RK NEWZ ‘গৌরী কুঞ্জ’-এর প্রবেশদ্বারে লেখা থাকত ‘কিশোর হইতে সাবধান’। গাছের সঙ্গেও নাকি কথা বলতেন প্রয়াত শিল্পী! কিশোর কুমারের সেই বাড়ির একাংশেই এখন বিরাট কোহলীর রেস্তরাঁ। মুম্বইয়ের জুহুর ধারে ‘গৌরী কুঞ্জ’। বিশাল কাঠের দরজার ও পারে ঠিক কী আছে, স্পষ্ট হয় না। তবে আগত পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সকলেই জানেন, এই বাড়ি প্রখ্যাত গায়ক, সুরকার, অভিনেতা কিশোর কুমারের। শিল্পী প্রয়াত, তবে তাঁর শিল্পকর্ম আজও জীবিত। এই বাড়ি আজও ধরে রেখেছে নানা মুহূর্তের স্মৃতি। কিশোরের পেশাগত জীবন যখন মধ্যগগনে, তখন তৈরি হয় মুম্বইয়ের এই আস্তানা। মা গৌরীদেবীর নামে তৈরি ‘গৌরী কুঞ্জ’ ছিল শিল্পীর শান্তির নীড়। একসময় এই বাড়িতেই আনাগোনা ছিল স্বনামধন্য শিল্পীদের। এখানেই অসংখ্য গানে সুরারোপ করেছেন শিল্পী। শোনা যায়, বাগানে গাছেদের সঙ্গে তিনি একান্তে কথা বলতেন। নানা নামে ডাকতেন গাছগুলিকে। ‘গৌরী কুঞ্জ’-এ তাই বৈভবের চেয়েও বেশি ছিল প্রকৃতির স্পর্শ। ‘গৌরী কুঞ্জ’ ছিল বেশ খোলামেলা। ছিল সবুজ ঘাসের কেয়ারি করা লন, উঠোন, বাগান। ছিল শিল্পীর পছন্দের ‘ভিন্টেজ কার’। কিশোর কুমারের কৌতুকবোধ ছিল অসাধারণ। ‘গৌরী কুঞ্জ’-এর প্রবেশদ্বারের বাইরে লিখে রেখেছিলেন, ‘কিশোর হইতে সাবধান’। কিশোরের এই আস্তানাতেই জন্ম হয়েছিল কালজয়ী অসংখ্য গানের। তিনি চার দেওয়ালের বদলে বরাবরই উদ্দীপিত হয়েছেন প্রকৃতির স্পর্শে। তাঁর বাগান-প্রীতির কথা নিজেই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন শিল্পী। কিশোর কুমারের ‘গৌরী কুঞ্জ’-এর একাংশে এখন তৈরি হয়েছে ক্রিকেটতারকা বিরাট কোহলীর রেস্তরাঁ। এখন আর আগের মতো নেই। সেখানে প্রবেশের অনুমতিও নেই সকলের। প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী কিশোর কুমারের জুহুর বাংলো ‘গৌরী কুঞ্জ’ কিনে ২০২২ সালে সেখানে রেস্তরাঁ তৈরি করেছেন বিরাট কোহলী এবং অনুষ্কা শর্মা, যার নাম ‘ওয়ান ৮ কমিউন’। কিশোর কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রেস্তরাঁর অন্দরসজ্জা করিয়েছেন বিরুষ্কা। এখানে প্রয়াত শিল্পীর বিভিন্ন গান বাজানো হয়। সঙ্গে রয়েছে কোহলির ক্রিকেটজীবনের ছোঁয়া। কোহলির ১৮ নম্বর জার্সির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন খাবারের দামের শেষে ১৮ রাখা হয়েছে। রেস্তঁরার নামেও রয়েছে ‘ওয়ান ৮’।
কিশোর কুমারের স্মৃতিবিজড়িত ‘গৌরী কুঞ্জ’ এখন কোহলির রেস্তরাঁ, সাজবে নতুন ধাঁচে? একজন কিংবদন্তি গায়ক। অন্যজন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা। এবার একই সূত্রে জড়িয়ে গেল কিশোর কুমার ও বিরাট কোহলির নাম। একজন কিংবদন্তি গায়ক। অন্যজন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা। এবার একই সূত্রে জড়িয়ে গেল কিশোর কুমার ও বিরাট কোহলির নাম। মুম্বইয়ের জুহুতে কিশোর কুমারের বিখ্যাত বাংলো ‘গৌরী কুঞ্জ’-এ রেস্তরাঁ খুলেছেন বিরাট কোহলি। ২০২২ সালে তিনি বাংলোটি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন। একসময় এই বাংলোয় ভেসে বেড়াত কিশোর কুমারের কণ্ঠ, সুর আর হাসির রোল। এখন সেই বাড়িরই একাংশে চলছে ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলির ‘ওয়ানএইট কমিউন’ রেস্তরাঁ। মায়ের নাম গৌরী দেবীর স্মৃতিতে বাড়িটির নাম রেখেছিলেন কিশোর কুমার। কেরিয়ারের মধ্যগগনে এই বাংলো তৈরি করলেও গৌরী কুঞ্জকে কখনও বিলাসিতা হিসাবে দেখেননি তিনি। বরং মুম্বইয়ের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে শান্তির খোঁজেই গড়ে তুলেছিলেন গৌরী কুঞ্জ। সেখানে রয়েছে খোলা উঠোন, বিস্তীর্ণ লন। এককথায় তরুচ্ছায়াঘেরা এই বাংলোতে গেলে প্রশান্তিতে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। এই বাড়িটিই ছিল কিশোর কুমারের সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা। ১৯৮৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমার বলেছিলেন, বাগানের গাছগুলিই তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। অনেক গাছের নামও তিনি নিজেই রেখেছিলেন। অবসর পেলেই তাঁদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। সেই বাড়ির গেটে ঝুলত বিখ্যাত সতর্কবার্তা, ‘বিঅ্যাওয়ার অফ কিশোর’। অর্থাৎ কিশোর থেকে সাবধান। কৌতুকপ্রিয় অথচ নিভৃতচারী কিশোরের ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ছিল সেই বোর্ড। সঙ্গীত পরিচালক, শিল্পী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের আনাগোনায় একসময় মুখর থাকত গৌরী কুঞ্জ। বহু জনপ্রিয় গানের পরিকল্পনা, আড্ডা আর সৃজনশীলতার সাক্ষী এই বাংলো। ২০২২ সালে বাড়িটির একটি অংশে চালু হয় বিরাট কোহলির ‘ওয়ানএইট কমিউন’। তবে সংস্কারের সময় পুরনো বাড়ির চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার দিকেই জোর দেওয়া হয়। ইট-কাঠ-পাথরের ব্যবহার, চারপাশের গাছগাছালি, বড় কাচের জানালা, ম্রিয়মাণ আলো– সব মিলিয়ে নতুন রূপে ফিরে আসে কিশোরের প্রিয় আশ্রয়ের আবহ। এক সময় যেখানে সৃষ্টি হয়েছে অমর সব সুর, আজ সেখানে খাদ্যরসিকদের ভিড়। তাঁরা সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন কিশোর ৯৭তম জন্মদিনেও।



