RK NEWZ হাওড়ার পিলখানায় থাকতেন আইএসআই-যোগ সন্দেহে ধৃত হামিম, মন্ত্রী উমেশকে কি ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন তিনিই? বর্ধমান থেকে ধৃত হামিম মণ্ডল এর আগে হাওড়াতে থাকতেন। পিলখানা এলাকায় একটি কাজ করতেন তিনি। মন্ত্রী উমেশ বলেন, ‘‘আমাদের দলীয় কার্যালয়ের ছবি তুলে পাঠিয়ে হামলা চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বাকিটা পুলিশ দেখছে।’’ তখন সদ্য মন্ত্রী হয়েছেন উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক উমেশ রায়। প্রতিদিন প্রচুর ফোন আসছে। তার মধ্যে একটি ফোনকল পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উমেশ। অভিযোগ, ‘পাকিস্তানি এজেন্সি’র কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। বর্ধমান থেকে জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারির পরে মন্ত্রীর সঙ্গীদের অনুমান, ওই ব্যক্তিই ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘পাকিস্তানি এজেন্সি’র কথা বলে টাকা চাওয়ার পাশাপাশি দাবি মতো অর্থ না পেলে কী হতে পারে, সেটাও মন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। বলা হয়েছিল, মন্ত্রীর পুত্রকে অপহরণ করা হবে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তদন্ত শুরু করে। বর্ধমান থেকে গ্রেফতার কি সেই সূত্র ধরেই? পরিষ্কার জানা যায়নি। তবে এটা জানা গিয়েছে, ধৃত হামিম আগে হাওড়াতেই থাকতেন। পিলখানা এলাকায় কাজ করতেন তিনি। মন্ত্রী উমেশ বলেন, ‘‘আমাদের দলীয় কার্যালয়ের ছবি তুলে পাঠিয়ে হামলা চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বাকিটা পুলিশ দেখছে।’’ অভিযোগ উঠেছে, ধৃত হামিম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি নজরে রাখতেন। এসটিএফ সূত্রে খবর, শুভেন্দু যে রাস্তা ধরে তাঁর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ফিরতেন, সেই সমস্ত রাস্তায় হামিদ রেকি করেছিলেন। তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে মনে করা হচ্ছে, জঙ্গি সংগঠনের ‘হ্যান্ডলার’দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল অভিযুক্তের। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের একটি নামকরা আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে হামিমকে। আসল নাম হামিদ কি না, সেই সন্দেহও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হামিমের বাবার নাম মনিরুদ্দিন মণ্ডল। মনিরুদ্দিনের দুই পুত্র এবং এক কন্যা। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে তাঁরা বর্ধমানের ওই আবাসনের ন’তলায় থাকছিলেন। এর আগে তাঁরা মন্তশ্বরের কুসুমগ্রামে থাকতেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। হামিমের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। শনিবার এসটিএফ এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি দেবেন।’’ তিনি জানান, ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা জিনিসগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এটা তো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। এটা আমার একার নিরাপত্তার কথা নয়।’’
বর্ধমান শহরের জনবহুল এলাকা থেকে পাক জঙ্গি যোগ সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিম মণ্ডল নামের ওই যুবক পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত। গ্রেফতারির পর শুক্রবারই হামিমকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত ধৃতের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। বর্ধমান থেকে হামিমকে কলকাতায় এসটিএফ দফতরে নিয়ে আসা হয়েছে জেরার জন্য। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হামিমের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামে। হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি রেডিমেড জামাকাপড় তৈরির কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করতেন। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’ থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমকে।স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত হামিমের বাবা মনিরুদ্দিনের মূল বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাওড়ার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানেই তাঁর ব্যবসা। ছোট থেকে হাওড়ায় অবাঙালি পাড়ায় থাকার সুবাদে হামিম এবং তাঁর বাকি দুই ভাই-বোনের কথাতেও রয়েছে হিন্দি বা উর্দুর টান।
মনিরুদ্দিনের ভাই দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমানের নবাবহাট মোড়ের কাছে রেনেসাঁ আবাসনে থাকেন। এপ্রিল মাসে হাওড়ার পাট চুকিয়ে বর্ধমানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন মনিরুদ্দিন। তখন ভাইয়ের সাহায্যে এক দালালের মাধ্যমে ওই আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সপরিবারে থাকা শুরু করেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন। ফ্ল্যাটের মালিক একতা মেহরা দিল্লিতে থাকেন। তাঁর এক ভাই এখানে ফ্ল্যাট দেখাশোনা করেন। তিনিই মনিরুদ্দিনকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেন। আবাসনের বাসিন্দারা হামিম সম্পর্কে সন্দেহজনক কিছু দেখেননি বলেই দাবি করেছেন। তবে হামিম আবাসনের অন্য যুবকদের সঙ্গে নিয়মিত আবাসনের জিমখানায় ব্যায়াম করতেন। পুলিশ সিসি ক্যামেরার বেশ কিছু ফুটেজও উদ্ধার করেছে, যেখানে হামিমকে শরীরচর্চা করতে দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর এসটিএফ জানতে পেরেছে, এর আগে নিউটাউনেও যাতায়াত ছিল হামিমের। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি এবং আরএসএস নেতার খবরাখবর সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল আইএসআই-এর । সেই উদ্দেশে একটি নেটওয়ার্ক গঠনও করা হয়ছিল। তবে আইএসআই-এর পরিকল্পনামাফিক হামিম এই বিষয়ে ঠিক কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা এখনও পুরো স্পষ্ট নয়। এসটিএফ সূত্হারে খবর, মিমের মোবাইল এবং ল্যাপটপ থেকে একাধিক রাজনীতিকের গতিবিধির তথ্য পাওয়া গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও গতিবিধির উপর নজরদারি করার চেষ্টায় ছিল হামিম, ইঙ্গিত এসটিঅফের গোয়েন্দাদের। শুভেন্দু যে রাস্তা ধরে নিউটাউনের ফ্যাটে ফিরতেন, সেই সমস্ত রাস্তায় তিনি রেকি করেছিলেন বলেও ওই সূত্রটির দাবি। শাহজাদ ভাট্টি সহ তার চক্রের একাধিক সদস্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল হামিমের, দাবি গোয়েন্দাদের।
বাংলায় এ বার মাদকসন্ত্রাসের (যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মাদক ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার হয়) ছায়া। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের অভিযানে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে জেরা করে সেই আশঙ্কাই জোরালো হয়েছে গোয়েন্দাদের মনে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক যোগ মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এসটিএফ তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল-সহ তার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।’’
হামিমের সঙ্গে সরাসরি যোগ মিলেছে পাকিস্তানের ‘কুখ্যাত’ গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভাট্টি এবং তার সঙ্গী আজমল গুজ্জরের। গত কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তান থেকে ভারতে মাদক এবং অস্ত্রপাচার, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সেই মাদকের টাকা ব্যবহার করে নাশকতা, খুনের একাধিক ঘটনার সঙ্গে যোগ মিলেছে এই শাহজ়াদের। ভারতীয় তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা পরিকল্পনায় শাহজ়াদের দোসর পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।
সেই শাহজাদ চক্রেই নাম লিখিয়েছিলেন আদতে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের যুবক হামিম মণ্ডল। কর্মসূত্রে হামিম থাকতেন হাওড়ার পিলখানা এলাকায়। সেখানে রেডিমেড জামাকাপড়ে বারকোড বসানোর কাজ ছিল হামিমের। কিন্তু ভোটের আগেই সেই কাজ ছেড়ে বর্ধমানে ফিরে যান। তারপর ফ্ল্যাট ভাড়া করেন বর্ধমান শহরের অভিজাত একটি আবাসনে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সূত্রে খবর, প্রায় বছরখানেক ধরে শাহজাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় হামিমের। শুরুটা হয় সমাজমাধ্যমে। শাহজাদ গোষ্ঠীর কাজের ধরনটাই এ রকম। এক সময় পাকিস্তানের পঞ্জাবের ‘নেটপ্রভাবী’ হিসাবে জনপ্রিয় ছিলেন শাহজাদ। কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানেও বেশ কিছু অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। সেই তালিকায় ধর্ষণও ছিল। গ্রেফতারি এড়াতে দুবাইয়ে আশ্রয় নেন। গোয়েন্দাদের দাবি, সেখানেই আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের পরিকল্পনাতেই শুরু হয় সন্ত্রাসের নতুন ছক। নেটপ্রভাবী হিসাবে শাহজাদ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো মাধ্যমে ‘৩৩৩’ নামে প্রকাশ্যে আসা শুরু করেন। সেই পেজে যাঁরা মন্তব্য করছেন বা লাইক করছেন, তাঁদের মধ্যে থেকে শুরু হয় বাছাইপর্ব। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর তাঁদের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে এবং তার পর ভিডিয়ো কলে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেন শাহজাদ এবং তাঁর শাগরেদরা। শুরু হয় তাঁদেরকে প্রলোভিত করা। টাকার প্রলোভন, নামী অপরাধী হওয়ার প্রলোভন। ভাষাগত মিলের কারণে ভারতে প্রথমে পাঞ্জাবকে টার্গেট করে এই মডিউল তৈরি করা শুরু করেন শাহজাদ। সাহায্য নেন ভারতের আরও এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। বাছাই ছেলে-মেয়েদের অনলাইনে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পাঠিয়ে বিশ্বাস বাড়ায় এরা। তার পর শুরু হয় মাদক বা অস্ত্রপাচারের কাজে যুক্ত করা। পঞ্জাব সীমান্তে ড্রোনের সাহায্যে অস্ত্র এবং মাদক এ দেশে ঢোকানোর অন্যতম মূলচক্রী শাহজ়াদ। পঞ্জাবের নির্দিষ্ট ডেরায় অস্ত্র বা মাদক পৌঁছে গেলেই সেখান থেকে সেই মাদক অন্য মডিউলের হাতে পৌঁছে দেয় শাহজ়াদের অন্য মডিউল। তারপর সেই মাদক বিক্রির টাকার একটা অংশ দিয়ে শুরু হয় নাশকতার ছক। সরাসরি অস্ত্রও ভারতের দূর নিয়ন্ত্রিত মডিউলের সদস্যদের পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন শাহজাদ। গোয়েন্দাদের দাবি, ঠিক একই ভাবে সমাজমাধ্যমে করা মন্তব্যের সূত্র ধরে শাহজ়াদের সঙ্গে আলাপ। তারপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা। তদন্তকারীদের দাবি সেই ঘনিষ্ঠতা যথেষ্ট আশঙ্কার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। শাহজ়াদ এবং তার সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা হয়েছে হামিমের। সূত্রের খবর, হাওয়ালা পথে বেশ কিছু টাকাও পেয়েছেন। রাজ্যে বেশ কিছু কাজের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। ঠিক কী দায়িত্ব বা পরিকল্পনা, সেটা নিয়ে গোয়েন্দারা মুখ না খুললেও, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল। সেই সঙ্গে রাজ্যের বেশ কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন হামিম। সেই তালিকায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। বেশ কিছু নথি এবং চ্যাট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে গোয়েন্দাদের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার চেষ্টা করছিলেন হামিম। তবে সেই নজরদারি সংক্রান্ত প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়ছে সেটা স্পষ্ট নয় গোয়েন্দাদের কাছে। তা হলে কি বড়সড় নাশকতার ছক ছিল? গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজ়াদের অপরাধের একটা নির্দিষ্ট ধরন আছে। স্থানীয় ভাবে নিযুক্ত যুবকদের দিয়ে ছোটখাটো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন পঞ্জাবে। এ ছাড়াও নামী কাউকে খুন করাও তাঁর লক্ষ্য থাকে। মুম্বইয়ে বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে লরেন্স গোষ্ঠীকে সক্রিয় ভাবে সাহায্য করেছিলেন শাহজ়াদ। ঠিক সে রকম এ রাজ্যেও কোনও পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। তবে সেই পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছিল সেটা স্পষ্ট নয়। কারণ এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে অর্থের জোগান দরকার। সঙ্গে লজিস্টিক দরকার। হামিম কত টাকা পেয়েছিলেন, মাদক বা অস্ত্র হাতে পেয়েছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত, শাহজ়াদ গোষ্ঠীর সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ অনেকটা দূর পর্যন্ত এগিয়েছে, যা আশঙ্কার। শাহজাদের মগজধোলাই করে হাইব্রিড জঙ্গি মডিউল তৈরির আরও একটি হাতিয়ার হল তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান নামে সংগঠন। এই সংগঠনকে সামনে রেখে ধর্মীয় মৌলবাদের উস্কানি দিয়ে দলে টানে এই গোষ্ঠী। হামিমের এই গোষ্ঠীতে যোগের পিছনেও রয়েছে এই তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান। ধর্মীয় ভাবাবেগকে ব্যবহার করে হামিমকে ব্যবহার করে এ রাজ্যে আরও কিছু যুবককে নিয়োগ করার পরিকল্পনা ছিল শাহজ়াদ গোষ্ঠীর, তারও কিছু প্রমাণ মিলেছে। তবে হামিম কতটা সফল হয়েছেন, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। গত সাত মাসে দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে অসমেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযানে অন্তত দু’ডজন যুবক গ্রেফতার হয়েছেন যাঁরা শাহজ়াদের হয়ে কাজ করছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের কাছে বিদেশি অস্ত্র থেকে শুরু করে মাদকও পাওয়া গিয়েছে। সবটাই নাশকতার জন্য। হামিমের গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে শাহজ়াদের মাদকসন্ত্রাস মানচিত্রে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গের নাম। কেবল হামিম না কি আরও কেউ এই চক্রে ইতিমধ্যেই সক্রিয়, এই রাজ্যে এবং তাদের পরিকল্পনা কী, সেটা না জানা পর্যন্ত আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে বলেই ইঙ্গিত এসটিএফের গোয়েন্দাদের।




