RK NEWZ সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়ে বিস্তর চাপান উতোর। এসআইআর তালিকায় নীতীশরঞ্জন দত্ত ওরফে অনু দত্তের বয়স লেখা রয়েছে সত্তর। আবার তাঁর প্যান কার্ডে জন্মসাল লেখা রয়েছে ১৯৫৭। অর্থাৎ, প্যান কার্ড বিচারে সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্টের বয়স ৬৯। অর্থাৎ, একই লোকের দু’রকম বয়স। সেই সময় প্রবল হইচই হওয়া সত্ত্বেও নীতীশরঞ্জনের প্রকৃত বয়স কোনটা, সেই তথ্য খুঁজে দেখতে ‘সচেষ্ট’ হয়নি সিএবি-র শাসকগোষ্ঠী। স্বয়ং নীতীশও বারবার বলে গিয়েছিলেন, তাঁর নাকি একটাই বয়স। অথচ সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্টের বয়স সত্তর হয়ে গেলে, লোধা আইন অনুযায়ী, সংস্থার বিদায়ী যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের মতো তিনিও পদে থাকতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে নীতীশরঞ্জনের বিষয়টা মাঝে ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। ক্রিকেটারদের বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে যখন বিপুল হৈচৈ। তারই প্রত্যক্ষ প্রভাব এসে পড়ল সিএবি-তে। কারণ, বর্তমান সিএবি প্রশাসনেই এমন একজন পদাধিকারী রয়েছেন, যাঁর দু’রকম জন্মনথি থাকার অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক অতীতে। তিনি-সিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত। বয়স বিতর্কে আদালত তদন্তের নির্দেশিকার পর ময়দান ফের বলতে শুরু করেছে, কেন একই কাজ তাহলে নীতীশের বিরুদ্ধে হবে না? কেন তাঁর সঠিক বয়স কোনটা জানতে তদন্ত হবে না? শুধু স্থানীয় ক্রিকেটমহল নয়। সিএবি-র শাসকগোষ্ঠীর একাংশেও ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে নীতীশরঞ্জনকে নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বলে দিলেন, “বাংলার ক্রিকেটারদের কেন্দ্র করে বয়স-বিতর্ক বেঁধেছে। অনু দত্ত ওরফে নীতীশরঞ্জনের ব্যাপারটা ক্রিকেট প্রশাসন কেন্দ্রিক। দু’রকম জন্মনথি থাকার অভিযোগ উঠেছে বারবার। ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে যদি তদন্ত হয়, তা হলে অনু দত্তের ক্ষেত্রেও বা হবে না কেন?”
এদিকে, বয়স-বিতর্কে ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট মিঠুন মানহাসের বিরুদ্ধে আদালতের প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশিকা প্রদান। জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট সংস্থার প্রাক্তন যুগ্ম সচিব সুদর্শন মেহতা বর্তমান ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বয়স নিয়ে কারচুপির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, জাতীয় পর্যায়ের জুনিয়র স্তরে খেলার সময় বয়স নিয়ে নাকি ‘কারচুপি’ করেছিলেন মিঠুন। সুদর্শন মেহতার অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-জুনিয়র বা জুনিয়র পর্যায়ে খেলার সময় মিঠুন নাকি দু’রকম জন্মতারিখ প্রদান করেছিলেন। জম্মুর যে স্কুলে পড়তেন মিঠুন, সেখানে তাঁর জন্মতারিখ নথিভুক্ত রয়েছে ৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৭। কিন্তু দিল্লি ক্রিকেট সংস্থার সরকারি ওয়েবসাইটে মিঠুনের জন্মতারিখ লেখা রয়েছে, ১২ অক্টোবর, ১৯৭৯। যে অভিযোগ দায়েরের পর জম্মুর স্পেশাল রেলওয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তরফে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুরো বিষয়টা নিয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য। বলা হয়েছে, আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা করতে।
এদিকে, সিএবি-হোটেল বিতর্কে সিএবির প্রাক্তন কমিটি সদস্য সুব্রত সাহার বিরুদ্ধে কিছু দিন আগে অভিযোগ করেছেন সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য মহাদেব চক্রবর্তী। সিএবিকে নিয়ে হোটেল বিতর্কে এ বার মুখ খুললেন অভিযুক্ত সুব্রত সাহা। স্বার্থের সংঘাতের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, তার জন্য তিনি তোপ দেগেছেন অভিযোগকারী মহাদেব চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য মহাদেব ১৬০ পাতার অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন সিএবির এথিক্স অফিসার এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের কাছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুব্রত ‘এএসএল প্রাইম হোটেল এলএলপি’-র অংশীদার। এই হোটলের সঙ্গে সিএবি বার বার চুক্তি করেছে এবং এই হোটেল সিএবির থেকে একাধিক বার আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে। এটা স্বার্থের সংঘাত। এই অভিযোগ নিয়ে সুব্রতবলেন, ‘‘আমার এএসএল প্রাইম হোটেলে সিএবি প্রথম অতিথি আপ্যায়নের বন্দোবস্ত করে ২০২২ সালের ২২ মে। তখন আমি সিএবিতে যুক্ত ছিলাম। অভিষেক ডালমিয়া ছিলেন সভাপতি। তখন তো স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আনা হয়নি। স্বার্থের সংঘাত থাকলে আমার হোটেলকে দায়িত্ব দেওয়া হত না। এখন অভিযোগ আনা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। আমি গত বছর থেকে সিএবির কোনও কমিটিতেও নেই।’’ সিএবি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া পাল্টা বলেন, ‘‘ওঁর বিরুদ্ধে আমি কোনও অভিযোগ করিনি। উনি শুধু শুধু আমার নাম জড়াচ্ছেন অন্যায় ভাবে। ২০২২ সালের মে মাসে আদৌ সিএবি-র সঙ্গে ওই হোটেলের কোনও লেনদেন হয়েছে কি না, আমি জানি না। আর যদি হয়েও থাকে সেটা সচিব বলতে পারবেন। আমার জানা ছিল না। আর ওয়ার্ক অর্ডার যদি হয়েও থাকে, তাতে সভাপতি সই করেন না। সই করেন সচিব এবং কোষাধ্যক্ষ। স্বার্থের সংঘাত হয়েছে কি না, কাকা-ভাইপো, অর্থাৎ তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং সচিব স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলতে পারবেন। একটা কথা বলতে পারি, সুপ্রিম কোর্ট লোধা কমিশনের মাধ্যমে যে সংবিধান তৈরি করে দিয়েছে, তার বাইরে কেউ নয়।’’



