Sunday, July 5, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স!‌ মেসিকে ছুঁলেন এমবাপে!‌কানাডার পরাজয়, আজেদিনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মরক্কো

ফ্রান্স ১ (এমবাপে) প্যারাগুয়ে ০
মরক্কো ৩ (আজেদিন, রহিমি) কানাডা ০

RK NEWZ প্যারাগুয়ে প্রায় রুখে দিয়েছিল ফ্রান্সকে। বিশ্বকাপে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ল ফ্রান্স। ৭০ মিনিট পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এই বিশ্বকাপে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে এগিয়ে চলা ফ্রান্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারল না প্যারাগুয়ে। রক্ষণের একটা ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া হল। পেনাল্টি থেকে করা কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ফ্রান্স। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ফ্রান্স। দক্ষিণ আমেরিকার দেশের সফর থামল ঠিকই। তবে শারীরিক ফুটবল ও আটসাঁট রক্ষণে গতবারের রানার্সআপ দলকে চাপে রাখার পদ্ধতি দেখিয়ে দিলেন অরল্যান্ডো গিলরা। শেষ ষোলোর ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রবল গরমে সমস্যায় পড়তে হয়েছে দুই দলকেই। তার উপর চোটের জন্য ফ্রান্সের মাঝমাঠে ছিলেন না চুয়ামেনি। শুরু থেকে বলের দখল রাখলেও শারীরিক ফুটবলে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে ফরাসিরা। একাধিকবার সুযোগ তৈরি করেও কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না এমবাপেরা। আগের ম্যাচে এভাবেই জার্মানিকে টাইব্রেকারে টেনে নিয়ে গিয়ে হারিয়েছেন মিগুয়েল আলমিরনরা। এই ম্যাচেও একই পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। তার মধ্যে মাঠের মধ্যে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। ক্রমাগত ধাক্কাধাক্কি ও ফাউলে একসময় ঝামেলা বাঁধে দুই দলের মধ্যে। প্রথমার্ধে বার্কোলাদের বিচ্ছিন্ন কয়েকটি আক্রমণ ছাড়া গোলের দেখা পায়নি কোনও দলই। ৬১ মিনিটে বার্কোলাকে তুলে দেসেরি দুয়েকে নামায় ফ্রান্স। পিএসজি’র উইঙ্গার কাট করে বক্সের মধ্যে ঢোকার রাস্তাটা জানান। আর সেটা শুরু করতেই চক্রব্যূহ ভাঙল। বক্সের মধ্যে দুয়েকে ফাউল করে প্যারাগুয়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনও ভুল করেননি এমবাপে। এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ৭টা গোল হয়ে গেল তাঁর। লিওনেল মেসির সঙ্গে একই সংখ্যক গোলে থেকেও সোনালি বুটের দৌড়ে শীর্ষে। বিশ্বকাপে মোট গোল ১৯টা। শেষের দিকে প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল অবিশ্বাস্য কয়েকটি সেভ না করলে ব্যবধান আরও বাড়ত। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা রক্ষণ। আশরাফ হাকিমিরা প্যারাগুয়ের মতো এতটা ‘নোংরা’ ফুটবল খেলবেন না। কিন্তু মরক্কোর আক্রমণও সামলাতে হবে ফ্রান্সকে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে আরও কঠিন পরীক্ষা এমবাপেদের। এ বার সামনে মরক্কো। আশরফ হাকিমি, সাইবারিদের সামনে লড়াইটা আরও কঠিন হতে পারে ফ্রান্সের। কারণ, প্যারাগুয়ে না হয় ৯০ মিনিট রক্ষণই করে গেল, মরক্কো তা করবে না। এই ম্যাচের দিকে নিশ্চয় নজর ছিল মরক্কোর। এমবাপেদের ফ্রান্সকেও যে আটকানো সম্ভব তার নীল নকশা কিন্তু মরক্কোকে দিয়ে দিলেন গুস্তাভো। গুস্তাভো জানতেন, তাঁদের প্রথম কাজ এমবাপেদের আটকানো। তাই পাঁচ ডিফেন্ডারে দল সাজিয়েছিলেন। তাঁদের সামনে আরও চার ফুটবলার। আক্রমণে একা হুলিয়ান এনসিসো। এই পরিকল্পনা কাজেও লাগে। প্রথমার্ধে ফ্রান্স পাঁচটি শট নিয়েছিল। কিন্তু একটাও নিশানায় নয়। বোঝা যাচ্ছিল, জায়গা পাচ্ছেন না এমবাপেরা।

