RK NEWZ একদিকে যখন দলের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে মরিয়া বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ঠিক তখনই আর একদিকে দেখা যাচ্ছে, পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের সঙ্গে এক ফ্রেমে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার। একাধিক অনিয়মে অভিযুক্তর কেন মন্ত্রীর সঙ্গে? এই প্রশ্নেই হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় যত কাণ্ড। মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ালেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। উলুবেড়িয়া পুরসভায় বিজেপির বৈঠকে প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়ের ঘনিষ্ঠ নাসিরউদ্দিন মল্লিক ওরফে বাবুসোনাকে দেখা গিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের সঙ্গে। বিজেপির ‘তোলাবাজ অস্বস্তি’ কাটছেই না। এবার প্রকাশ্যে রাজ্যের মন্ত্রীকে প্রশ্ন বিজেপি কর্মীর। ‘কেন তোলাবাজের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী?’ অস্বস্তি বাড়িয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন বিজেপি নেতার। উলুবেড়িয়া পুরসভায় বিজেপির বৈঠকে প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়ের ঘনিষ্ঠ নাসিরউদ্দিন মল্লিক ওরফে বাবুসোনাকে দেখা গিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের সঙ্গে। এই প্রসঙ্গেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সোমনাথ সাধুখাঁ। ‘পুলক রায়ের ঘনিষ্ঠ নাসিরউদ্দিন মল্লিক ওরফে বাবুসোনা একটা তোলাবাজ। উনি একজন ঠিকাদার, নানা ধরনের দুর্নীতিতে যুক্ত। সবার জন্য বাড়ি প্রকল্পেও দুর্নীতি করেছেন ওই ঠিকাদার’, অভিযোগ বিজেপির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সোমনাথ সাধুখাঁর।
পাল্টা উমেশ রাইয়ের দাবি, ‘আমি সবাইকে চিনি না, অফিসার, কাউন্সিলর-সহ অনেকে বৈঠকে ছিলেন।’ রীতিমতো বচসায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্যের মন্ত্রী এবং ওই বিজেপি কর্মী। সোমনাথকে এও বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভিতরেই বলতে গেছিলাম। আমাকে যেভাবে বের করে দিল, কলার ধরে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাই বাইরে এসেছি।’ সোমনাথের মূল ক্ষোভ এই নিয়েই যে, একজন তোলাবাজের সঙ্গে কেন বৈঠক করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী। সোমনাথ সাধুখাঁর অভিযোগ, ‘দুর্ভাগ্যবশত একটা ভিডিও পেলাম যে পুরসভার ভিতরে বাবুসোনা বলে একটি দালাল, একজন ঠিকাদার, সবার জন্য বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি না করে যে টাকা আত্মসাৎ করেছে, সে পুরসভার ভিতরে প্রশাসনিক বৈঠকে, তাকে কার্যকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে একজন তৃণমূলের দালাল… এই বিষয়টা দেখার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে ভিতরে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে যাই। দু’নম্বরি টাকায় যে ফুলেফেঁপে উঠেছে, দুর্নীতিবাজ যে লোক, যে বিজেপির উপর অত্যাচার করেছে, তার সঙ্গে কীসের বৈঠক থাকতে পারে।’ উমেশ রাই বলছেন, ‘কে ঠিকাদার, কে কাউন্সিলর, কে দালাল, কে চেয়ারম্যান… আজকের তো ১২জন কাউন্সিলরের সঙ্গে পরিচয় হল, তাঁদের নামও জানলাম না। আমার কাজ আমি ভালভাবে জানি, বুঝি। দুর্নীতি দূর করার জন্যই নতুন সরকার এসেছে, আমি এসেছি। যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেখানে যেখানে নাগরিক পরিষেবায় দুর্নীতি হয়েছে খতিয়ে দেখব, তদন্ত হবে। যারা এভাবে ভুলভাল টাকা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাওড়া শিবপুরের ক্ষেত্রেও একইভাবে তোলাবাজদের রামরাজত্ব চলছে বলে অভিযোগ। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, একদা তৃণমূলের তোলাবাজ বালিটিকুরী কাশিপুরের বিপ্লব দের নামে একিধিবার স্থানীয় থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। তা সত্ত্বেও হেলায় ঘোরাফেরা করছে বলে অভিযোগ। বিজেপি দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভের পাহাড়। দিন কয়েক আগে বিপ্লবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেফতার না করার জন্য থানার সামনেও বিজেপি কর্মীর বিক্ষোভ দেখা গেছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি সূত্রের খবর, ৪৫-৫০ লক্ষ টাকা রফায় বিজেপি দলে ঢোকার চেষ্টা করছেন বিপ্লব দে বলেও তীব্র অভিযোগ। একদা তৃণমূলের নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে বিপ্লব দে ও তার শাকরেদরা তোলাবাজি করতেন বলে অভিযোগ। এতদিন বিপ্লবের সঙ্গে থেকে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তোলাবাজি ও দুর্নীতিমূলক কাজকর্মে যুক্তদের নামও পুলিশের খাতায় রয়েছে, তারাই বিজেপি দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ বিজেপির কর্মীদের। এমনকি অনেকে নিজেদের আরএসএস বলে দাবি করছেন, অথচ খোদ আরএসএস সদস্যরাই সেগুলোর কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না।আজ তারা নাকি বিজেপি দলের ও আরএসএস এর নাম ভাঙিয়ে দলীয় কাজকর্ম করার ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিজেপির কর্মীদের। এখানেও দুর্নীতিবাজ লোকজনের একের পর এক অনুপ্রবেশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ দলের খোদ কর্মীরাই। অগ্নিশর্মা বিজেপির কর্মীরা প্রকাশ্যেই ছুড়ছেন একাধিক প্রশ্ন?




