Sunday, August 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‌প্রতিবাদ করলেই রাষ্ট্রদ্রোহী নয়! জেন জি-‌দের আন্দোলন দেশবিরোধী নয় :‌ মোহন ভাগবত

RK NEWZ তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ন্যায্য, তারা আমাদের প্রজন্মের চেয়ে বেশি সৎ। বিস্ফোরক মোহন ভাগবত। নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের আবহে তরুণ প্রজন্মের মন বুঝতে এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে সক্রিয় হয়েছে আরএসএস। সঙ্ঘপ্রধান ভাগবত বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রায় দু’হাজার প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনপর্বে তরুণ প্রজন্মের উপর আক্রমণের অভিযোগের সত্যতা মেনে নিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় কর্মসূচিতে স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, “জেন জি দের আন্দোলন দেশবিরোধী নয়। শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো এমন হওয়া উচিত, যাতে কেউ বঞ্চিত না হন। শিক্ষার পরবর্তী প্রজন্মের অগ্রগতির জন্য। দেশের ভিত মজবুত করতে শিক্ষা জরুরি। সমাজের সঙ্গে শিক্ষার অগ্রগতি প্রয়োজন। সমাজ ব্যবস্থার উন্নতিতে জেন জি-র অবদান অপরিসীম। জেন জি-র ক্ষোভ যুক্তি সঙ্গত। ওদের সঙ্গে বিবাদ নয়, আলোচনা দরকার। উপেক্ষা না করে কথা বলতে হবে। উদ্বেগের কারণ আছে বলেই হয়তো আন্দোলন। সম্প্রতি যা ঘটেছে, সে প্রসঙ্গে বলতে গেলে তাদের (তরুণ প্রজন্ম) উদ্বেগ এবং অভিযোগ ন্যায্য। তারা যে প্রশ্ন তুলেছে, তার যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।’’ যন্তর মন্তরে ধর্না-বিক্ষোভের সময় শাসকদল বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতা আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে অভিযোগ তুলেছিলেন, আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে বিদেশি আর্থিক মদত। মুম্বইয়ের ‘ইন্ডিয়াজ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশন্‌স’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে দেশের ১০০টি শহর থেকে আসা ১৫-১৯ বছর বয়সি প্রায় ২,০০০ স্কুল-কলেজের পড়ুয়াকে নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে কড়া জবাব দেন আরএসএস প্রধান। তরুণ প্রজন্ম যদি প্রতিবাদ করে, তা হলেই তারা দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি মনে করি আজকের প্রজন্ম আমাদের প্রজন্মের চেয়ে বেশি সৎ। দেশভক্তি এবং দেশসেবার সৎ মনোভাব রয়েছে তাদের। আমি বলব না যে জেন জি আমেরিকায় বিপণন কৌশলের অঙ্গ হিসাবে বয়সভিত্তিক বিভাজন, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়)-দের প্রতিবাদ করা উচিত নয়। প্রতিবাদ হল ঐকমত্যে পৌঁছানোর একটি পথ। কিন্তু গণতন্ত্রে প্রতিবাদের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। যখন আমার বয়স আজকের জেন জ়ি-দের মতো ছিল, তখন আমাদের প্রজন্ম বড়দের কথা শুনত। কিন্তু এখন তারা প্রশ্ন করে, তারা যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর চায়। প্রকৃত ঘটনা কী, তা আমি এখনও জানি না। কিন্তু যদি চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে বলা হয়, আমি জেন জ়ির উপরেই ভরসা রাখব। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে উদ্বেগগুলি উঠে এসেছে, তার সত্যতা রয়েছে। শুধুমাত্র চাকরি-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় আমার সায় নেই। কর্মসংস্থান বলতে শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তাও বোঝায়। এ ক্ষেত্রে সমাজেরও অবদান রাখা উচিত। শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ক্ষেত্রে সমপ্রেমী ও রূপান্তরকামীরা ভারতীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওঁদের একঘরে বা সমাজচ্যুত করে রাখা অনুচিত। বরং তাঁরা যাতে একসঙ্গে থাকতে পারেন তার আইনি ব্যবস্থা করা উচিত।’’ প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঙ্ঘপ্রধান ভাগবত ক্ষুব্ধ। দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, পেলেট হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যাথিতও তিনি। অসন্তোষের আবহে তরুণ প্রজন্মের মন বুঝতে এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে সক্রিয় হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দল বিজেপি। ফেসবুক বা এক্স হ্যান্ডল ব্যাতিত ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাটের মতো ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম’-কেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‌‌
১৯৬৩। বার্মিংহ্যামের সিক্সটিন স্ট্রিট ব্যাপটিস্ট চার্চ। কথা ছিল সেখানে জড়ো হয়ে ওরা হেঁটে যাবে শহরের কেন্দ্রস্থল ডাউনটাউনে। বয়স বড়জোর ১০ কি ১২। প্রত্যেকে স্কুলপড়ুয়া। প্রতিবাদে নেমেছে ওরা। সংখ্যায় প্রায় ১০০০। মেয়রের সঙ্গে দেখা করে শহরের আইনত বৈধ বর্ণবৈষম্য ও বিভাজন নিয়ে কথা বলবে। ওদের গ্রেপ্তার করা হয়। ছাড়া হলে পরের দিন ফের সরকার-বিরোধিতায় নামে ওরা। তবে এবার আর পার পায়নি। প্রথমে মোটা হোসপাইপে জলকামান দেগে ও পরে প্রশিক্ষিত কুকুর লেলিয়ে ওদের ‘টাইট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলাফল কিন্তু ভালো হয়নি। পরিস্থিতির কাছে একপ্রকার নতিই স্বীকার করেন তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এফ কেনেডি। জনসমক্ষে কেন্দ্রীয় নাগরিক অধিকার আইনের পক্ষে সমর্থন জানান, যা পরবর্তীতে ১৯৬৪-র ঐতিহাসিক ‘সিভিল রাইটস অ্যাক্ট’ পাসের পথ প্রসারিত করে। কেনেডি স্বীকার করে নিতে কার্যত বাধ্য হন- ভুল হোক বা ঠিক, সরকারের উচিত কিশোর-যুবক-তরুণদের বক্তব্যে এক কান খাড়া রাখা। ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ’ প্রধান মোহন ভাগবত বললেন, ‘যদি অন্ধ সমর্থনের প্রশ্ন তোলেন, আমি অবশ্যই জেন জি-দের তা করব।’ সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘দ্য রোল অফ ইয়ুথ ইন ইউনাইটিং দ্য ওয়ার্ল্ড, দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ে’ শীর্ষক এক কনফারেন্সে ভারতের তরুণদের প্রতি স্নেহবৎসল ও প্রশ্রয়ী শোনায় ভাগবতকে। অকপট স্বীকারোক্তি সংঘপ্রধানের জেন জি ও আলফা-রা তাঁদের প্রজন্মের তুলনায় সৎ। দেশভাগ ও রাষ্ট্রহিতে তাদের যোগদানও স্বতঃস্ফূর্ত। তারা যদি কোনও বিষয় নিয়ে আন্দোলন করে, তা অবশ্যই শ্রুত হওয়ার দাবি রাখে। প্রতিবাদ মানেই ‘দেশবিরোধিতা’ নয়। মনে রাখতে হবে, তারাই আমাদের উত্তরসূরি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ফ্রেন্ড’ জেন জি-দের সঙ্গে তাদের বোলচালেই জলন্ত খাণ্ডবে জল ঢালতে হয়েছে। তাও আবার সেই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেই, যা কিনা আদতে জেন জি-দেরই শস্ত্র। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দেশবিরোধী’ স্লোগানে আপত্তি জানায় অনেকেই। এবার সেই বিরোধিতারই পাল্লা ভারী করে বাৎসল্য রসের অনন্য নজির গড়লেন শ্রীভাগবত। তাতে হরেদরে মান্যতা পেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর প্রতিবাদের বিষয়টিও। ‘অন্ধ সমর্থন’ কখনওই কাম্য নয়। যে কোনও প্রতিবাদ ও প্রতিবাদীর ভাষাই যুক্তির নিক্তিতে মাপা উচিত, এও সত্য। তবে আশা করি, ভাগবতের কথা মাথায় রেখে প্রতিবাদ করলেই ‘দেশবিরোধী’ দাগিয়ে দেওয়ায় ইতি টানবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles