISE+)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে সেই খণ্ডচিত্রই সামনে এল। রিপোর্টে উঠে আসা পরিসংখ্যান রীতিমতো চোখ ছানাবড়া করার মতো। তথ্য অনুসারে, রাজ্যের ৪,১৩৩টি স্কুলে বর্তমানে এক জন পড়ুয়াও পড়ে না। অথচ অবাক করা ব্যাপার হল ওই শূন্য স্কুলগুলিতেই কর্মরত হিসেবে নাম রয়েছে ১৯,৫০২ জন শিক্ষকের! সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিস্তৃত এই বৈপরীত্য প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— যেখানে শিক্ষার্থীই নেই, সেখানে কী কাজ করছেন এই হাজার হাজার শিক্ষক? গোলমালের দায় কিছুটা তথ্যের কারিগরি ত্রুটির ওপর ঠেলেছেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। তাঁর সাফাই, ‘‘বহু বেসরকারি স্কুল পোর্টালে সঠিকভাবে তথ্য আপলোড করেনি। তারা শিক্ষকদের নামের তালিকা দিলেও শিক্ষার্থীদের হিসাব বাদ রেখে গিয়েছে। ফলে পোর্টালে ওই সব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য দেখাচ্ছে। আমরা এই সমস্যা মেটানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’’ এক দিকে যখন পড়ুয়াশূন্য স্কুলে উপচে পড়া শিক্ষকের বহর, অন্য দিকে তখন রাজ্যের ৬,৭৬৯টি বিদ্যালয়ে চরম হাহাকার। এই স্কুলগুলির প্রতিটিতে শিক্ষক বলতে রয়েছেন সাকুল্যে মাত্র এক জন! অথচ এই সব একক-শিক্ষক চালিত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে ২ লক্ষ ২৯ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া। ফলে এক জন শিক্ষকের পক্ষে বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক দায় সামলানো যে অসম্ভব, তা বলাই বাহুল্য। বিগত আমলের দুর্নীতিকে দায়ী করে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, ‘‘১৫ বছর ধরে দুর্নীতির কারণে কার্যত কোনও শিক্ষক নিয়োগই হয়নি। আমরা এখন পুরো সিস্টেমটা ঠিক করছি। আশা করছি এ বছরের শেষের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।’’ রাজ্যের মোট ৯৩,১৪৭টি বিদ্যালয়ের বিন্যাস খতিয়ে দেখলে পরিকাঠামোর চরম ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট ধরা পড়ে। রিপোর্টের হিসাব অনুযায়ী, মোট স্কুলের ৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০ জনেরও কম। অন্য দিকে, ৮.৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিষম ছবি বদলাতে অবশ্য পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। দীপক বর্মণ জানান, যে সব স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন, সেখান থেকে শিক্ষক ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়গুলিতে বদলি করার কাজ শুরু করেছে সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles