RK NEWZ প্রয়াত সুনীল আনন্দ। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। শোকস্তব্ধ বলিউড। শোকজ্ঞাপন করেছেন বলিউডের একাধিক অভিনেতা থেকে কলাকুশলী। বিদেশের মাটিতে মৃত্যু দেব আনন্দের জ্যেষ্ঠপুত্রের? শোকের আবহ বলিউডে। বিনোদনজগতে দুঃসংবাদ। দেব আনন্দের পুত্র অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সুনীল আনন্দ প্রয়াত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ৩০ জুন, ২০২৬এ ৭০ বছর পূর্ণ করেছিলেন সুনীল আনন্দ। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সেই খবর প্রকাশ্যে আনা হয়। সুনীল আনন্দের প্রয়াণে স্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন সুনীল। সেখানে ২৭ জুলাই সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। ২০১১ সালে তাঁর বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দ ওই এক হাসপাতালেই প্রয়াত হন। বাবা ছিলেন হিন্দি ফিল্মজগতের জনপ্রিয় অভিনেতা। দেব আনন্দ এবং অভিনেত্রী কল্পনা কার্তিকের পুত্র সুনীল আনন্দ। পরিবারের প্রায় সকলেই অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত। শৈশব থেকে তারকা পরিবারের বৃত্তে বড় হওয়া সুনীলের। কাকা চেতন আনন্দ এবং বিজয় আনন্দ প্রখ্যাত পরিচালক। সত্তরের দশকের শেষ ভাগ এবং আশির দশকের গোড়ায় বাবা দেব আনন্দের পরিচালিত একাধিক ছবিতে সহকারী হিসাবে কাজ করেছিলেন সুনীল। পরে ১৯৮৪ সালে দেব আনন্দ পরিচালিত ‘আনন্দ অউর আনন্দ’ ছবির মাধ্যমে অভিনেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৫৬ সালের ৩০ জুন সুইৎজারল্যান্ডের জ়ুরিখে জন্ম সুনীলের। সেখানেই স্কুল এবং কলেজের পড়াশোনা শেষ করেন। পরবর্তী কালে ওয়াশিংটনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে পড়াশোনা করেন সুনীল। বলিউডে দীর্ঘ ৪০ বছরের কেরিয়ার। কিন্তু মাত্র চারটি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে সুনীলকে। বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখেনি কোনওটিই। বাবার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় ‘আনন্দ অওর আনন্দ’। তাঁর প্রথম ছবি। এর পরিচালনা এবং প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন দেব আনন্দ স্বয়ং। ছেলের প্রথম ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। অভিনয় জগতে পা দিলেও বাবা দেব আনন্দের মতো জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হন সুনীল। ২০১১-এ দেব আনন্দের মৃত্যুর পর তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘নবকেতন ফিল্মস’-এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দেব আনন্দ ছাড়াও সুনীলের কেরিয়ারের প্রথম ছবিতে দেখা গিয়েছিল রাখি গুলজ়ার, স্মিতা পাটিল এবং রাজ বব্বরের মতো তাবড় তারকাকে। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। দু’বছর পর ১৯৮৬ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কার থিফ’ নামে একটি ছবি। অভিনয় করেছিলেন সুনীল। কিন্তু সে ছবিও বক্স অফিসে ভাল ব্যবসা করতে পারেনি। কাকা বিজয় আনন্দ পরিচালিত এবং দেব আনন্দ প্রযোজিত ‘ম্যায় তেরে লিয়ে’ ছবিতে অভিনয় করেন সুনীল। সুনীলের পাশাপাশি এই ছবিতে অভিনয় করেন রাজেন্দ্র কুমার, আশা পারেখ এবং মীনাক্ষি শেষাদ্রি। সুনীলের কেরিয়ারের তৃতীয় ছবি। ১৯৮৮-তে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। কিন্তু, এ ছবিও তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। তিন তিনটি ছবি পর পর ফ্লপ হওয়ায় অভিনয় থেকে মন উঠে যায় তাঁর। পরিচালনার কাজ শুরু করেন সুনীল। হংকঙে গিয়ে মার্শাল আর্টসের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন সুনীল। এক দিকে অভিনয়ে ব্যর্থতা। অন্য দিকে, ঐতিহ্যবাহী পরিবারের খ্যাতির চাপ! পরিচালনার কাজ শুরুর পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্বও এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। খ্যাতনামী পরিবারে বেড়ে উঠলেও ব্যক্তিগত জীবনে লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকেছেন চিরকাল। বিয়ে করেননি। চিত্রগ্রাহকদের ক্যামেরা থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন। ২০০১ সালে ‘মাস্টার’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনা শুরু করেন সুনীল। পরিচালনার পাশাপাশি এই ছবিতে অভিনয়ও করতে দেখা যায় দেব আনন্দের পুত্রকে। এই ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে কামব্যাক করেছিলেন তিনি। কিন্তু সে ছবিও মুক্তির পর বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। বলিউডে অভিনয়ে কোনও ভবিষ্যৎ নেই বুঝতে পেরে প্রযোজনা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রকেই কেরিয়ারের জন্য বেছে নিলেন সুনীল। ২০১৪ সালে ‘ভাগাটর মিক্সার’ নামে একটি হলিউড ছবি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন সুনীল। সেই ছবিতেও অভিনয় করেন। নিজস্ব একটি প্রযোজনা সংস্থাও খোলেন সুনীল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন কাজের সঙ্গেই।