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা চলতি বিশ্বকাপেও অপ্রতিরোধ্য। আজেদিনের জোড়া গোলে কানাডার স্বপ্নের সফর শেষ হল। ৩-০ গোলে জিতে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল মরক্কো। আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় কানাডা। শক্তিশালী মরক্কোর বিরুদ্ধে ‘দ্য রেডস’ যে এমন দাপট দেখাবে, তা অনেকেই আশা করেননি। প্রেসিং ফুটবল, ঝটিকি আক্রমণ এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করে মরক্কোর রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় উত্তর আমেরিকার দলটি। তবে কোনও তাড়াহুড়ো করেনি ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’। তাদের গোলকিপার ইয়াসিন বোনো ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। চতুর্থ মিনিটেই প্রথম কর্নার পায় কানাডা। পরের মিনিটেই জনাথন ডেভিডের সামনে ম্যাচের সেরা সুযোগ আসে। ডি ফুজেরোলেসের হেড থেকে পাওয়া বল শট নিলেও বাঁচান মরক্কোর গোলকিপার। ষষ্ঠ মিনিটে টানা দু’টি কর্নার পেলেও তা ফলপ্রসূ ছিল না। ১১ মিনিটে আলি আহমেদের বল থেকে ওলুওয়াসেইয়ের জোরাল শটও বাঁ-পায়ে ঠেকিয়ে দেন বোনো। শুরুতে মরক্কো নিজেদের অর্ধেই আটকে পড়েছিল। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। বলের দখল বাড়িয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে। কিন্তু কানাডার রক্ষণ কিছুতেই ভাঙতে পারেনি। ২৯ মিনিটে মরক্কো প্রথমবার গোলমুখী শট নিলেও এলেও ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত। তবে মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইসমাইল সাইবারি। বদলি হিসেবে নামেন রহিমি। অন্যদিকে, কানাডা লং থ্রো এবং কর্নার থেকে একাধিকবার চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি। প্রথমার্ধে দুই দলের মোট ছয় ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখান রেফারি মাইকেল অলিভার। ২০ মিনিটে হালহাল, ৩৯ মিনিটে আশরাফ হাকিমি ও রিচি লারিয়া, ৪৩ মিনিটে জনাথন ডেভিড, ৪৫ মিনিটে আজেদিন উনাহি এবং অতিরিক্ত সময়ে এল খান্নুস। আক্রমণে বেশি সক্রিয় ছিল কানাডা। অনেক বেশি সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। যদিও ৬৭ শতাংশ বল দখলে ছিল মরক্কোর। আর গোলরক্ষক বোনোর বিশ্বস্ত দস্তানায় বড় বিপদ এড়িয়ে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় মরক্কো। ৫০তম মিনিটে আজেদিন ওউনাহির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। ফ্রিকিক থেকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে কানাডার জালে বল জড়ান তিনি। ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ তৈরি করেছিল ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’। আচরাফ হাকিমি সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৫৯তম মিনিটে টানা দু’টি কর্নার পেলেও মরক্কোর রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কানাডা। ৬২তম মিনিটে মরক্কো একসঙ্গে দু’টি পরিবর্তন আনে। এল খানোস ও বুয়াদ্দির পরিবর্তে মাঠে নামেন সোফিয়ান আমরাবাত ও তালবি। এর এক মিনিট পর কানাডাও পরিবর্তন এনে ওলুওয়াসেইর পরিবর্তে কাইল লারিনকে মাঠে নামায়। এরপর বারবার আক্রমণে গেলেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। ৮২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আজেদিন। মাঝমাঠ থেকে তালবির বাড়ানো পাস থেকে আক্রমণে যান ব্রাহিম দিয়াজ। নিখুঁত টোকায় বল বাড়িয়ে দেন আজেদিনের উদ্দেশে। চলতি বলে দারুণ এক শটে জাল কাঁপান। তবে তখনও নাটক বাকি। গোল শোধে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় কানাডা। কিন্তু তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেয় মরক্কোর রক্ষণ। এরপর যোগ করা সময়ে পালটা আক্রমণে তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। এবারও দিয়াজের বাড়ানো পাস থেকেই গোল করেন রহিমি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles